Skip to main content
Internet Archive's 25th Anniversary Logo

Full text of "Sanjibani Sudha Part. 1"

See other formats




রস্থ সকলের রম পল 


প্রথম ভাগ | 


পপ রত পা 


১ রামেশ্বরের অদৃষ্্ 
» দ্বামিনী। 1 ৮1. 2 
৩ পালামৌ। রর 4 


১৫২ 
রহ ৯০০৮ 


টি নি 
শ্রীবঙ্িমচন্ত্র চট্টোপাধ্যায় রী রর 
ও 


হ্রীচক্রনাথ বস্তু প্রণীত--সমালোচন। র্‌ 










সম্বলিত | 
হিবহিমচত্তর টার কর্তৃক 
| এপাশ না 
£ 
রং 4 যা চা 
বর বা ক্ঈ রা 


1২7 71739:501.0075, 


1893. 
যুল্য «* ৰাঁর আনা । 





৬ সঞ্জীবচক্দ্র চট্রোপাধ্যায়ের 


জীব্নী। 


স্পট সিসি 












প্রতিভাশালী ব্যক্তিদিগের মধ্যে অনেকেই জীবিত 
মাঁপন আপন কৃতকাধ্যের পুরস্কার প্রাপ্ত হইয়া থ চা 
লেকের ভাগ্যে ভাহা ঘটে ন1। বাহাদের কারা দেশ ঝুঁ ও 
টপযোগ্নী নহে, বরং তাহার অগ্রগামী ) তাহাদের তা রর 
11 বাহাঁরা লোঁকবঞ্জন অপেক্ষা লোৌকহিতকে শ্রেষ্ঠ 
হবেন, তাঁহীদের ভাগ্যে ও ঘটে না। ধবাহাদের প্রি 
[ক অংশ উজ্জল, অপরাংশ শ্লান, কখন ভক্মাচ্ছ্ 
"দগ্ধ, তাহাদের ভাগ্যে ও ঘটে না) কেননা অন্ধকার স্ 
প্ডির প্রকাশ পাইতে দিন লাগে। 


নন] 





ইহার মধ্যে কোন্‌ কারণে সঞ্জীব চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এ 
তাঁহার জীবিতকাঁলে, বাঙ্গাল! সাহিত্যসভায় তাহার উপযুক্ত: 
আসন প্রাপ্ত হয়েন নাই, তাহা এ জীবনী পাঠে পাঠক বুঝিতে 
পারেন। কিন্ত তিনি যে এপর্দান্ত বাগাঁলা সাহিত্য আপনাৰ 
উপঘুক্ত আসন প্রাপ্ত হয়েন নাই, তাহা বিনিই তাহার গর 
ষত্তপুর্বক পাঠ করিকেন, তিনিই স্বীকার করিবেন। কা 
দে আসন প্রাপ্ত হইবেন। আমি বা চন্দ্রনাথ বাঁবু এক এ 
কলম লিখিয়া, তাহাকে এক্ষণে সে স্থীন দিতে পাগিবস 
এমন ভরসায় আমি উপস্থিত কর্মে ব্রতী হই নাই। তরে 
আমাদের এক অতি বলবান্‌ হায় আছে। কাল, আমাদে 
সহায় । কালক্রমে ইহা অবশ্ত ঘটবে । আঁনরাঁও কালের রে 
চর; তাঁই কাঁলসাপেক্ষ কাঁধ্যের কুত্রপাঁতে এক্ষণে টি 
হুইয়াছি। 

৮ সম্ভীব চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় আনার সহোদর । আমি 
ভ্রাতৃস্সেহ বশতঃ তাঁহার .জীবনী লিখিতে প্রন্ন্ত হই নাই। 
আমি ঈশ্বর চন্দ্র পু, দীনলন্ু মিত্র, এবং প্যারি টাদ মিতের 
জন্য যাহ! করিয়াছি, আনার অগ্রজের জন্য তাহাই করিতেছি | 
তবে ভ্রাতনেহস্থলভ পক্ষপাতের পরিনাদ ভদ্ষে ভাহার গ্রন্থ 
সমালোচনার ভার আমি গ্রহণ কন্িলান নাঁ। সৌভাগা ক্রমে 
তাঁহার ও আমার পরনল্গজদ বিখ্যাভ সমালোচক বাবু চন্ছ 


পাপ ষাট পপি নাগ পপ ও ১৪ 


রি, বি 
* ইতার প্রকু্ত নাম দ্জীবন চন্ত্র। কিন্ত বংক্ষেপানুকোধে নঙ্জীৰ চৎ 


নামই ব্যবজত হঈভ। প্রকৃত নামের আশ্রয় লইয়াই এই সংগ্রহের ন 
দিয়াছি, সগাবনী আধা 


চক 


নাথ বস্থ এই ভার গ্রহণ করিয়া আমাকে ও 'পাঠকবর্গকে 
বাধিত করিয়াছেন । 

জীবনী লিখিবারও আমি উপযুক্ত পাত্র নহি। ষাঁহার 
জীবনী লেখ যাঁয়, ভাহাঁর দোষ গুণ উভয়ই কীর্তন না করিলে, 
জীবনী লোকশিক্ষার উপযোগী হয় নাজীবনী লেখার 
উদ্দেশ্য সফল হয় না। সকল মানুষেরই দোষগুণ দুই থাকে ; 
আমার অগ্রজেরও ছিল । "কিন্ত তাহার দোষ কীর্তনে আমার 
প্রবৃত্তি হইতে পারে না; আমি তাহার গুণকীর্ভন করিলে 
লোঁকে বিশ্বাস করিবে না, ত্রাতৃশ্সেহজনিত পক্ষপাতের ভিতর 
ফেলিবে। নিস্ত তাহার জীবনের ঘটনা সকল আমি ভিন্ন আর 
কেহ সবিশেষ জানে না সুতরাং আমিই লিখিতে বাধ্য | 

লিখিতে গেলে, তাহার দোষগুণের কথা কিছুই বলিব না, 
এমন প্রতিন্রা রক্ষা করা যায় না, কেননা কিছু কিছু দোষ 
গুণের কথা না বলিলে. ঘঈনাগুলি খুঝান ঘায় না। যাহা 
ঘট্টমাছিল, তাহা অস্ততঃ কিষং পরিমাণে ভাঁহার দোষে, বা 
তাহার গুণে ঘটিয়াছিল। কি দোষে কি গুণে ঘটিরাছিল, 
তাহা বলিতে হইবে । তবে যাহাতে গুণ দোষের কথা খুব 
কম বলিতে হয়, সে চেষ্টা করিব। 

অবসথী গঙ্গানন্দ চট্টোপাধ্যায় এক শ্রেণীর ফুলিয়! কুলীনদিগের 
পুর্ব পুর্ষ। তাহার বাঁস ছিল হুগলী জেলার অন্তঃপাঁতী দেশ- 
মুখো । তাহার বংশীয় রাঁমজজীবন চট্টোপাধ্যায় গঙ্গার পূর্ধ্বতীরস্থ 
কাটালপাড়' গ্রাম নিলাপী রঘুদেব ঘোষালের কন্তা বিবাহ 
করিয়াছিলেন । তাহার পুল্র রামহরি চট্টোপাধ্যায় মাতামহের 
বিষন্ন প্রাপ্ত হইয়! কাটালপাড়ায় বাস করিতে লাগিলেন। 





সেই অবধি রীমহরি চট্টোপাধ্যায়ের বংশীয় সকলেই কাটালপাড়ায় 
বাস করিতেছেন। এই ক্ষুদ্র লেখকই কেবল স্থাঁনান্তরবামী । 
সেই কাটালপাড়া, সঞ্জীবচন্দ্রের জন্ম ভূমি ।* তিনি কথিত 
বামহরি চট্টোপাধ্যায়ের প্রপোত্র ; পরমারাধ্য ৬ যাঁদবচন্দ্র চ্টো- 
পাধ্যায় মহাশয়ের পুভ্র। ১৭৫৬ শকে বৈশাখ মাসে ইহার 
জন্ম। যাহারা জ্যোতিব শাস্ত্রের আলোচনায় প্রবৃত্ত তাহাদের 
কৌনুহল নিবারণার্থ ইহ! লেখ! আঁবশ্তক, যে তাঁহার জন্মকণলে, 
তিনটা গ্রহ, অর্থাৎ রবি, চক্র, রাঁহু তুঙ্গী, এবং শুক্র স্বক্ষেত্রে। 
পক্ষান্তরে লগ্নাধিপতি ও দশমাধিপতি অস্তমিত। দেখিবেন, 
ফল মিলিয়াছে কিনা । 
. সে সময়ে গ্রাম্য প্রদেশে পাঠশালার গুরুমহাশয় শিক্ষা 
মন্দিরের দ্বার রক্ষক ছিলেন ; তীঁহার সাহাঁধ্যে সকলকেই মন্দির 
মধ্যে প্রবেশ করিতে হইত । অতএব সম্ভব চন্দ্র থাকলে 
এই বেপ্রপাঁণি দোবান্রিকের হস্তে সমর্পিত হইলেন ;: গুরু 
মহাশয় যদিও সপ্চীবচন্দ্রের বিদ্যা শিক্ষার উদ্দেশেই নিঘুক্ত 
হইয়াছিলেন, তথাপি হাঁট বাঁজান্ন করা ইত্যাদি কার্যে, 
তাহার মনৌভিনিবেশ বেনী ছিল, কেনন! তাহাতে উপরি 
লাভের সম্ভাবনা । জুতরা” ছাঁজ্র ও বিদ্যাঞ্জনে তাদুশ মনোযোগী 
ভিলেন না। লাভের ভাগট। গুরুরই গুরুতর রহিল । 





€ ভীাবনী লিখিনার অন্ররোধে, “জান্ঠ ভ্রাতাকেও কেবল সন্ভীব চস 
বলিয়। শিখিতে বাধা হইচেছি । প্রথাট। অতান্ত ইংরাজি রকমের, কিন্তু যখঃ 
আমার পরন হুদ প্ুতবর শ্রীযুক্ত বাবু রামাক্ষয় চটে!পাধ্যাক্স এই প্রথ্থ 
প্রবন্তিভ করিয়াছেন, তথন মঙ্কাজনে! যেন গতঃ স পন্থা । বিশেষ তা, 
আমারই “দাদা মহাশয়”, কিন্তু পঠিকের কাছে সপ্রীব চন্তর মাত্র। অতঃ 
দাদ! মহাশয়, দাদা মহাশয়,পুনঃ পুনঃ পাঠকের কছিকৰু ন! হইতে পারে। 





পাস শা জপ পপ 





 € ] 





এই সময়ে আমাদ্দিগের পিতা, মেদিনীপুরে ডেপুটা কালে- 
রী করিতেন। আমরা সকলে, কাটাল পাড়া হইতে তাহার 
স্পধানে নীত হইলাম। জঙ্জীবচন্ত্র মেদিনীপুরের স্কুলে 
প্রবিষ্ট হইলেন । কিছুকালের পর আবার আমাদিগকে কাটাল- 
পাড়ান্ম আদিতে হইল। এবার সঙ্ত্রীবচন্্র হুগলী কলেজে 
প্রেরিত হইলেন । ঠিনি কিছু দিন সেখানে অধ্যয়ন করিলে 
। আবার এক জন “গুরু মহাশক্র” শিতুক্ত হহলেন। আমার 
। ডাগ্যোদক়ক্রনেই এই মহাশয়ের শুভাগমন ; কেননা! আঁদাকে 
/ ক, খ, শিখিতে হইবে, কিন্তু বিপদ অনেক সময়েই সংক্রামক । 
মনজীনচক্র দাম গ্রাণ সরকারের হস্তে সমার্পত হইলেন । 
সাভাগ্য্রদে আমর। আও দশ মাসে এই হহান্মার তন্ত হইতে 
মুক্তিলাভ করি? মেদিনীপুর গেলাম | সেখানে, সঞ্জীব চণ্ছ 
'স[ণ৭ মেদিনাপুরেন ইংনেনি শ্রলে প্রবিষ্ট হইলেন । 
মেথানে তিন চারি বঙ্জুর কাউিল। স্গীনচন্দ্র অনায়াসে 
নর্সোচ্চ শ্রেনির সরদোন্ক্ ভাব্রদিগেষ মধ্যে স্থান লাত করি- 
লেন। এভখানে তান ৩খনকার প্রচছিত 100107১০৮০1 
০১1]) পরীক্ষা দিলে, আহার বিদ্যপাজ্জনের পথ স্থগম হইত । 
কিন্ত বিমীতা সেদপ বিধান করিলেন না। পরীক্ষার অন্নকাঁল 
পুর্বেই আম!দিগকে মেদিশীপুর পরিত্যাগ করিয়া আসিতে 
হইল। আবার কাটাপপাঁড়াক্জ আসিলাম। সপ্ত্ীব চন্দ্রকে 
'আঁবাঁর হুগলী কাঁলেজে প্রবিট হইতে হইল। 18010190150] 
91৮11) পরীক্ষার বিলম্ব পড়িয়। গেল। 
এই সকল ঘটনাগুলিকে গুরুতর শিক্ষাবিত্রাটি ধলিত্ে 
হইবে। আজি এ স্কুলে, কাঁল ও স্কুলে, আজি গুরু মহাশয়, 


[৬ 1] 

কালি মাষ্টার * আবার গুরু মহাশয়,আবার মাষ্টার, এরূপ শিক্ষাঁ- 
বিভ্রাট ঘটিলে কেহই স্চারুরূপে বিদ্বোপাজ্জন করিতে পারে 
না। যাঁহারা গবর্ণমেণ্টের উচ্চতর চাঁকরি করেম, তাঁহাদের 
সম্তানগণকে প্রায় সচরাঁচর এইরূপ শিক্ষাবিভ্রাটে পড়িতে 
হয়। গৃহকর্তার বিশেষ মননোঁধৌগ, অর্থব্যয়, এবং আত্মন্থথের 
লাঘব স্বীকার ব্যতীত উহার সছুপাঁয় হঈতে পারে না । 

কিন্ত ইহাঁও সকলের স্মরণ রাখা কর্তব্য, যে ছুই দিকেই 
বিষম শঙ্কট | বালক বাঁলিকাদিগের শিক্ষা 'অতিশর সতর্কতার 
কাজ। এক দিগে পুনঃ পুনঃ বিদ্যালয় পরিবর্তনে বিদ্যা 
শিক্ষার অতিশয় বিশ্ৃঙ্খলতাঁর সম্ভাবনা; আর দিগে আপনার 
শাসনে বালক না থাকিলে বালকের বিদ্যাশিক্ষায় আলম্ত বা 
কুসংসর্গ ঘটনা, খুব সম্ভব। সঙ্গীবচন্দ্র প্রথমে, প্রথমোক্ত 
বিপদে পড়িয়াছিলেন, এক্ষণে অনৃষ্টদৌষে দ্বিতীয় বিপদে ও 
তাঁহাকে পড়িতে হইল । এই সমঙ্গে পিভীদেব বিদেশে, আমা 
দিগের সর্ধজ্যেত সহোদরও চাকরি উপলক্ষে বিদেশে । মধ্যম 
সপ্ীবচন্দত্র বালক হইলেও কর্তা_- 

[,010 01101705611 (05615006550 01 *০€ 1 

কাজেই কতক গুল! বিদ্যান্বশীলনবিমুখ ক্রীড়ীকোতৃকপরায়ণ 
বালক--ঠিক বালক নহে, বয়ঃপ্রাপ্ত যুবা, আনিয়া তাহাকে 
ঘেরিয়া বদিল। 

সঞ্জীবচন্্র চিরকাল সমান উদার, গীতিপরবশ। প্রাচীন 
বয়সেও আশ্রিত অনুগত ব্যক্তি কুম্বভাঁবাপন্ন হইলেও 
তাহাদিগকে ত্যাগ করিতে পারিতেন না । কৈশোরে যে তাহা 
পারেন নাঁই, তাহা বল! বাহুল্য। কাজেই বিদ্যাচ্চার হানি 


সাপ এজ 





হইতে লাগিল। নিয় লিখিত ঘটনাটাতে তাঁহা* কিছুকালেকর 
জন্য একেবাঁরে বন্ধ হইল। 

হুগলীকালেজে পুনঃ প্রবিষ্ট হওয়ার পর প্রথম পরীক্ষার সমস 
উপন্থিত। একদিন হেড মাষ্টর গ্রেকস সাহেব আসিয়! কোন্‌ 
দিন কোন্‌ ক্লাসের পরীক্ষা হইবে, তাহা! বলিয়। দিয়া গেলেন । 
সন্ত্রীবচন্ত্র কাঁলেজ হইতে বাড়ী আগিয়া স্থির করিলেন, এ্রদুই 
দিন বাড়ী থাকিয়া ভাল করিয়! পড়া শুন! কর যাঁউক, কালেজে 
মাইব না, পরীক্ষার দিন যাইব । তাহাই করিলেন, কিন্তু ইতি- 
মধ্যে তাহাঁদিগের ক্লাসের পরীক্ষার দিন বদল হইল---অবধাঁরিত 
দিবসের পুর্কদিন পরীক্ষা! হইবে স্তির হইল। আমি সে সন্ধান 
জানিতে পারিয়া, অগ্রজকে তাহা জানাইলাম। বুঝিলাম, সে 
তিন পরীক্ষা দিতে কালেজে যাইঙেন। কিন্ত পরীক্ষার দিন, 
কাঁলেজে যাইবার সময় দেখিলাম, তিনি উপরিলিখিত বানর 
সম্প্রদায়ের মধ্যে এক জনের সঙ্গে সতরঞ্চ খেলিতেছিলেন । 
বিদ্যার মধ্যে এইটী তাঁহারা অন্ুশীধন করিত, এবং সপ্্রীব- 
চন্ত্রকে এবিদ্যা দান করিয়াছিল। অমি তখন পরীক্ষার কথাট! 
সঞ্ীবচন্ুকে স্মরণ করাইয়া দিলাম । কিন্তু বানর সম্প্রদায় 
সেখানে দলে ভারি ছিল, তাহারা বাদানুবাদ করিয়া প্রতিপন্ন 
করিল যে আমি অতিশয় ছুষ্ট বাঁলক, কেন ন! লেখ! পড়া করার 
তাঁন্‌ করিয়া থাকি, এবং কখন কখন গোইন্দাগিরি করিয়া বানর 
সম্প্রদায়ের কীর্তি কলাপ মাঁতৃদেবীর শ্রীচরণে নিবেদন করি । 
কাজেই ইহাই সম্ভব ষে আমি গল্পটা রচনা করিয়া! বলিয়াছি। 
সরলচিত্ সঞ্তজীবচন্দ্র তাহাই বিশ্বাস করিলেন । পরীক্ষা দিতে 
গেলেন না। তৎ্কালে প্রচলিত নিয়মাহুসারে কাঁজেই উচ্চতর 


| ৮ ] 





শ্রেণীতে উন্নীত হইলেন না। ই£াঁতে এমন ভগ্গোৎসাঁহ হইলেন) 
ঘে তত্ক্ষণাৎ কালেজ পরিত্যাগ করিলেন, কাহারও কথ! 
শুনিলেন ন1। 

তখন পিতাঠাক্চুর বন্ধমানে ডেপুটি কালেক্টর । খন রেল: 

নাই ? বঈমান দৃরদেশ | এই সম্বাদ বথ! কালে উহার কাছ্ছে 
পৌদ্ছিল। তাঙার বিদ্রতা অসাধারণ ছিল, তিনিএই সংবাদ 
পাইয়াই পুজকে আপনার নিকট লইয়া গেলেন। তাহা 
স্বভাব চরিভ বিলক্ষণ পব্যবেক্ষণ করিকা বুঝলেন, ষে ইভা 
তাঁড়ন1 কিয়া আবার কালেছে পাঠাইলে এখন কিছু হইবে না। 
ত্বতঃ প্রবৃত্ত হই! বিদ্যোপাঁজিন করিবে, তন কুফল 


সেআগুন এহদিন ভক্ত ছিল হঠাত তাহা আঁলাবিশিট 
হইয়া চারে দিক আলো কারপ। এই মমষে আমাদিগেক 
নর্ধাগ্রজ ৬ গ্ঞামাটব্রণ চট্েপধান্ব বাতীকপুরে চাকরি করি- 
তেন। তখন সেখানে গবর্ণমেন্টের একটা উত্তম ডিটি ইউ সুগ 
ছিল। প্রধান শিক্ষকের বিশেষ খ্যাতি ছিল। অঙ্জীবচনু 
10101 50701815101) পরীক্ষ। দিবার জগ্গ প্রথম শ্রেণীতে প্রপিষ্ঠ 
হইলেন। পরীক্ষার জন্ত তিনি এরূপ প্রস্তত হইলেন, যে 
সকলেই আঁশ করিল যে তিনি পৰীক্ষা বিশেষ যশোঁলাভ 
করিবেন । কিন্ত বিধিলিপি এই, বে পরীক্ষাম্ম তিনি চিত্রজীবন 
বিফলবন্ধ হইবেন । এবানু পরীক্ষার দিন "হাত গুরুতর 
'ীড়া হইল ; শহ্যাঁছইতে উঠিতে পারিলেন না । পরীক্ষা দেওয়! 
হইল ন। 





তাঁর পর আর অপ্রীবচন্দ্র কোন বিদ্যালয়ে 'গেলেন না| 
বিনা সাহায্যে, নিজ প্রতিভ। বলে, অল্পদিনে ইংরেজি সাহিত্যে, 
বিজ্ঞানে এবং ইতিহাসে অসাধারণ শিক্ষা লাভ করিলেন। 
কালেজে যে ফল ফলিত, ঘরে বমিয়া তাহ সমন্ত লাভ 
করিলেন । 

তথন পিতদেব বিনেচনা করিলেন যে এখন ইহাকে কর্মে 
প্রবৃত্ত করিয়া! দেওয়া আবস্তক। তিনি সঞ্জীবচন্দ্রকে বদ্ধমাঁন 
কমিশনরের আপিসে একটা সাঁমান্ত কেরানিগিরি করির। 
দিলেন। কেরানি গিরিটী সীমান্ত, কিন্তু উন্নতির স্বাশা 
অসামান্য । তাহার সঙ্গে যে যেসেআাপিসে কেরানি গিরি 
করিত, সকলেই পরে ডেপুট মাজিষ্টে,ট, হইরাছিল। ইনিও 
হইতেন, উপায়ান্তরে ভইয়াঁও ছিলেন । কিন্ত এ পথে আমি 
একটা প্রতিবন্ধক উপস্থিত করিলাম । তিনি ঘে একটী ক্ষুদ্র 
কেরাঁনিগির্ি করিতেন ইসা! আমার অসহা হইত। তখন 
নৃুহুন প্রেসিডেন্সি কলেনদ খুলিয়াছিল; তাহার %1-৮. (1255? 
তন নৃতন। আমি তাহাতে প্রাবষ্ট হইয়াছিলীম। তখন যে 
কেহ তাহাতে প্রবিষ্ট হইতে পারিত। আমি অগ্রজকে পরামশ 
দিয়া, কেরাঁনিগিরিটা পরিত্যাগ করাইয়া ল ক্লাসে প্রনিষ্ট 
করাইলাম। আঁমি শেষ পণ্যন্ত রহিলান না; ছুই বৎসর পড়ি 
চাকরি করিতে গেলাম। তিনি শেষ পধ্যন্ত রহিলেন, কিন্ত 
পড় শুনায় আর মনোবষোঁগ করিলেন না । পরীক্ষায় সফল 
বিধাতা তাহার অদৃষ্টে লিখেন নাই ; পরীক্ষায় নিক্ঘল হইলেন । 
তখন প্রতিভা ভন্মাচ্ছন্ন। 

তখন উদারচেত মহাঁস্বা, এসকল ফলাঁফল কিছুমাত্র গ্রাহ 


[১ ] 





না করিয়া, "্কাটালপাড়ায় মনোহর পুষ্পোদ্যান্ন রচনায় মনো- 
যোগ দিলেন । পিতা ঠাঁকুর মনে করিলেন, পুক্র পুশোদ্যানে 
অর্থব্যয় কর! অপেক্ষা, অর্থ উপাঁজ্জন কর! ভাল। তিনি যাহা 
মনে করিতেন, তাহ! করিতেন। তখন উইল সন সাহেব নুতন 
ইন্কমটেক্স বসাইয়াছেন। তাঁহার অখধারণ জন্য জেলায় 
জেলায় আসেদত নিযুক্ত হইতে ছিল। শিতা ঠাকুর 
সপ্্ীবচন্ত্রকে আড়াই শত টাকা বেতনের একটী আসে্সরিতে 
নিযুক্ত করাইলেন। সঞ্জীবচন্দ্র হুগলী জেলায় নিঘুক্ত হইলেন । 

'কয়েক বসব আসেসরি করা হইল। তার পর পদট' 
এনলিশ হইল। পুনশ্চ কাটালপাড়ায় পুষ্পপ্রিয়, সৌন্দর্ধ্যপ্রিয়, 
স্থথপ্রয় সধীবচন্ত্র আবার পুগ্পোদযান রচনায় মনোযোগ 
দিলেন। কিন্তু এবার একট। খড় গোলযোগ উপস্থিত হইল । 
জোষ্ঠাগ্রজ, শ্লামাচর্ণ চট্টোপাধ্যায় মহাশর অভিপ্রায় করিলেন, 
যেপিভৃদেবের দ্বারা নুতন শিএমন্দির প্রতিষ্ঠিত করাইবেন। 
তিনি সেই মনোহর পুহ্পোব্যান ভ্চিয়। দিয়!) তাভার উপর 
শিবমন্দির প্রস্তত করিলেন। ছুঃখে সপ্তীবচন্দ্রের ভম্মচ্ছাদিতা 
প্রতিভা আবার জুলিয়া উঠিল--দেই অগ্রিশিখায় জন্মিল-.. 
£1)510598] (২৮০9৮) 

এই পুস্থকখানি ইংরেজিতে লিখিত। এখনকার পাঠক 
জানেন না,যে এ জিনিষটা কি? কিন্তু একদিন এই পুস্তক হাই- 
কোর্টের জজ দিগেরও হাতে হাতে কিরিয়াছে। এই পুস্তক 
থাঁনি প্রণয়নে সগ্ভীবচন্ত্র বিশ্মপনকর পরিশ্রম করিয়াছিলেন। 
প্রত্যহ কাটালপাড়া হইতে দশটার সময়ে টেনে কলিকাভায় 
অংপিয়। রাশি রাশি প্রাচীন পুস্তক ঘ'টিয়া অভিলধিত তত 


[ ১১ ] 





সকল বাহির কয়া সংগ্রহ করিয়া লইয়া সন্ধ্যার্কীলে বাড়ী 
যাইতেন। রাত্রে তাহ] সাঁজাইয়! লিপিবদ্ধ করিয়! গ্রাতে আবার 
কলিকাতায় আসিতেন। পুস্তক খানির বিষয়, (১) বঙ্গীদ্ব 
প্রজাদিগের পূর্বতন অবস্থা (২.) ইংরেজের আমলে প্রজা- 
দিগের *্দন্বপ্ধে যে সকল লাইন হইয়াছে, তাঁহার ইতিবুত্ত ও 
ফলাফল বিচার, (৩) ১৮৫৯ সালের দশ ম।ইনের ধিচার, (9) 
প্রলাদিগের উদ্তির জন্য যাহ! কর্তব্য । 

পুস্তক খানি প্রচারিত হইব মাত্র, বড় বড় সাহেব মহলে 
বড় হুলস্থল পড়িয়া গেল। রেবিনিউ বোর্ডের সেক্রেটবী 
চাপ্মান্‌ সাহেব স্বয়ং কলিকাতা রিবিউতে ইহার সমালোচন। 
করিলেন । অনেক ইংরেজ বলিলেন, যে ইংরেজেও এমন গ্রশ্থ 
লিখিতে পারে নাই। হাইকোর্টের জজেরা ইহ! অধ্যয়ন 
করিতে লাগিলেন । ঠাকুরাণী দাদীর মোঁকদ্দমায় ১৫ জন জজ 
ফুল বেঞ্চে বসিয়া প্রজীপক্ষে বে ব্যবস্থা দিরাছিলেন, এই গ্রন্থ 
অনেক পরিমাঁণে তাহা প্রবৃত্ভিদারক । গ্রন্থথানি দেশের 
অনেক মঙ্গল সিদ্ধ করিয়া এক্ষণে লোপ পাইয়াছে, তাহার 
কারণ ১৮৫৯ শালের দশ আইন রঠ্তি হইয়াছে ) [71119 25. 
1১৮০৮ 0095০ মোকদ্দমার ব্যবস্থা রহিত হইয়াছে । এই 
দুই ইহার লক্ষ্যছিল। 

গ্রন্থখানি পাঠ করিয়া লেফটেনাণ্ট গবর্ণর সাহেব, সন্ত্রীৰ- 
চন্ত্রকে একটী ডেপুট মাজিষ্টেটি পদ্দ উপহার দ্িলেন। পত্র 
পাইয়া সঞ্জীবচন্ত্র আমাকে বলিলেন, “ইহাতে পরীক্ষা দিতে 
হয়; আমি কখন পরীক্ষা দিতে পারি না; সুতরাং এ চাকরি 
আমার থাকিবে না।” 


[ ১২ ] 








পরিশেষে; তাহাই ঘটিল, কিন্ত এক্ষণে সন্ভ্রাবচন্দ্র কষ্ণনগর্য 
নিযুক্ত হইলেন। তখনকার সমাজের ও কাবাজগতের উজ্জ্বর 
নক্ষত্র দীনবন্ধু মিত্র তখন তথায় বাস করিতন। উহাদের 
পরম্পরে আন্তরিক, অকপট বন্ধুতা ছিল; উভয়ে উভয়ের প্রণয় 
অতিশয় জুখী হইরাছিলেন। কৃঞ্চনগরের অনেক সুর্শিক্ষিত 
মহাত্মব্যক্তিগণ তাহাদদগের নিকট সমাগত হইতেন ; দীনবন্ধু 
ও সঞ্জীবচন্ত্র উভয়েই কথোপকথনে অতিশয় স্ুরসিক ছিলেন। 
লরস কথোপকথনের তরঙ্গে প্রত্যহ আনন্স্োত উচ্ছলিত 
হইত। কৃষ্ণনগর বাসকালই সঞ্জীবচন্ত্রের জীবনে সর্বাপেক্ষা 
স্বখের সময় ছিল। শরীর নীরোগ, বলি; অভিলধষিত পদ, 
প্রয়োজনীয় অর্থাগম, পিতামাতার অপরিমিত ক্সেহ; ভ্রাতগণের 
সৌন্দদ্য, পারিবারিক সুখ, এবং বহু সংসুঙ্গদ্সংসর্গসপ্তাত 
অক্ষ আনন্দপ্রবাহ। মনুষ্যে যাহা চান্স, সকলই তিনি এই 
সময়ে পাইয্াছিলেন। 

দুই বৎসর এইবূপে ক্ৃঞ্চনগঞ্জে কাটিল। তাহার পর 
গবর্ণষেন্টে তাহাকে কোন গুরুতর কার্যের তাঁর দিয়া পালাঁমো 
পাঠাইলেন। পালামৌ, তখন ব্যান্ব ভন্নুকের আবাস ভূমি, 
বন প্রদেশ মাত্র । সুপ্রিয় সষ্ভীবচন্ত্র সে বিজন বনে একা 
ভিঠিতে *পারিলেন না। শীপ্বই বিদার লইয়া আঁনিলেন। 
বিদায় কুরাইলে আবার যাইতে হইল, কিন্ত যে দিন পালামৌ। 
পৌঁছিলেন, সেই দিনই পাঁলামৌর উপর রাঁগ করিয়া দিনা 
বিদাঁয়ে চলিয়া আদিলেন। আজিকাঁর দিনে, এবং সে 
কাঁলেও এরূপ কাজ করিলে ঢাঁকরি থাকে না। কিন্ত তাহার 
চাঁকরি রহিক্বা গেল, আবার বিদায় পাইলেন। আর 


[ ১৩ ] 

পালামৌ গেপেন না। কিন্তু পালামৌয়ে যে অল্প কাল অব 
স্থিতি করিয়াছিপেন, তাহার চিহ্ন বাঙ্গালা সাহিত্যে রহিরি! 
গেল। “পালামৌ” শীর্ষক যে কর়টী মধুর প্রবন্ধ এই সংগ্রহ্থে 
সঙ্কালত হইয়াছে, তাহ সেই পালামৌ ষাত্রার ফল। প্রথমে 
. ইহ! বঙ্গদর্শনে প্রকাশিত হয়। প্রকাশ কালে, তিনি নিজের 
রচনা বলিয়া ইহ! প্রকাশ করেন নাই। “প্রমথ নাথ বস্থ” 
ইতি কান্ননিক নামের আদ্যক্ষর সহিত এর প্রবন্ধগুলি প্রকাশিত 
হইয়াছিল। আমার সম্মথে বসিয়াই তিনি এগুলি লিখিয়াছিলেন, 
অতএব এ গুলি যে তাহার রচনা তদ্বিবয়ে পাঠকের সন্দেহ 
করিবার কোন প্রয়োজন নাই । 

এবার বিদায়ের অবসাঁনে তিন যশোহরে প্রেরিত হই 
লেন। সেক্কান অস্বাস্ক্যকর, তথায় সপরিবারে পীড়িত হইয়! 
আবার বিদায় লইয়া আসিলেন। তাঁর পর অন্ন দিন আলি: 
পুরে থাকিয়া পাবনীয় প্রেরিত হইলেন । 

ডিপুটিগিরিতে ছুইটা পরীক্ষা দিতে হুয়। পরীক্ষা বিষয়ে 
তাহার যে অনৃষ্ট তাহ! বলিয়াছি। কিন্ত এবার প্রথম পরীক্ষায় 
তিনি কোনর্ধূপে উত্তীর্ণ হইয়াছিলেন। দ্বিতীয় পত্বীক্ষান়় উত্তীর্ণ 
হইতে পারিলেন না। কর্ম গেল। তাহার নিজমুখে শুনিয়াছি 
পরীক্ষার উত্তীণ হইবার মার্ক তাহার হইয়াছিল। কিন্ত 
বেঙ্গল আফিসের কোন কর্মচারী ঠিক ভুল করিয়া ইচ্ছাপূর্ববক 
তাহাত অনিষ্ট .করিয়াছিল। বড় সাহেবদিগকে একথা 
জানাইতে আমি পরামর্শ দিয়াছিলাম ; জানানও হইয়াছিল 
কিন্তু কৌন ফলোদয় হয় নাই। 

কথাটা অমুলক কি সমূলক তাহ? বলিতে পারি না 

২ 


[ ১৪ ] 





সমুলক হইলেও, গরবর্ণমেণ্টের এমন একটা গলৎ সচরাচর স্বীকার 
করা প্রত্যাশা করা যায় না। কোন কেরানী যদ কোন 
কৌশল করে, তবে সাহেবদিগের তাহা ধরিবার উপায় অল্প । 
কিন্তু গবর্ণমেন্ট এ কথার আন্দোলনে যেরূপ ব্যবহার করিলেন, 
তাহা দুই দিক রাখা রকমের! সজীবচন্ত্র [ডিপুটিগির়ি আর 
পাইলেন না। কিন্তু গবণমেণ্ট তাহাকে তুল্য বেতনের আক্ছ, 
একটা চাকরি দিলেন । বারাঁদতে তখন একজন স্পেশিয়াল 
সবরেজিষ্ট্রার থাকিত। গবর্ণমেন্ট সেই পদে সঞ্জীবচন্দ্রকে 
নিযুক্ত করিলেন । 

যখন তিনি বারাসতে তথন প্রথম সেন্সস্‌ হইল। এ কার্যের 
কর্তৃত্ব 179150607 067558] 0£ [২5515020920 এর উপরে 
অর্পিত। সেন্সসের অঙ্ক সকলঠিক ঠাক দিবার জন্ট হাজার 
কেরানী নিধুক্ত হইল । তাহাদের কাধ্যের তত্বাবধান জন্ত সজীব 
চন্দ্র নির্বাচিত ও নিযুক্ত হইলেন। 

এ কাধ্য শেষ হইলে পরে, সঞ্জীব চন্দ্র হুগলীর 350121 
১৮০-২6£150121 হইলেন। ইহাতে তিনি স্রখী হইলেন? কেন 
না তিনি বাড়ী হইতে আপিস করিতে লাগিলেন । কিছু দিন 
পরে হুগলীর লবরেজিষ্ট্রারী পদের বেতন কমান গবর্ণমেণ্টের 
'অভিপ্রায় হওয়ায়, সব্ীবচন্দ্রের বেতনের লাদ্বব না হয়, এই 
অভিপ্রায়ে তিনি বদ্ধমানে প্রেরিত 'হইলেন। 

বদ্ধমামে সঞজীবচন্ত্র খুব স্থুখে ছিলেন । এই খানে থাকিবার 
সময়েই বাঙ্গাল! সাহিত্যের সঙ্গে তাহার প্রকাশ সম্বন্ধ জন্মে ॥ 
বাল্য কাল হইতেই সঙ্গীবচন্দ্রের বাঙ্গাল। রচনায় অনুরাগ ছিল । 
কিন্ত তাহার বাল্য রচন! কখন প্রকাশিত হয় নাই, এক্ষণেও 


| ১৫] 


বিদ্যমান নাই । কিশোর বয়সে শ্রীযুক্ত কালিদাস মৈত্র সম্পাদিত 
শশধর নামক পত্রে তিনি ছুই একটা প্রবন্ধ লিখিয়াছিলেন, তাহা 
প্রশংসিতও হইয়াছিল। তাহার পর অনেক বৎসর বাঙ্গাল! 
ভাষার সঙ্গে বড় সম্বন্ধ রাখেন নাই। ১২৭৯ শালের ১লা 
বৈশাখ আমি বঙ্গদর্শন স্ষ্টি করিলাম। প্র বৎসর ভবানীপুরে 
উহ মুদ্রিত ও প্রকাশিত হইতে লাগিল। কিন্তু ইত্যবসরে 
সভীবচন্ত্র কাঁটালপাড়ার বাড়ীতে একটী ছাপাখানা স্থাপিত 
করিলেন । নামদিলেন বঙ্গদর্শন প্রেস । তাঁহার অনুরোধে 
আমি বঙ্গদর্শন ভবানীপুর হইতে উঠাইয়। আনিলাম | বঙ্গদর্শন 
প্রেসে বঙ্গদর্শনে ছাপা হইতে লাগিল । সঞীবচন্তরও বঙ্গদর্শনের 
দুই একটা প্রবন্ধ লিখিলেন। তখন আমি পরামর্শ স্থির করি- 
লাম যে আর এক থানা ক্ষুদ্রতর মাসিক পত্র বঙ্গদর্শনের সঙ্গে 
সঙ্গে প্রকাশিত হওয়া ভাল। যাহারা বঙ্গদর্শনের মুলা দিতে 
পারে না, অথবা বঙ্গদর্শন য়াহাদের পক্ষে কঠিন, তাহাদের 
উপযোগী একখানি মাস্ক পত্র প্রপ্ীর বাঞ্চনীয় বিবেচনায়, 
তাহাকে অনুরোধ করিলাম যে তাদৃশ কোন পত্রের স্বত্ব ও 
সম্পাদকত। তিনি গ্রহণ করেন। সেই পরামর্শানুসারে তিনি 
অমর গনামে মানিক পত্র প্রকাশিত করিতে লাগিলেন। পত্র 
খাঁমি অতি উৎকৃষ্ট হইয়াছিল; এবং ভীঁহাতে বিলক্ষণ লাঁভও 
হইত । এখন আবার তীহার তেজশ্বিনী প্রতিভা পুনরু- 
দীপ্ত হইয়। উঠিল। প্রায় তিনি একাই ভ্রমরের সমস্ত প্রবন্ধ 
লিখিতেন ; আর কাঁছার৪ সাঙ্াাধ্য সচরাচর গ্রহণ করিতেন 
না। এই সংগ্রহে খে ছুটী উপন্যাস দেওয়া! গেল, ভাহা! ভ্রমরে 
প্রকাশিত হইয়াছিল । 


[১৬] 


পপ পচ পা 


এক কাজ ভিনি নিরমমত অধিক দিন করিতে ভাল বাসিতেন 
না। ভ্রমর লোকাস্তরে উড়িয়া গেল। আমিও ১২৮২ শালের 
পর বঙ্গদর্শন বন্ধ করিলাম। বঙ্গদর্শন একবৎসর বন্ধ থাকিলে 
পর, তিনি আমার নিকট ইহার সত্বাধিকার চাহিয়া লইলেন। 
১২৮৪ শাল হইতে ১২৮৯ শাল পর্যযস্ত তিনিই বঙ্গদর্শনের 
সম্পাদকত। করেন। পুর্ধে আমার সম্পাকতান্ সময়ে, 
বঙ্গদর্শনে যেবপ প্রবন্ধ বাহির হইত; এখনও তাহাই হইতে 
লািল। সাহিত্য সম্বন্ধে বঙ্গদর্শনের গৌরব অক্ষুগ্র রহিল। 
ধাহারা পূর্বে বঙ্গদর্শনে লিখিতেন, এখনও তাহারা লিখিতে 
লাগিলেন । অনেক নূতন লেখক-ধাহার এক্ষণে খুব প্রসিদ্ধ 
তাহারাঁও লিখিতে লাগিলেন । পকৃষ্ণকান্তের উইল,” পরাজ- 
সিংহ, "আনন্দমঠ৮, “দেবী” তাঁর সম্পাদকতা কালেই বঙ্গ- 
পর্শনে প্রকাশিত হয়। তিনি নিজেও তাহার তেজস্বিনী 
প্রতিভার সাহায্য গ্রহণ করিয়া, দন্দাল প্রভা পটাদ”, “পালামৌ”, 
“বৈজিকতত্ব* প্রভৃত্তি প্রবন্ধ লিখিতে লাগিলেন। কিন্ত 
ঘঙক্গদর্শনের আর তেমন প্রতিপত্তি হইল' না | তাহার কারণ, ইহ। 
কখনও সময়ে প্রকাশিত হইত নাঁ। সম্পাদকের অমনোদ্ুাগে, 
এবং কাধ্যাধ্যক্ষতার কার্য্যের বিশৃঙ্ঘলতায়, বঙ্গদর্শন কখনও 
আর নিদিষ্ট সময়ে বাহির হইত না । এক মাস, দুই মাস,চানি 
মাস, ছয় মাস, একবৎসর বাকি পড়িতে লাগিল। 

বদ্ধমানেরও স্পেসিয়াল সবরেজিষ্্রীর বেতন কমিক! গেল । 
এবার সঞ্ীবচন্দ্রকে যশোহর যাইতে হইল । তাহার যাওয়ার 
পরে, বাটন নামা একজন নরাঁধম ইংরেজ কালেক্টর হইয়া 
সেখানে আদিল । যে কালেক্টর, সেই মাজিষ্রেট, সেই রেজিষ্রর | 





[ ১৭ 


ভারতে আদ্িয়া বানের একমাত্র ব্রত ছিল-_লিক্ষিত বালী 
কর্মচারীকে কিসে অপযস্থ ও অপমানিত করিবেন বা পদচ্যুত 
করাইবেন, তাহাই তাহার কাধ্য । অনেকের উপর তিনি অসম্ 
অত্যাচার করিয়াছিলেন । সঞ্জীবচন্দ্রের উপরও আরম্ভ করিলেন । 
সঞ্জীবচন্দ্র বিরক্ত হইয়া বিদায় লইয়া বাড়ী আসিলেন। 

বাড়ী আমিলে পর, আমাদ্িগের পিতৃদেব স্বর্গারোহণ 
করিলেন । এতদিন তাহার ভয়ে, সঞ্জীবচন্দ্র আপনার মনের 
ৰাসন। চাপিয়া বাখিয়াছিলেন। পিতৃদেবের স্বর্গীরোহণের 
পর আমরা ছুই জনের ছুইটা সঙ্কল্প কার্যে পরিণত করিলাম 
'আমি কাটালপাড়! ত্যাগ করিয়া! কলিকাতায় উঠিয়া আসিলাম 
সসজীবচল্ চাকরি ত্যাগ করিলেন। সঞ্জীবচন্দ্র বজদর্শন 
' ষন্ত্রালয় ও কার্য্যালয় কলিকাতায় উঠাইয়া আনিলেন। 

কিন্ত আর বঙ্গদর্শন চল! ভার হইল। বঙ্গদর্শনের কোন 
কোন কর্মচারী এমন ছিল, যে, তাহাদিগের বিশেষ দৃষ্টি রাখা 
আবশ্তক ছিল। পিতাঠাকুর মহাশয় যত দিন বর্তমান ছিলেন, 
ততদিন তিনি সে দৃষ্টি রাখিতেন। তাহার অবর্তমানে কাহার 
শন্ত কাহার গৃহে যাইতে লাগিল, তাহার ঠিক নাই। যিনি 
যাজক, তিনি উদারতা এবং চক্ষুলজ্জা বশতঃ কিছুই দেখেন 
না। টাক! কড়ি “মুশুরিবীটা” হইতে লাগিল। প্রথমে ছাপা- 
থান! গেল-_শেষে বঙ্গদর্শনের অপঘাত মৃত্যু হইল। 

তার পর সঞ্জীবচন্ত্র, কাটালপাড়ার বাড়ীতে বসিয়া রহি- 
লেন। কয়েক বৎসর কেবল বসিয়া রহিলেন। কোন মতে 
কোন কাধ্যে কেহ প্রবৃত করিতে পারিল না। সে জালাময়ী 
প্রতিভা আর জলিল না। ক্রমশঃ শরীর রোগাক্রাস্ত হইতে 


[১৮ ] 


শাঁগিল । পরিশেষে ১৮১৯ শকে বৈশাখ মাসে, জরবিকারে 
তিনি দেহত্যাগ করিলেন । 

তাহার প্রণীত গ্রস্থাবলী মধ্যে (১) মাধবী লতা, (২) কণ্ঠমাল, 
(৩) জাল প্রতাপচাদ, (৪) রামেশ্বরের অদৃষ্ট (৫) যাত্রা সমালো- 
চন, (৬) 7০792] [২৮০ এই কক়খানি পৃথক ছণপা হইয়াছে, 
অবশিষ্ট শ্রন্থগুলি প্রকাশ করিতে আমি প্রবৃভ হইলাম । “রামে- 
শ্বরের অদৃষ্ট” এক্ষণে আর পাওয়া যায় না, এজন্ত তাহাঁও এই 
সংগ্রহভুক্ত হইল। 


শ্রীবন্কিমচন্দ্র চটোপাধ্যায় । 


[ ১৯ ] 





সমালোচনা । 


পালামৌ, দামিনী ও রামেশ্বরের অদৃষ্ট | 


এক স্থান হইতে আর এক স্থানে যাইতে হহলে প্রাক 
সকলেই যতদূর সম্ভব সোজা গিয়া থাকে | যেখানে না দড়াউলে 
চলেনা কেবল সেইখানে এক এক বার দাড়ায় । কিন্ত সঞ্জীব 
বাবু তেমন করিয়া পথে চলেন না। গিনি যাইতে যাইতে 
প্রায়ই দাড়ান, একট গাছ দেখিবার জন্ত,একটা লতা দেখিবার 
জন্য, একটা পাতা দেখিবার জন্ত, একট ফুল দেখিবার জন্ত, 
একটা পাখী দেখিবার জন্য, একটা ঘাস দেখিবার জন্য প্রায়ই 
দাড়ান। কখনও বা পথ ছাড়িয়া একটু এদিকে একটু ওদফেও 
ঘাঁন। এইরপে দাড়াইয়া দাড়াইয়া, এদিক ওদিক করিয়া, এটা 
সেটা দেখিতে দেখিতে 'যাইতে ভিনি বড় ভাল বানসেন। 
শাহার কগ্মাল। ও যাধবীলতাতে তাহাকে এইরূপে চলা 
ফের করিতে দেখিতে পাই । এ প্রণালীর দোষ গুণ ছুই 
আছে। কিন্ত দোষে গুণে এই যে একটা প্রণালী, বোধ ভয়, 
বাঙ্গালা সাহিতো ইহ একা সজীব বাবুরই প্রণালী, আর 
কাহারও নয়। জঞ্জীব বাবুর যথেষ্ট নিজত্ব (০715108110) 
'আছে। 

এ প্রণালীয় দোষ কিছু আছে । যে যেশী থামিয়া খাষিয়। 


| ২* ] 





এটী সেটা তন্ন তব করিয়া দেখিতে দেখিতে যাঁয়, সকলে 
তাহার সঙ্গে যাইতে ভাল লাগে না, অনেকে তাহার সঙ্গে 
অধিক দূর যাইতে পারেও না। কিন্তু কণ্ঠমালা ও মাধবীলতাতে 
এ দৌষের পরিমাণ তই থাকুক, পালামৌতে ইহা? নাই বলি- 
লেই হয়। পালামৌও এই প্রণালীতে লিখিত ) কিন্তু উপন্যাস 
ন1 হ্য়াও পালামৌ উতৎরষ্ট উপন্তাসের শ্ায় মিষ্ট বোধ হুয়। 
পালামৌর নায় ভ্রমণকাহিনী বাঙ্গালা সাহিত্যে আর নাই। 
আমি জানি উহার সকল কথাই প্রকৃত, কোন কথাই কল্সিত্ত 
নয়। কিন্তু মিষ্টতা ও মনোহারিত্বে উহ স্থুরচিত উপন্যাসের 
লক্ষণাক্রান্ত ও সমতুল্য । 

এ প্রণালীর অর্থ- সচরাচর লোকে যাহা দেখে না, বা 
যেরূপে দেখে না, তাহাই দেখ! বাঁ সেইরপে দেখা । সচরাচর 
লোকে যাহা দেখে না বা যেরূপে দেখে না, সত্ীব তাহাই 
দেখিতে এবং সেইরূপেই দেখিতে ভাল বাসিতেন, এবং তাহা 
সেইরূপে দেখিবার শক্তিও তাহার যথেষ্ট ছিল । অপরাহ্ে 
লাতেহার পাহাড়ের “ক্রোড়ে” গিয়া বসিবার জন্য সঞ্জীব বাবু 
বড় ব্যস্ত হইতেন। সে ব্যস্ততা কেমন ? না, এইক্দপ-- 

“যে সময়ে উঠানে ছায়! পড়ে, নিত্য সে সময় কুলবধূধ় মন 
মাতিয়া উঠে, জল আনিতে যাইবে); জল আছে বলিলেও 
তাহার! জল ফেলিয়! জল আনিতে যাইবে” 

ছোট ছোট সামান্ত সামান্ত নিত্য ঘটন। বোঁধ হয় অনেকে 
এমন করিয়া! দেখে না-প্জল আছে বজিলেও তাহারা জল 
ফেলিয়া জল আনিতে যায়”-_ক্লামার্দের মেয়েদের জল আনা 
এমন করিয়! কয় জন রক্ষ্য করে? লঞ্জীব বাবু এইরূপ বিষয় সকল 


[ ২১ ] 


পবিস সিন ক. পিপি 





০ শি ১. পল পি ঈপী 





এমনি করিয়া লক্ষ্য করিতে ভাল বাসিতেন, লক্ষ্য করিতে 
পারিতেন, লক্ষ্য করিতে 'জানিতেন। এইক্প দর্শনকার্্যে 
ভাঁহার অসাধারণ আসক্তি ও অভিনিবেশ ছিল। পাঙগামৌতে 
থে নববিবাহিতা মেয়েটার কথ! আছে যাহার কথা, অতি 
সামান্ত হইলেও, পড়িতে পড়িতে চক্ষু ফাটিয়া জল বাহির হইয়। 
পড়ে--বোধ হয় সপ্তীব বাবু না লিখিলে সে মেয়েটাকে আমরা 
পাইতাঙ না । এইবূপ কত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কথা সঞ্জীব বাবু লিখিয়। 
গিয়াছেন। এমন করিয়! দেখায় যে ক্ষমতা ও প্রবৃত্তি স্থচিত 
হুপ্ন, সঞ্জীব বাবুতে তাহা ঘত দেখি অন্ত কোন বাঙ্গাল লেখকে 
তত দেখি না। এইদ্ধপে দেখা সঞ্জীব বাবুর ধাত্‌ এবং এই 
ধা সঞ্জীব ধাবুর় নিজতু। 


আর এমনি করিয়া দেখাও যেমন সম্ভীব বাবুর ধান, সঞ্জীব 
বাবুর ভাষাও তেমনি সঞ্জীব বাবুব ধাত্‌। তাহার ন্যায় সরল 
ভাষা বাঙ্গাল! সাহিত্যে.অতি কমই দেখিতে পাওয়! যাঘ। 
তাঁহার ভাষা বালকেবু। কথার সায় সহজ, সরল. মিষ্ট, কারু 
কাধ্যহীন। আর এই যে বালকের স্ঠায় ভাষা, সঞ্জীব ইহাতে 
্ঠটাহার সামান্য সামান্ত কথাও যেমন লিখিয়াছেন, তাহার বড় 
বড় কথাও তেমনি লিখিয়াছেন। সৌন্দধ্যতন্ব খুব একট! বড় 
কথা, কিন্ত পালামৌতে ঠিনি তাহার সৌন্ষাতত্ব কেমন সরল 
ভাষায় সরলভাবে বুধাইয়াছেন দেখুন ৫-- 

“আমি কখন কবির চক্ষে রূপ দেখি নাই, চিরকাল বাপকের 
মত রূপ দেখিয়া থাকি, এই জন্য আশি যাহা দেখি, তাহ! 
অন্তকে বুঝাইতে পাবি না। রূপ যে কি জিনিস, রূপের 
আঁকার কি, শরীরের কোন কোন গানে তাহার বাপা এ 


| ২২ ] 


সকল বার্তী আয়াদের বঙ্গ কবিরা বিশেষ জানেন, এই জনক 
তাহার! অঙ্গ বাছিয়া বাছিয়া বর্ন করিতে পারেন ; ভুর্ভাগ্য- 
বশতঃ আমি তাহ! পারি না। * * আমিষে প্রকারে রূপ দেখি 
নির্লজ্জ হইয়াৎ তাহ! বলিতে পারি। একবার আমি ছুই 
বৎসরের একটি শিশু গৃহে রাখিয়া! বিদেশে গিয়াছিলাম | শিশুকে 
সর্বদাই মনে হইত, তাহারন্যার রূপ আর কাহারে! দেস্থিতে 
পাইতাম না। অনেক দিনের পর একটি ছাগ শিশুতে সেই 
রূপরাশি দেখিয়া আহলাদে তাহাকে বুকে করিয়াছিলাম । 
আমার সেই চক্ষু! আমি রূপ রাঁশিকি বুঝিব? তথাপি 
যুবতীকে দেখিতে লাগিলাম। 

"বাল্যকাঁলে আমার মনে হইত যে ভূতপ্েত যে প্রকার 
নিজে দেহভীন, অন্যের দেহ আবিভাবে ধিকাশ পায়, ন্ূপও সেই 
প্রকার অন্ত দেহ অবলম্বন করিয়! প্রকাশ পার, কিন্তু গ্রভেদ 
এই যে ভূতের আশ্রয় কেবল মনুষ্য,বিশেষতঃ মানবী । কিন্ত 
বৃক্ষ. পল্লব, নদ ও নদী প্রন্ত্তি সকলেই রূপ আশ্রয় করে। 
যুবতীতে যেরূপ, লতায় সেইন্ধপ, নদীতে ও সেইরূপ, পঙ্ষীতেও 
সেইরূপ, ছাগে সেইরূপ । সুতরাং রূপ এক, তবে পাত্র ভেদ । 
আমি পাত্র দেখিয়া ভুলি না, দেহ দেখিয়া ভুলি না, ভুলি কেবল 
বূপে। সেন্খপ লতার গাক্‌ অথব1 যুবতীতে থাক আমার মনের 
চক্ষে তাহার কোন প্রভেদ দেখি না। অনেকের এই প্রকার 
রুচিখিকার মাছে ।+ 

সৌন্দর্য্যতত্বের ইহ! অতি উচ্চ কথা! এমন উচ্চ কথা এত 
সহজ সরল ও পরিক্ষার ভাষায় অতি অল্প লোকেই কনিতে 
পারে । কিন্তু ছোটি বড় সকল কথাই এইরূপে কওয়! সজীব বাবুর 


[| ২০ ) 


শ্বভাব। এই চমৎকার স্বভাব সঞ্জীব বাবুর 'নিজত্ব। এই 
স্বভাবের গুণে তাহার সকল লেখাই আবেগ্যশৃন্ত, আয়াসশৃন্য, 
ধীরগতি. শান্তভাবাপন্ন ৷ তিনি তাহার অতিশয় মন্্ম্পর্শী কথাও 
যেন “অন্যমনে মৃছুভাবে ভাবিতে ভাবিতে” লিখিয়াছেন। তিনি 
বৃদ্ধের জ্ঞান শাস্তশ্বভাব বালকের ভাষায় ও ভাঙ্গতে প্রকটিত 
করিয়। গিয়াছেন। বাঙ্গালী লেখকদিগের মধ্যে নিজত্বে তাহার 
সমান অতি অর্পই দেখিতে পাই। 

সপ্তীব বাবুর সৌন্দরধ্যতত্ব ভাল করিয়া না বুঝিলে তাহার 
লেখাও ভাল করিয়া বুঝা যায় না-_ভাল করিয়া সম্ভোগ কর 
যায় না। কারণ তাহার সৌন্দধ্যতত্ব কেবলমাত্র তত্ব নয়, 
তাহার সৌন্দর্য্য দেখিবার রীতি বা প্রণালীও বটে। এই জন্যই 
তিনি পালামৌর সেই বাইজীতে গেঙ্গোথালির মোহানার সেই 
পাখধীটির রূপরাশি দেখিয়াছিলেন, এই জন্তই তিনি কোল- 
কামিনীদিগের দেহে “কোলাহল” দেখিয়াছিলেন, এবং এইজন্তই 
যখন সমুদ্র শান্ত হইয়া! ফুঁদু মু ডাকি, তথন তাহার বামেশ্বর 
ভাঁবিত তাহার আনন্দছুলাল কথ। কহিতেছে ; এবং যখন সেই 
সমুদ্রে অস্পষ্টলক্ষ্য একটি তরঙ্গ উচু হইয়া নাচিত, তখন তাহার 
রামেশ্বর মনে করিত, তাহার আনন্দদুলাল নাচিতেছে। 
সৌন্দর্যের এই সুবিস্তৃত প্রসারিত জাতিভেদশৃন্ত সব্বসমন্বয়- 
কারী ভাব বড়ই মধুর, বড়ই উদার । এই ভাব সজীব তাহার 
সেই অতুলনীয় মৃছ মধুর তাবে ব্যক্ত করিয়া গিয়াছেন। 

কঠমাল! ও মাধবীলত! ষে প্রণালীতে লিখিত, দামিনী ও 
রামেশ্বরের অদৃষ্ট লে প্রণালীতে লিখিত নর । শেষোক্ত ছুইটাই 
অতি ক্ষুর্র গল্প, অতএব কোনটাতেই কঠমালা বা মাধবীলতার, 


[এ 


পথসাপ ০০৯ ৯ ক এপি ৩ পাপা কলা ক কপ উএপাক ত ০ পাপ পা পপ ০ শপ পপ সা 


প্রণালী থাটিত নী। এই ছুইটী ক্ষুদ্র গল্পে সঞ্জীব বাবুর বেশ 
ত্বরিতগত্তি দেখ! ধায়, স্তনে স্থানে কাহার স্বাভাবিক মুদছুতার 
পরিবর্তে বিলক্ষণ আবেগ গ*উদ্দামভাবও পক্জিলক্ষিত হয় । 
বামেশখ্বরে ও দামিনীর পাগলীতে এই খর উদ্দাম ভাব বেশ পরি- 
স্কুট। সঙ্লীব বাবু পাগল পাগ্লী গড়িতে বড় ভাল বাসিতেন । 
মাধবীলতান্ পিতম পাগলা আছে, কিন্তু পিতমের পাগলামী 
দেখিতে দেখিতে কিছু শ্রান্তি বোধ হয়। রামেশ্বরের অদৃষ্টে 
শ্ব়ং রামেশ্বরকে একবার পাগলপ্রায় দেখি । সে পাগলামী 
ক্ষণকালের নিমিত্ত এবং দেখিতেও অতি উৎ্ধম, কারণ উহা 
উতৎকট দাম্পভা প্রেমের বিকট প্রতিধ্বনি | দ্ামিনীতেও এক 
পাগলী দেখিতে পাই । সে বড় ব্ষিম পাগলী । পতিশোকে 
সে আপনি পাগলিনী । তাই যে পতিপ্রাণ! পতির জন্য মরে 
তাহার পতিকে সে গল। টিপিয়া মারিয়া তাহারই সঙ্গে 
পরলোকে পাঠাইয় দ্রেয় 


শ্রীচন্ররনাথ বস্তু । 











পিসপপীন। এ পাপ পাপ পালি সী ক পি শি সাত পে পাশাপাশি শী 


রামেশ্বরের অদৃষ্ট। 





প্রথম পরিচ্ছেদ । 


বাষেশবর প্ম্মার পঙ্চিশ বসন বয়সে পিতুবিষ্বোগ হইল। 
দভনি পিতাকে ড় ভাল বাসিতেন । বামেশ্বরের পিতা যাহা 
দকছু রাখিয়া গিরাছিলেন তাহা সমুদয় রামেশ্বর শ্রাদ্ধে ব্যন্স 
করিলেন । পিতার স্বর্গার্থে যে যাহা পরামরশ দিল, তত্ক্ষণাৎ 
তাহাই করিলেন । ক্রিয়া সমাপ্ত হইল । আত্মীয় কুটুম্বগণ 
স্ব ন্বগৃহে গেল। ব্বামেখর তখন জানিলেন যে তাহার আর 
কিছুই নাই। পরিবারের ভরণপোষণ করা কঠিন হইল। 
হাঁহার ঘরে, যুবতী ভাধ্য। পাব্বতী; এবং তিন বংসরের পুজ্ 
আনন্দ ছুলাল। এক দ্বিবস সকলেই উপবাসী রহিল। শিশ্ 
আহারের নিমিত্ত ক্রন্দন করিতে লাগিল) সম্তীনের ক্রন্দন 





সক শক জা পা আপাত ক বট আপা” গা 


দেখিয়া পার্ধতীও কীদিতে লাগিলেন। রামেশ্বর কিছু খাদ্য 
সংগ্রহের জন্ত গিয়াছিলেন, নিক্ষল হইয়া রিক্তহত্তে আসিয়! 
দেখিলেন উভয়ে তাহার প্রতীক্ষায় ঘারে বসিয়া আছে। 
বারের কিঞ্চিন্‌রে ব্রা্ষণভোজনের শুফপত্র, ভাঙ্গা হাড়ি 
প্রস্থতির স্তূপমধ্যে গ্রাম্য কুকুরের আহার অন্বেষণ করিতেছে, 
শিশু একাগ্রচিত্তে তাহাই দেখিতেছে।  বাঁমেশ্বরকে দেখিয়া! 
শিশু দৌড়িয়া আসিল; জিজ্ঞাস করিল “বাবা! আমাল 
জন্তে কি এনেস ?” রামেশ্বরের চক্ষু ছল ছল করিতে লাগিল; 
দেখিয়া পার্ধতীর চক্ষু জলে পুরিল; শিশুর মুখপানে চাহিতে 
সে জল উচ্ছলিয়! পড়িল; তখনই আবার মুখ তুলিয়া স্বামীর 
মুখপানে চাঁহিতে, উভয়েই কীদিয়৷ উঠিলেন; বালক, উভ্তয়ের 
সুখপ্রতি ছুই একবার চাহিয়া শেষ কীদিয়! উঠিল। তিন 
জনে একত্রে অনেকক্ষণ কাদিল। কাদিতে কাদিতে শিশু 
নিদ্রা গেল। এই সময় প্রাপন সন্ধা! হইয়াছে; রামেশ্বর 
উঠিলেন, দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হইগনা চলিলেন'। একগ্ানে দেখিলেন, 
বালজ্যোতনার আলোকে এক দীর্ধিকাতীরে কতকগুলি অল্প 
বয়স্ক বাঁবু, তেড়িকাটা।, কোট গায়ে, কোমুদীদীপ স্বচ্ছবারির 
উপর পদ্নপা নিক্ষেপ করিয়া “ছিনিমিনি” খেলাইতেছেন। 
বামেখর তাহাদের নিকট গিয়া, যোড়হাত করিয়া) কদ্ধকণ্ে 
চারিটি পয়সা ঘান্র! করিলেন। বাবুর! উচ্চ হান্ত করিলেন; 
একজন জিজ্ঞাসা করিলেন, “বেটা, আমাদের পয়লা তোরে 
দিতে গেলাম কেন ?” রামেশ্বর কাতর হইয়। বলিলেন, “আমি 
অন্লাভাবে সপরিবারে মার! যাই, আপনার পয়লা! জলে ফেলিয়! 
দিতেছেন।* বাবুর বলিলেন, “আমাদের পয়সা আমর! 


[. ২৯ ] 








জলে ফেলিব, তোর কিরে শ্তালা ?” এই বলিয়া ঘুষ! ভুলিয়া, 
একজন রাষেশ্বরকে মারিতে গেলেন। রামেশ্বর, শরবিদ্ধ 
সিংহের ন্যায় ধীরে ধীরে চলিম্বা গেলেন কিয়দ্দরে গিয়া মনে 
ভাবিলেন, “এই বানর গুলাকে এক একটা চড় মারিয়া পয়স। 
কাড়বা লইতে পারিতাম--কেন লইলাম না?” ক্ষুধার জালা 
রামেশ্ববের পন্মাধন্ম ফোধ লুপ্ত হইতেছিল । 

রামেধর গ্রাধাগ্তবে গেলেন। তগায় এক বাটার পারে 
দাড়াউলেন। গুহমধো সকলে নিদ্রিত বোঁশ হইল; আনন্দ" 
ছুলালের মেহ ক্ষুধাপাড়িত কাতর, শৈশবস্গুকুমার মুখ মনে 
পড়ল; পান্ধতীর রোদন মনে পড়িল; ক্রাড়াশীল বাবুদিগের 
নিক্ষয় ব্য'হার মনে পাড়ল। তাবিলেন, আমি একা ধন্দপথে 
যাইব কেন? তখন রামেখর, এক গৃহস্থ্ের গৃহ্প্রবেশ করিয়া 
পেটব হইতে পরগনা টুর করিলেন । পেটরায় তিনট টাঁক। আর 
আট আশা পন্পলা ।ছল; রামেশর কেবল সেই জাট আনা পয়সা 
লইয়া আলিলেন। গৃহষ্টের! তাহা কেহই জ!নিতে পারিল না । 

রামেখর আসতে শ্বাদিতে ভাঁবিলেন, পয়সা হইল, চাউল 
লবণ কোথা পাই? 'জহএব তাহ! সংগ্রহ করিবার নিমিত্ত 
আর এক গ্রামে গেলেন। নিকটস্থ পাঁচ সাত গ্রামের মধ্যে 
কেবল সেই গ্রামে একখানি দোকান ছিল। রামেশ্বর তথায় 
উপস্থিত হুয়া দোকানিকে পুনঃ পুনঃ ডাকিলেন ; দোকানী 
স্থানান্তরে ছিল, অতএব কোন উত্তর পাইলেন না । অগত্যা 
ঙিনি দোকানের দ্বার মোচন করিয়া প্রবেশ করিলেন এবং 
রাত্রোপযোপী চাউল লবণ দাঁল সংগ্রহ করিয়া বস্ত্রাগ্রে তাহ! 
সচবন্ধ করিলেন) তাঁহার উচিত মূল্য সেই স্থানে রাঁথেয়। 


[ ৩* | 





বহির্গত হইলেন। পথে অত্যন্ত ভয় হইতে লাগিল কিন্ত কোন 
বিগ্ল ঘটিল না) বাটা আঁসিয়। পৌছিলেন। পার্কতী পাক 
করিল; রামের ও শি খাইল; পাব্বতী খাইল না। অল্প 
সামী আলিয়াছে--পাব্বতী খাইলে পরদিনের জন্ত কিছু থাকে 
না। পার্পতী উপবাস করিয়া, গোপনে নিজাংশ স্বামী 
পুজের জন্য হ(ড়িতে তুলিয়া রাখিল। রামেশ্বর তাহা জানিছে 
পারিলেন না। 

পরদিবপ রামেশ্বব পারতীর সহিত পরামশ করিয়া, নিজ গ্রাম 
ত্যাগ করিয়া ভা তপুর গ্রামে সপরিবারে গেলেন । এই গ্রাম 
তাগাঁর জন্মুমি হইতে ছুই দিবসের পথ দূব। এখানে তাহাকে 
কেহই জানিবার সন্তাবন1 ছিল না, অতএব ভাবলেন এখানে 
উগ্রন্ষত্রী বলিখা পরিচয় দিয়া অনায়ামে ইতর লোকের ন্যায় 
শারীরিক শ্রমন্বারা পরিবার প্রতিপালন করিতে পারিবেন । 
পার্বতী বলিলেন, তিনি কোন ভদ্র সংসারে দাসীরন্তি করিবেন। 
এই পরামর্শ করিয়৷ তথায় ভদ্রাপন বিক্রয়লব্ধ অর্থে একটি কুটার 
নিম্মাণ করিয়! রহিলেন ) কিন্তু অপরিচিত বলিয়৷ রামেশ্বরের 
অদৃষ্টে দাসত্বও ঘটিল না। যেখানেই খান সেই খাঁনেই 
জামিনের প্রস্তাব হয়। অপরিচিতের জামিন কে হইবে? 
নিজগৃহবিক্রয়ে যে কয়েকটি টাকা আনিয়াছিলেন, তাহ! প্রায় 
শেষ হইয়া? আদিল। এই অবস্থায় রামেখ্বর একদিন গ্রামের 
নায়েবের নিকট আপন দৈন্ত জানাইয়া একটি পিয়ার্দাগরি 
কর্ধের প্রার্থনা করিলেন । নায়েব বলিলেন, “সে কর্ম এক্ষণে 
থাঁলি নাই, কিন্ত আপাততঃ উপার্জনের এক উপায় আছে। 
তোখার স্ত্রী আমার অন্দরে গত কল্য আসিয়াছিবেন, আঙগি 


[.৩১ ] 


৬ সিপিবি পা পা শর আট আশ লী ০ পা পিপল পক পাপ উপ 





দশদিন 


তাহাকে সেকথা বলিয়াছিলাম; কিন্তু সে তাহা শুনিয়! বড় 
রাঁগিয়া উঠিল। তুমিও রাঁজি হইবে বোধ হয় না। সেসব 
কাজ তোম। হইতে হইবে না। অতএব আর তাহা তোমাকে 


বল বৃথা ।”% 
রামেশ্বর এই কথা শুনয়! বলিলেন, “পেটের জালায় আমার 


অপাঁধ্য কিছুই নাই। স্ত্রীলোকের মতামত সকল বিষয়েই 
অগ্রান্থঃ অতএব আমাকে বলুন, আমি তাহা বিবেচন! 
করিব 1৮ | 

নায়েব বলিলেন "তুমি শুনিয়া থাকিবে প্রান ছুইমাস হইল, 
এই গ্রামে একট স্ত্রীহত্য! হইয়াছিল, কিন্তু কে হত্যা করিয়াছিল 
তাহা স্থির করিতে পারা যায় নাই। দারগা! অনেক অনুসন্ধান 
করিয়াছিলেন, আমিও বিশেষ যন্র পাইয়ছিলাম, কিন্ত কৃতকার্য 
হইতে পারি নাই! হত্যাকারীর স্থির না হওয়ায় মাজস্ট্রেট 
সাহেব রুষ্ট হইয়া আযাদগের অমনোধোগ অনুভব করিয়। 
জমীদারের দণ্ড করিপ্ান্ছিলেন। সম্প্রতি এই শ্রামে আংার 
একটি চুরি হইয়! গিয়াছে; তাঁহারও এপধ্যন্ত কোন উপাক় 
হয়নাই । দারগ! একটা লোককে সন্দেহ করিয়াছেন, কিন্ত 
সে পলাইয়াছে। তাহার উদ্দেশ এপব্যন্ত পাওয়া যাগ নাই, 
শীপ্ব যে পাওয়! যাইবে এমত৪ সন্তাবনা নাই। শীঘ্র একজন 
অপরাধী মাজিষ্ট্রেটে সাহেবের নিকট ন পাঠাইলে আবার 
জমীদারের দণ্ড হইবে, অথব। হয় ত তাহার জমীদারী যাইবে, 
অতএব আপামি সাঁজাইয়! একজনকে পাঠান নিতান্ত আবশ্তক 
হইয়াছে । যে আপামি সাঁজিবে তাহার বিশেষ ভয় নাই। 
সামান্ত পানপাত্র চুরি হইয়াছে, ইহার নিমিত্ত উদ্ধদীম! একুমাস 


[ ৬২ ] 





কারাবদ্ধ থাকিতে হইবে, অধিক নহে। কর্ান্তরে বিদেশে 
গেলে কখন কখন একমাসেরও অধিক কাল পরিবার ছাঁড়িয়! 
থাকিতে হয়। ইহাঁও সেইরূপ; অধিকস্ত বিদেশে গিয়া এক 
মাসে যে উপাচ্জন সম্ভব তাহার দশ গুণ অধিক উপাজ্জন হইবে। 
জনীদার ললিয়াছ্ছেন মে, যে আসামি হইয়া যাইবে, তাহাকে 
পঞ্চাশ ঢাঁক। নগদ টিদের। অনহএন এই এক লাভের পন্য! 
আছে। আহাৰ ডন জেল হইতে অন্যাহতিপাইলেই তোমাকে 

এই সরকারে উপপুক্ত কর্ম দিব ।» 

নাঁবেবেক এই প্রস্তাব শুনিয়া রামেশ্বর নিজকুত পার্স চুরি 
মনে করির! শিহহিলেন । ভাবিলেন, বুঝি বিধাতা নিশ্চিতই 
ঝারাগারই আমার কপাঁলে লিগিয়াছেন, নিলে সেদিন আমি 
পয়সা চুরি করিতাম না। সেপাপের ফল এক দিন ামাকে 
অবশ্য ভোগ করিতে হউবে-তবে ডুদিন অগ্র পশ্চাতে কি 
আপিয় সায়? কেনই আপন ইচ্ছায় জেল খাটি ষে পাপের 
প্রাঁয়শ্চি না করিব? আপন ইচ্জীন্ন এ প্রারশ্চিত্ করিলে 
দেবতা কি প্রপন্ন হইবেন না? যাগাই হউক উপস্থিত অন্নাভাৰ 
নিবারণের উপায় ইহ! অপেক্ষা আর কি হইবে ? 

রামেশ্বর উঠিয়া বলিলেন, “আম সম্মত, আমায় পঞ্চাশ 
টাকা অগ্রম দাঁ9।” নায়েব তত্ক্ষণাহ টাক! দিয়। বলিলেন, 
“আর একটা কথা আছে। জেলায় যাইয়া মাজিষ্রেট সাহেবের 
নিকট এই চুরি স্বীকার করিতে হইবে ; একরাঁর না করিলে 
আবার আমাকে মিথ্য! প্রমাণ যোঁজনা করিয়া পাঁঠাইতে 
ছইবে।» 

»ক্সাদেশ্বর উঠান হইতে মাথা! নাড়িয় নাঁয়েবের কথার উত্তর 


| ৩৩ ] 


পি | পলো পী পোপ আপা সকার পি এ পপ পপ সাপ পপ ০ জপ 





দয়া চলিয়া গেলেন, এবং বাটা পৌছিয়া পঞ্চাশ টাকা গণিয়া 
স্ীর হাতে দ্িলেন। পার্ধভী টাকা হস্তে করিয়া জিজ্ঞাসা 
করিলেন “এ কোথায় পেলে?” রামেশ্বর সবিস্তারে সকল 
বলিলেন । 

পার্বতী উহ! গুনিবাশাত্র টাঁকা দূরে নিক্ষেপ করিয়া স্বামীর 
পাদমূলে আ:সয়া পদঘয় ধরিয়া উদ্ধমুখে সজলনয়নে বলিতে 
লাগিলেন, “এমন কর্ম কখন করিও না, ছার টাকার জন্য সাধ 
করিয়! কযেদী হইও না, আদি ভিক্ষ। করিয়! খাওয়াইব; তুমি 
এমন কর্ম করিও না, এই বিদেশে আমাক রাখিগা তুমি যাইও 
না, আমার নিমিত্ত না ভাব, ছেলের মুখপাঁনে চাও, ছেলের আর 
কে আছে, ছেলের রোগ হলে আমি কোথা যাব, কাহার দ্বারে 
দাঁড়াইব ?” এই বলিতে বলিতে পতিবক্ষে মুখ লুকাইয়। 
অজস্র অশ্র বর্ষণ করিলেন। এই সময়ে শিশু ছ্বারের নিঞ্ট 
কর্দম লইয়। খেলা করিতেছিল, মাব ক্রন্দন শব্দ তাহার কর্ণে 
গেল, ব্যস্ত হইয়া কর্দমম আপনার অঙ্গে মুছিতে মুভিতে উভয়ের 
প্রতি চাহিতে লাগিল; শেষে পবাব! টুই মাঁকে মাল্লি ?” এই 
বলিয়া মার অঙ্গের উপর ঝাপ দির শত শত মুখচুষ্বন করিল, 
আঁর বলিতে লাগিল, “মা টুমি কেডে! না, বাঁবাকে খুব মাঁলব 
অকুন ।৮ অমনি পার্বতী সকল ভুলিয়া গেলেন, পুভ্রকে কোলে 
লইয়া বলিলেন, “কৈ ও'রে মার আগে।” শিশু কোল 
হইতে উঠিয়া “এই মেলেসি!” বলিয়া! ক্ষুদ্র হাতে বাপের 
পিঠে মারিল, আবার তখনই গলা ধরিয়া তাহার মুখচুস্বন 
করিতে লাগিল। পার্বতী শিখাইয়! দিতে লাগিল, “আবার 
মার ।” শিশু তৎক্ষণাৎ “আবার মেলেসি” বলিয়া আবার 


[৬1 





সেই কোমল অমৃত মাথা কর পিতার পৃষ্ঠে ফেলিল।' এইব্ূপ 
পবিত্র সুখে কিঞ্চিংকাঁল অতিবাহিত হইলে বামেশ্বর উঠিয়া 
টাকা গুলিন একত্রিত করিয়া শধ্যার উপর রাখিয়া চলিয়া 
গেলেন; পাব্ধতী সন্তান লইয়! অন্তমনে রহিলেন। 

হাঁদেশ্বর নায়েবের নিকট গিয়] বলিলেন, “মহাশয়, আমায় 
চালান দিতে আর বড় বিলম্ব করিবেন না। রিঙ্গঘ হইলে 
বুঝি মামার যাওয়ার ব্যাঘাত হইবে। স্ত্রীর কাতরতা আর 
একবার দেখিতে গেলে আমার বোধাবোধ থাকিবে না, 
অতএব যাহ হয় করুন, আমি এখনও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ আছি।” 
লায়েব ব্যস্ত হইর়। দ্ারগাঁকে সংবাদ পাঠাইলেন। দখ্ডেক 
কালের মদ্যেই পদাতিকগণ রামেশ্ববকে বেষ্টন করিষা জেলাক্স 
লইয়া চলিল। তিনি আরব্দ্ী পুগ্কে দেোখরা আদিলেন না । 

তথন প্রথম রামেশ্বরের স্মরণ হই এ যে জেলে যাইতেছি ! 
জেল! বেধানে তন্গদ্, নারীদ্ব, পাপাক্সারা খাকে-বেখানে 
ডাকাত, রাহাজান,ঠগ, পরস্পরে বঙ্গু-সেই জেলে! যেখানে 
মানুষকে গরু করিয়া ঘানিগাছে যোড়ে, সেই জেলে! যেখানে 
জাঁভি নাই, ব্রাঙ্ছণ মুসলমান এক পংক্তিতে খায়, হাঁড়ী ডোমের 
সঙ্গে এক শ্যায় শুইতে হর, সেই জেলে! যেখীনে বিচার 
নাই, তৎ্পরিবর্ধে কেবল বেত্রাঘাত আছে, দেই জেলে! কি 
অপরাদে ? অপরাধ, খাইতে পাই না--অপরাধ স্ত্রী পুত্রেঃ 
অন্লাভাবে মৃত্যু দেখিতে পারি না--এই অপরাধি। 

এমন সময়ে শূন্মার্গ বিদীর্ণ করিয়া, পুষ্পবিশিষ্ট বৃক্ষ লতা 
শাখা পত্র গ্রাম্য প্রদেশ কম্পিত করিয়া, তীব্র করুণ মন্মভেদী 
রোদন ধ্বনি রামেশ্বরের কর্থে প্রধেশ করিল। পশ্চাৎ ফিরি 


[7 ৩৫ ] 





দেখিলেন, যে পার্বতী প্রায় রুদ্বশ্বাসে ছুটিতেছে ; কাঁদিয়া 
নলিতেছে “একবার দীড়া9! তোমায় দেখি ।” রামেশ্বর 
আর সহ্য করিতে পাঁরিলেন না, ফিরিয়া দীঁড়াইলেন, 
দৌড়িয়া ব্রান্ষণীর নিকট শ্রাসিতে চেষ্টা করিলেন, কিন্তু 
পদাতিকেরা আদিতে দিল না, ধাকা মারির! লইয়া চঙ্সিল 1 
রামেশ্বর আর একবার ফিরিয়া দেখিলেন । দেখিলেন কয়েকটি 
গ্রামবাসী আসির! পার্সত্রীকে ধরিয়া রাঁখিরাছে, পার্ধ তী ধুলান্গ 
পড়িয়া! চীৎকার করিতেছে আর কেশরাঁশি ধুলায় ধৃসরিত 
হইতেছে । রাঁমেশ্বর আর দেখিতে পাইলেন না; ক্রমে দুরন্ত; 
বৃদ্ধি হইতে লাগিল; বাযুসঙ্গে পত্রীর ক্রন্দনধ্বনি মধ্যে মধ্যে 
স্বাসিতে লাগিল। তখন তাহার বোধ হইতে লাগিল যেন 
সাগর উছলিতেছে, জগৎ কাঁদিতেছে। 


দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ । 


পুলিসের পদাতিকগণ রামেশ্বরকে লইয়া গেলে পর বাগে 
দারগা আপ নায়েব উভয়ে আহারান্তে একত্রে বসিয়া কথাবার্ত! 
কহিতেছিলেন ; এমত্ত সময় এক জন দাসী সংবাদ দিল থে 
রামেশ্বরের স্ত্রী কিঞ্চিৎ শান্ত হইয়াছে । এক্ষণে যন্ত্রণা যে সহ্য 
করিতে পারিবে এমন বোধ হইতেছে। সন্তানকে ঘুম পাড়াইয়। 
আপনিও শুইয়াছে, কিন্ত এখনও ধীরে ধীরে কাদিতেছে। | 

নায়েব বলিলেন, “তাহার নিকট অদ্য যাহার থাঁকিবাত 
কথ! ছিপ সে স্্ীলেকটি এখনও যায় নাই?” দালী উত্তর 


[ ৩৬ ] 








করিল, সে সেখানে আছে; আমিও এপর্যযস্ত ছিলাম । এই 
মাত্র আসিতেছি।” 

দাদী এই কথা বলিয়! চলিয়া গেলে দাঁরগ! বলিলেন “যেরূপ 
গুনিয়াছি তাহাতে বোধ হয় আসামি পলাইবার নিমিত্ত ব্যস্ত 
হইয়া থাঁকিবে। একান্ত না পলাইতে পারে মাজিষ্রেট সাহে- 
বের নিকট আর একরাঁর করিবার সম্ভাবনা নাই ।৮ নায়েব 
জিজ্ঞাস! করিলেন, “তবে এক্ষণে উপায় ।৮ দ্ারগা বলিলেন 
যে “আসামী একান্ত স্বীকার না করে তবে অন্ত প্রমাণ দিতে 
হইবে। আসামীর ঘর হইতে চুরির মাল বাহির করিতে 
হইবে। অতএব পূর্বাহে তাহা পুঁতিয়া রাখিয়া আমিতে 
হইবে। একটা জলপাত্র এই সময়ে আপনি স্বয়ং যাইয়। উহার 
স্ত্রীকে সম্মত করিয়া রাখিয়। আমুন।” নায়েব বলিলেন “অদ্য 
রাঁত্র হইয়াছে ; কল্য প্রাতে হাহ! করা যাইবে । দরগা বলি- 
লেন, “তাহা কদাচ হইবে না, প্রাতে অন্য লোক দেখিলে 
সকল কথ! রা হইয়া যাইবে । অতএব তুমি অবিলম্বে যাও ।» 
নায়েব অগত্যা যাইতে স্বীক!র করিলেন। 

রামেশ্বরের অদ্ৃষ্টশৃঙ্ঘল, চারিদিক হইতে রামেশ্বরকে আঁটিয়া 
ধরিতেছিল । গভীর রাত্রে রামেশ্বর পদাঁতিকদিগের নিকট 
হইতে পলাইলেন ( পাছে কেহ জানিতে পারে এই ভয়ে সঙ্গো 
পনে আসিয়া গৃহের নিকট এক বৃক্ষপার্থে দাঁড়াইয়া চারিদিক 
ফেখিতে লাঁগিলেন। এই সময়ে পূর্বদিক হুইতে এক ব্যক্তি 
আঁসিতেছিল ) তাহাকে দেখিয়! রামেশ্বর লুকাইয়৷ থাকিয় | 
তাহার আপাদমস্তক নিরীক্ষণ করিতে লাগিলেন, চিনিলেন 
যেসে ব্যক্তি নায়েব। অতএব ভাবিলেন এই সময় নায়েবে 


নিকট গয়া তাহাণ পায়ে ধখির! টাক! ফিরাইয়। দিই। স্ত্রীর 
স্থথসাধন নিমিত্ত এই কম্ম করিতে প্রবৃন্ত হইরাছি, ষদি তাহারই 
কণ্ঠ হইল তবে আর টাকার প্রপোজন কি? এই ভাবিতে- 
ছিলেন, এমভ সময়ে দেখিলেন যে নায়ে৭ তাহার দ্বারে 
গর দাড়াইল। তখনও পাব্ধতী অতি মুছুম্ববে কাঁদিতেছিল। 
প্রাতবাসিগণ ব'লল “ওগে। একটু নিদ্রা যাও নতুবা পীড়া 
হইবে ৮ এই বালবামাত্র পার্বতী আরও অধিক কাদিয়া 
ডঠিল। নায়েব দ্বারদেশে দাড়াইয়া ক্রন্দনশব্ব শুনিয়! 
বাললেন, “মা একবার দ্বার খুলিয়। দাও, আমি তোমার স্বামী? 
কোন সংবাদ আনিয়াছি ।১ যেধানে বৃক্ষান্তরালে লুকাইয়! 
বামেশ্বর দেখিতোছিলেন, সেখান হইতে এ সকল কাখাবার্তী 
কিছুই শুনা যাইতোছল ন1।-_-পাব্বতীর অন্ুচ্চ রোদনশবও শুন। 
যাইতোছল না। পাব্বতী নায়েবের কথা শুনিবামাত্র ভ্রুত 
বেগে দ্বার খুলিয়। দিলেন, ভাল মন্দ কিছুই ভাবিলেন না। 
নায়েব গৃহে স্প্রবেশ করিয়া বললেন, “অনেক কথা আছে। 
প্রথমে ডঠির1 দ্বার রুদ্ধ কর, নতুখা কে শুনিতে পাইবে ।” 
রামেশ্বর দুর হইতে দেখলেন যে নায়েব দ্বারে আসিয়! দার 
নাড়িতে লাগি” অক্ষ টস্বরে পাব্তীকে ডাকিয়া কি ছুই একটী 
কথা বলিল, তাহার নিশ্বাস খরতর বঠিতে লাগিল। আবার 
দেখিলেন অবিলম্বে পাব্বতী ছ্বার উদঘাটন করিয়া দিলেন । 
নায়েব গৃহে প্রবেশ করিলে আবার দ্বার ক্রুদ্ধ হইল । রামে- 
স্বর মনে করিলেন, তাহার বুঝিতে আর কিছুই বাকি রহিল না। 
ভাবিলেন, এই ।নমিত্ত নায়েব আমাকে কৌশঙ্গ করিয়। দারগার 
হুস্তে সমর্পণ কৰিয়াছে। অতএব ইহার প্রতিফল দিব,» এই, 
র্‌ 


1 ৮] 


পে শী পপি পপ পিপল ০ কপ আজ আত পপ পাপী শা পাট পা শত শপ পীপিপাশিশীপশপশলষক শশী শা শাদা পিপাসা, ৯৮ এক 
পপ 


বলিয়া দ্বারের নিকট আসিয়া দাড়াইলেন। তাহাদের কথ। 
বার্তার শক সুনিতে পাইলেন । একবার ভাবিলেন, কি কথা 
হইতেছে শুনি; অমনি আপনার প্রতি ক্ুক্ধ হইপ্া দ্বারে পদা- 
ঘাত করিলেন । গৃহাভ্যন্তর নিস্তব্ধ হইল । তখন মন্মষন্ণায় 
একপ্রকার রুন্ধস্বরে বলিলেন, “আমি আপিয়াছি, তুমি যাহার 
জন্য 'কীদিতেছিলে সেই আমি আসিয়াছি_ তোমার উপপ'ত, 
তোমার ঘরে আছে, এখন আমি চলিলাম।” পাবিতী এই স্বর 
শুনিল, আহ্লাদে কথা বুঝিতে পারিল না, উন্ম হইয়! বহির্গত 
হইল। বহির্গত হইয়া! প্রেমপুরিত স্বরে ভাকিতে লাগিল ॥ 
রামেশ্বর বিস্মিত হইলেন। আর কিছুই না বলিয়া চপিয়। 
গেলেন। পার্বতী দ্বার খুলিয়া স্বামীকে ন! দেখিস্বা ডাকতে 
ডাকিতে উত্তর ন। পাইয়া, শেষে কাঁদিতে লাগিল। 

রামেশ্বর আর কোন উন্তর না দিয়া ভাবিলেন অন্যকে 
আর কষ্ট দিব না, আপনি আর কষ্ট পাইব ন1, এই ঘ্বণিত 
পৃথিবী ত্যাগ করিব । এই সিদ্ধাপ্ত করিয়া চলিলেন। অপরাহ্জে 
যে ক্রন্দনধ্বনি মন্মভেদী বলিয়া বোধ হইয়াছিল, এক্ষণে সেই 
শব্দ পৈশাচিক বোধ হইতে লাগিল। 

রাষেশ্বর কিয়দ্,রে গিয়া দেখিলেন পদাতিকগণ ফিরিয়া 
আসিতেছে । তাহাদের সন্মুখে যাইয়া বলিলেন, “মামাকে 
বন্ধন কর; আমি আসিয়াছি।” "রামেশ্বরের মূর্ভি,দে খিয! সকঙেে 
ভয় পাইল, বন্ধন করিতে আর কাহারও সাহস হইল না । তিনি 
বলিলেন "পরিবার দেখিবার বড় ইচ্ছা হইয়াছিল, তাহা ই 
গিয়াছিলাম। এখন চল তোমাদের তয় নাই। আমি নিজ 
আসিস! ধরা দিয়াছি, তাহাই তোমাদের দারগা আমাকে চালা? ন 


৩৯ 


পপ ০ তত জল সপ পপ সপ 
সী পি সপ শপ 





পল পা টপ পপ সা 


দিতে পানিয়াছেন, নতুবা তাহার সাধ্য হইত না। সেদিবস 
খুন করিয়াছিলাম, আমি ধর! দিই নাই বলিয়াই কেহ সন্ধানও 
পায় নাই । 

ইহ! শুনিয়া জমাঁদ্দার অতি আগ্রহসহকাঁরে জিজ্ঞাস! করিল 
“সেখুন কি তুমি করিয়াছিলে ? রামেশ্বর উত্তুর করিলেন, 
“হাঁ । আমিই সে খুন করিয়াছি ।” জমাদ্দার আবার জিজ্ঞাস! 
করিল “তুমি আদালতে স্বীকার করতে পারিবে 1” বরামেশ্বর 
বলিলেন 'অবশ্ঠ স্বীকার করিব ; কাহারে ভয় %” 

আর কেহ কোন কথ! বলিল না, সকলে তাহার সঙ্গে সঙ্গে 
চলিল। 

পর দিবস মাজিষ্ট্রেট াহেবের সম্মুখে আনীত হইয়া রামে- 
শর দাড়ালেন । মাঁজিষ্রেট সাহেব তাঁহার আপাদ মস্তক 
নিরীক্ষণ করিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “এই কি সেই খুনি মাম 
লার একরারে আসামি ?” রাঁমেশ্বর “1৮ বলিয়। দেলাম 
করিলেন । তখন তাঁহার আন্তরিক যন্ত্রণা বড় গুকতর হইয়া 
উঠিক্াছিল, 'কোনকফপে এ দেহ ত্যাগ করিতে পারিলেই ভাল, 
এই বিবেচনায় হতাকারী বলিয়। আত্মপরিচয় দিলেন । জমা- 
দণার আনুষঙ্গিক প্রমাণ যৌগাঁড় করিয়া দিলেন। বাঁমেশ্বর 
দাওরা সোপর্দ হইলেন । দাওরার বিচারে তাহার যাবজ্জীবন 
দ্বীপান্তরের হুকুম হইল । কিছুদিন পরে নিজীমত আদালত 
দ্রও কমাইয়। দিলেন। তখন পিনল কোড ছিল না; বিশ 
বৎসরের নিমিত্ত রামেশ্বর দ্বীপান্তবে গেলেন । 

এদিকে পান্ধতী, একবার স্বামীর কথার শব্দ শুনিয়া আর 
উত্তর ন! পাইয়!, উন্মাদিনীর ন্ায় তাভীর সন্ধীনে বনে বনে 


[৪* 


শপ পি 





ছুটিতে লাগিল। কোথাও স্বাণীর সাক্ষাৎ্ৎ পাইল না; কন 
ডাঁকিল--কোান উন্ধর পইল না। কন কাদিল--কেহ 
ভাঙাকে শান্ত করিল না। (েষে পদ্মানদীর ধাবে 
ঈাড়াইয়া ভাবিতে লাগিল। তপন হঠাৎ মনে পড়িল যে, 
রামেশ্বর যখন চলিম্বা যান, তখন ঠ্াহার কথায় কি একটি শব্ধ 
ছিল--অতি নিষ্ঠর, অতি ভয়ঙ্কব, একটি কথা ছিল-.পার্দতী 
তখন আহ্লাদে তাহাতে কাণ দেয় নাই--তখন রামেশ্বরেশ 
কথার অর্থ বুঝিতে পারে নাই ং এখন সেই কথাটি মনে পড়িল-- 
এেখন তাহার অর্থ বুঝিল--শ্রথন বুঝিল, শামেশ্বর কেন 
প্লাইয়াছেন | বুঝিল-_হাঙান কপাল ভ ক্গিয়াছে, নুঝিল এ 
সংসারে আর স্বামীর সহিত সাক্ষাৎ হইবে ন'। গন তাভার 
চক্ষে আকাশ, নক্ষত্র, জল সকলই আধা হইয়] আসিল । 
নদী জলের একটি শব হইল ; জলে তরঙ্গ উঠিল, কমে মিলাইয়। 
গেল, শেষ সকল ক্র ভইল | পার্সশনভী যেপানে দাড়াইযাছিল, 
দেখানে আর নাই--পান্দভী জলমগ্রা হশ্য়াছে । 





শপ সস 





তৃতীয় পরিচ্ছেদ । 


এই ঘোরনাদী সমুদ্রের অনন্ত বজগন্ভীর কল্লোল শুনিতে 
শুনতে বিশ বৎসর! এই বালুকাময় উপকূলাবূঢ় নারিকেল 
ব্ক্ষের সঙ্গীর্ণ ছায়ায়, কোদালী হাতে, বিশ্রাম করিতে করিতে 
বিশবৎসর ! এই সাগর প্রান্তবাঁপী ফেণবিকীর্ণ ধূমমধ্যে আনন, 
ছুলালের হাসি ভরা মুখের অন্বেষণ করিতে করিতে বিশ বৎসর! 
স্বেস্ছানিনবাসিত রামেশ্বর মনে কররয়াছিল, “মবিব'--মরিতে 
পারিল না-_বিশ বহ্নরের যন্ধণ! ভোগ করিতে আদিল। আমরা! 
মনে করি, “এই করিব, আর এক জন মনে করেন আর। 
আামাদিগের কার্য, দুষ্ট; তাহার কাধ্য, অদৃষ্ট 

যথন, বিশ্বাসঘাতিনীর কথ মনে করিয়া, রামেশ্বর মরিতে 
চাহি্াছলেন, তখন ত আনন্দছুলাঁপকে মনে পড়ে নাই। 
এখন 'দব] রাত্রি, এই নিন্বাসেতের পাসদ্বীপে আনন্দছুলালের 
অক্লত্রিম, সরল হাসিভর! মু, তাহার আধ কথা, তাহার খেলা, 
মন পড়িতে লাগিন। যখন সমুদ্র শান্ত হইয়া, মুদ্ধ মুছু ডাঁকে, 
রামেশ্বর ভাবেন, আনন্দছুলাল কথা কহিতেছে। যখন দূরে 
অস্পঈলক্ষ্য একটি তরঙ্গ উচু ১ইয়া নাঁঠে, রামেশ্বর মনে করেন 
যে, আনন্দদুঙগাল নাচিতেছে। রামেশ্বর মনে করিয়াছিলেন 
ঘেভিনি বিশ বসর বাচিবেন না-কিস্তু বিশবৎসর বচিলেন। 
কাল পূর্ণ হইলে, *স্বদেশে ফিরিয়া আসিলেন। ভাতিপুরে 
'আসিয়। দেখিলেন, তাহার সে কুটীর নাই-তীহার সে পত্বী 
নাই, কই আাশন্দছুপাল ত নাই! কেহ তাহাদের কখা কিছুই 


| ৪২ ] 


০০ 


পাপসডিপপি ০৯ তল পাপী শশী 


বলিতে পারিঙল না। রামেশ্বর ! রামেশ্বর কে? বামেশ্বরকে কেহ 
চেনে না। 

কয়েকদিন বরামেশ্বর সন্তানদের নিমিত্ত উন্মন্ের ভ্যায় ভ্রমি- 
লেন। একদ| তিনি হাটে যাইবার পথে ব-সয়া থ!কিলন; তাবি- 
লেন, হয়ত তাগানধ সন্তান অদ্য হাট করিতে আপিবে 3 রামে- 
স্বর যুবা পথিক মাত্রই সকলকে অতৃপ্ত লোচনে দেখিতে 
লাগিলেন । হঠাৎ একটা স্্রলোককে দেয়! রামেশ্বর শি- 
রিলেন ; স্ত্রীলোককে দেখিয়া বোধ হইল সে বেশ্তা।; আকার 
দেখিয়া, রামেশ্বরের বোধ হইল, সে পান্বতী! রামেশ্বর যখন 
দ্বীপাশ্তরে যান, তখন পার্বতীর বয়ন বিশ্বংসর এক্ষণে লাহাব 
ব্যস চলিশ হওয়ার কথা; ইতাঁর সেই বয়স । যাহাকে বিশ 
বৎসর বয়সের পর আর দেখি নাই, তাঁচাকে চষ্টাশ বংসর 
বয়সে সহজে চেনা যায় নাঁ। যে পান্বতীকে রামেশ্বর ত্যাগ 
করিয়া গিয়াছিলেন, এ সে পান্ধতী নহে বটে, কিন্তু 
বামেশ্বর মনে বুঝিলেন যে, যে নৈদদৃশ্ঠ দেখা যাইতেছে 
তাহা বয়োপরিবর্তনে ঘটয়াছে । বেশ্তা রক্তবর্ণ বস পরিয়া শুষ্ক 
বনকু'লর মাঁল। গলায় দিয়া তামাক খাইতে খাইতে এএকজন 
মুদলমানের সহিত্ত কণা কর্ঠচতেছে। দেখিলামাত্র রামেশখৰ 
তাহার নিকট গিয়া! গম্ভীরভাবে প্িক্ঞাপা করিলেন, “মামার 
পুর কোথায় ?” বেশ্টা আকাশমুখী হইয়! হাসিব উত্তর 
করিল, “কে তোর হেলে?” কামেশ্বব বলিলেন) £আনন্দ- 
ছুলাল 1” নটা বলিল “মরণ আঁ৫কি ! তোমার দড়ি কলনী যোটে 
ন1?' রামেশ্বর বলিগেন “শীন্ব ঘুটিলে ; এক্ষণে বল, আনন্দ- 
ছুলালকে কোথায় পাঠাইয়াছিস্‌ ?”” বেশ্তা উত্তর কহিল, 


সপ পপ সা গলপ পাপা পন পপ 


| ৪৩ 1 


সপ পান? পস্পগাশি শ শীত 2 পিপি িপিশী পিপিপি পশলা সপ পপর পাশ পাপী জপ স 
টি র্‌ 


চুলায় পাঠাইক্সাছি-_নদীর ঘাটে তারে পুতিয়া আসিয়াছি-_ 
তাহার ওলাউঠ। হইয়াছিল-_.স গিয়াছে, এক্ষণে তুমিও যাও ।” 
রামেশ্বর আর সহা ক্গিতে পারিলেন না; জোরে তাহার বক্ষে 
পদাঘাত ক'রয়। চলিরা গেলেন । 

গেলেন কোঁধায়? কোণায় যাইন্রেছিশ্নে তাহ! কিছুই 
জানিতে পারিলেন নাঁ। দ্বীপান্তধে বলিয়া এই পুত্রের মুখ 
ভাবিতেন। কবে আবার তারে দেখিবেন, বলিয়া বসিয়া, 
কেবল তাহাই ভাবিতেন । এই আঁশা এ পুথিবীর একমাত্র 
গ্রন্থি হুল । এক্ষণে সে গ্রন্থি ছিন্ন হইল । এক্ষণে আর কোথায় 
ঘাইবেন ? অথচ গেলেন । 

পথে দেখিলেন, আর একজন জ্লীলোক একটি ছেলে কোলে 
করিষা লইয়। যাইতেছে । রামেশ্বর হুঠাঁং তাহাকে এক চপেটা, 
ঘাত করিয়া তাহার [ক্রাড় হইছে ছেলে কাড়িয়া লঈয়! নামা- 
'ইয়া দিলেন । স্ত্রীলোক উচ্চৈঃস্বরে কীদিতে লাগিল । বামেশ্বর 
বলিপেন, “তো বাক্ষপীর জাত! ছেলে মাধিয়া 'ফলিবি-_ 
ছেলে ছেড়ে দে।7 

রামেশ্বর সমস্ত দিন পথে পথে বনে বনে কীদিয়া বেড়াই- 
লেন রাত্রে গড় ক্ষুধার্ত হইলেন । সন্মুধে এক দোকান 
দেখিলেন ; দোকানি ঝাপ ফেলিয়। শুইয়া আছে। ব্বামেশ্বর 
দোকানের ঝাপ তাঙ্গিয়া, প্রবেশ পুর্ধবক সশ্ুখে যাহ! পাশলেন, 
খাইতে আরম্ভ করিলেন। দোকানি উঠিষ্াঁ গালি দিতে 
অ.বুস্ত করিল। রাষেশ্বর দোকানির গলদেশে হস্ত দিয়া দোকা- 
ধনের বাস্ির করিয়া দিলেন । 

দোকানি ফাঁড়ি হইতে বরকন্দাজ ডাকিয়া আনল; 


| ৪৪ ] 


বামেশ্বর বরকন্দাজের লাঠি কাড়িয়া তাহার মাথায় মারিলেন 
বরকন্দাজেব মাথা ফাটিয়া গেল। 


শীন্র রটিল, এক জন প্রসিদ্ধ দান়মালী, পিংলাপিনাং হইতে 
ফিরিয়া আসিয়!, দেশ লুঠ করিতেছে, ষাকে পাইতেছে, তাকে 
মাবিতেছে । পুলিৰ শশব্যস্ত হইল; মাঞজিষ্টে,ট, বামেশ্বরের 
গ্রেপ্তারির জন্য ছুই শত টাকা পুবস্কার ঘোষণা করিয়। দিলেন । 
রামেশ্বর দিনক্ত লুঠিগা খাইয়! মানুষ ঠেঙগাহয়া, লুকাইয়া 
দিনঘাপন কবিতে লাগিলেন। সকলে বসন্ত পশ্ুরন্তায় তাহাকে 
তাড়া ক্রিয়া বেড়াইতে লাগিল। যত বদমাস, ডাকাইত, 
তাহার প্রতাঁপ শুনিয়া তাহার চারিপাশে জমিল। তখন 
রামেশ্বর ডাকাতের সন্ধার হইয়া, মনুষ্য জাতির উপর ভয়ঙ্কর 
দৌরাঝ্মা করিয়া নেড়াইতে লাগিলেন। কেহ তাহাকে 
ধরিতে পাবিল না; কিন্তু একবার প্রায় ধরা পড়িরাছিলেন | 
তিনি স্বদলে, বহু দূরে, এক ডাকাতি করিতে গিয়াছিলেন। 
গৃহরুক্ষকেরা মতর্ক এলং বলবাঁন; রামেশ্বর গুকতর আঘাত 
প্রাপ্ত হইয়: অচেতন হইয়! পড়িম্না গেলেন; ভীহার সঙ্গগণ 
তাহাকে বহিয়া আনিয়া গ্রামাঁঞ্রে এক জঙ্গলে ফেলিয়া! গেল। 
সেই গ্রামেব লোক পর দিন প্রাতে সভয়ে দেখিল. যে এক 
জন মৃতপ্রায়, আহত ব্যক্তি বনে পড়িয়া মাছে । তাহার পুলিসে 
বাদ দিতে যাইতেছিল । এমত সময়ে সেই দিন এক জন 
ডাক্তর কোন ধনিন্যক্তির চিকিংসার জন্য নিকটস্থ নগর হইতে 
সেই গ্রামে আ লয়াছিলেন। তিনি বলিলেন, “এ সুমুসূ। 
আমি আগে ইহাকে চিকিংসা কবিয়। বাচাই ; এক্ষণে ইহাকে 
পুলিবে লইয়! গেলে, ইহার মৃত্যু হইবে । তোমরা পশ্চাংপুলিষে 


[৪৫ ] 





সংবাঁদ দিও।১ লোকে ডাক্তারের কথা শুনিল, পুলিষে তখন 
সংবাদ দিল ন!। ডাক্তার, ততৎক্ষণেই চিকিৎসা আরম্ভ করিয়া 
তাহার জীবনদান করিলেন । রামেশ্বরের উত্থান শক্তি হইবা- 
মাত্র, তিনি ডাক্তারের নিকট হইতে পলায়ন পরিয়া পুলিষের 
হাত এড়াইলেন। 


চতুর্থ পরিচ্ছেদ | 


_. রাঁধু সর্গারের ভয়ে দেশ কীপিতে লাগিল) কিন্তু আনন্দ- 
'ছুলাশয়র শোক রামু ভুলিল না। শেষোক্ত ঘটনার চাঁরি বৎসর 
পরে. একদিন রামু বা বাঁষেশ্বর দলবল সঙ্গে এক ডাঁকাঁই- 
ভিতে যাইতেন্ছিল। রাত্র প্রায় ছুই প্রহর । প্রান্থরে, বৃক্ষাগ্র 
নদীজলে, চন্দ্র কিরণ কীঁপিতেছে। একখানি পাঁক্কি ধীরে ধীরে 
নদীর ধার দিয়া যাইতেছে । পাল্কির মধো বাবু শয়ন করিয়া 
আছেন। পান্ধিতে শরন করিয়া বাবু অন্ত মনে নানা 
বিষয় ভাঁবিতে ছিলেন । গৃহিণী, কন্তা, ইটের পাঁজা।, নুতন বাঁগশন 
নৃতন বাগানের কেবলা মাঁলীর দোরঙ্গ! দাড়ী, তাহার মালিনীর 
খাদ নাক, বাবুর চিন্তার ভাগী হইল। বাবু এইবূপ ভাঁবিতে- 
ছিলেন, এমত সময় ভঠাঁৎ পাক্কি ছুলিয়। উঠিল-_-ছুই একপ্দ 
হটিপ, শেষ ভূমিতে নামিল। বাবু পান্কি হতে মুখ বাহির 
করিলেন । শিহরিয়! উঠিলেন । দেখিলেন প্রায় পচিশ ত্রিশটি 
তরবারিফলকে চক্্রকিরণ জলিতেছে, এবং যাহাঁদের হস্তে মেই 
তরবারি ছিল তাহার গম্ভীর পদক্ষেপে অগ্রসর হইতেছে: বাবু 


৪৬ ] 


পপ জপ আপ পপ পপ পরপপ শ পা া 





সপ পক 


“খন সকল বুঝিলেন। দহ্থ্যরা পান্ির দ্বারে আনিয়! দীড়া- 
ইলে একজন হস্ত প্রসারণ পৃক্ধক চুল ধরিরা বাবুকে বাহির 
করিল। আব একজন আকর্ণ হস্ত তুলিয়া সড়কি সন্ধান পূর্বক 
নিক্ষেপ করিতেছিল, এমত সময় রামেশ্বর সেই সড়কির ফলক 
ধরিয়৷ বাবুর প্রাণ রক্ষা করিল। এবং সকলে বলল, 'তোমরা 
একটু অপেক্ষা কর, আমি একবার বিশেষ করিয়া দেখি, এই 
ব্যক্তিকে বুঝি কোথায় দেখিয়াছি” যে সড়কি নিক্ষেপ করি- 
তেছিল সে ক্রুন্ধ ভাবে উত্তর করিল,”তুমি সকলকেই দেখিয়াছ ! 
সকলেই তোমার আত্মীয় কুটুন্ব, তুমি একটু সরিয়! দাড়াও, 
আমরা বাবুর পরিচয় লই।'” রামেশ্বর তৃখন দর্পে তব্বারি 
ঘুরাইয়! বললেন, “যা মক'ল তফাত বা, নহিলে কে প্‌ রস্‌, 
হাতিয়ার লইয়া এগো11” এই কথ! শুনিয়া সকলে সরিয়া দাড়া- 
ইল। তন রামেশ্বর -জিজ্ঞাসা) করিলেন) “বাবু আপনি কি 
ডাক্তার ?" বাবু বলিয়া উঠিলেন, “আমি ডাক্তার। আমায় 
বাঁচাও, আমি চিরকাল তোমার ক্রীতদাস হইয়া! থাকিব ।”, 

রামেশ্বর বলিল) “কোন ভয় নাই, আমিই আপনার ক্রীত 
দাস ।”, এই বলিয়। অন্ত দন্থযদ্িগকে ডাকিয়। কি বলিল; 
তাঁচার অমত দেখিয়া শেষ ষে "উদ্দেশে তাহাঁর। যেখানে 
যাইতেছিল, সেই দিকে চলিয়া! গেল। তথন ডাক্তার বাবু 
দস্থুকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “কিনূপে তুমি আমাকে চিনিলে, 
আর কেনই বা আমাকে রুক্ষা করিলে, ইহ সবিশেষ জানিতে 
আমার বড় ইচ্ছ! হইতেছে ।” 

দন বলিল, « কয়েক বৎসর হইল আমি যখম হইয়া 
এক জঙ্গলে পড়িয়াছিলাম-_-মাঁপনি আমাকে তুলিয়া লইয়া 


| ৪৭ ] 





গয়া, প্রাণদান করিয়াছিলেন । গ্রাম্য লোকের হাত হইতে 
বক্ষা করিয়াছিলেন, পুলিষে দেন নাই । "আম আপনার 
নিকট চিরকাল বিকাইয়! আর্ছ। চলুন, আমি আপনাকে 
বাঁটি পার করিয়। রাখিয়া আসি।” 

ডাক্তার বাবু দন্থযর এরূপ কৃতজ্ঞতা দেখিয়া বলিলেন, 
“তুমি স্বভাবতঃ মহান্ব।কেন এ দহ্থ্যবৃন্তি অবলম্বন করিয়াছ ?” 

রঁমেশ্বর দীর্ঘ নিশ্বাস ত্যাগ করিয়া নীরব হইয়। রহিলেন। 
“দখিক্া, ডাক্তার বাবু বুঝিলেন, এ ব্যক্তি গুরুতর মনোছ্ঃখ 
পাইয়া দস্থ্য হইয়াছে-_চেষ্টা করিলে ইহাকে কুপথ পরিত্যাগ 
করান যাঁয়। মনে ভাবলেন, এ আমান প্রাণরক্ষা করিয়াছে 
--ইভাঁর উদ্ধারের উপায় করা! আমার কর্তব্য। যখন ডাক্তার 
বাবু রামেশ্বরকে বলিলেন. "তুমি কে? কেন তোমার এ 
দন্থ্যবৃন্বি ঘটিয়াছে? তোমার বৃত্তান্ত জাঁনিতে বড় কোতুহল 
হইতেছে। মি তোমার কোন আপন্তি না থাকে, তবে 
আমাকে পরিচয় দিয়া পরিতৃপ্ত কর। তুমি আমার জীবন 
রক্ষা করিলে, আমার দ্বারা তোমার কোন অনিষ্ট ঘটিবার 
সম্ভাবনা নাই ।” দস্থ্য বলিল, “আপনিও একবার আমার 
জীবন রক্ষা করিয়াছেন, অতএব আপনার দ্বার! যদি এক্ষণে 
সেই জীবনের কোন বিদ্ব হয়, তাহাতে ও আমার আক্ষেপ নাই। 
এই বল্লিয়৷ আপনার পুর্বপরিচয় 'দিতে আরম্ভ করিল। শেষ 
চক্ষের জল মুছিয্না বলিল, “যদি আমার সন্তান জীবিত থাকিত ? 
নদ তাহাকে আর দেখিতে পাইতাম !*» এই বলিয়া স্তব্ধ 
নং রহিল। আবার তাহার চক্ষু দিয়া অজঅ জলধারা 
ডিতে লাগিল। ডাক্তারও তাহার সঙ্গে কাদিহে লাগিলেন*। 


[৪৮ ] 


পিপি উর পপ পপ ০ শসা আপস আআ পা ক পা সস আপা শপ পাস আপি পি পাপ পপ পস্প্িপপাল 
পি স্পা পাপী নিপা পপি সিপপাপা 


কিয়ংক্ষণ পরে চক্ষের জল মুছিয়া ডাক্তার বাবু বলিতে, 
লাগিলেন । 

“আমি “সই ভাতিগ্রাম চিনি । সেখানে আমি চিকিহস! 
করিতে গিয়া কিছুদিন ছিলাম । আপনার পু দবুগ্ডান্ত সবিশেষ 
আমি সেখানকার নায়েব ও অন্তান্ত লোকের সুখে শুনয়াছি। 
আপনার অদৃষ্ট নিতান্ত মন্দ! সেইজন্য আপনি ভয়ঙ্কর ভ্রমে 
পতিত হইয় সর্ধত্যাগী হইয়! দ্বীপান্তরে গিয়াছিলেন। 

রামেশ্বর বিশ্মিত হইয়া জিজ্ঞাসা করিল “সে কি?” 
ডাক্তার কলিলেন, “আপনি হাটের পথে যে বেশ্তাকে পার্বতী 
মনে করিয়াছিলেন, দন পান্বতী নহে । 

বামেশ্বর বলিল, "না হউক _সম।ন কথা । সে পাঁপিষ্ঠ'ও 
কোথায় বেম্তাবেশে কাঁলকাটাইতেছে 1” 

ডাক্তার বাবু বলিপেন, মাজ্ঞে না । তিনি আপনার শোকে 
পদ্মার জলে ঝাঁপ দিয়াছিলেন । 


রামেশ্বর এ কথায় অশ্রদ্ধা করিয় হাপিয়। উঠিলেন । 
ষে প্রকারে হউক, ডাক্তার বাবু প্ররুত বৃভাম্ত অবগত 
ছিলেন! নায়েব ও দারগার পরামর্শ হইতে পাব্বধতীর পদ্মাকস 
নিমজ্জন পর্যন্ত, প্রকৃত কথা রাখেশ্বরের নিকট লবিক্তাকে 
বলিলেন । শুনিয়া) রামেশ্বর আপন যচজ্ঞাপবীত বাহির করিক়া 
ডাক্ষার বাবুর হাতে জড়াইয়। দিয়! বলিলেন, “আমাকে প্রহা- 
রণ করিও ন1-শপথ করিয়া! বল, একথা! কি সত্য ? মিথ্য, 
বল, তবে ব্রহ্মহত্যায় পাপী হইবে»-এসকল কথা কি সত্য ? «এ 
ডাক্ার বলিল, '“এ সকপ কথাই সত্য ।* হ 
* তথন রামেশ্বর ধীরে ধীদ্জে সেই চন্দ্রকরোজ্জল কোমল 


|) ৪৯] 


সী এ ৯ পপ এপ পাপ পি পপ অপশন জীপ শা তত ৮ শত ৯ এপ আপ বশ উপ | 9০5 তি কারও 





পুশ্পশোৌভিত ভীরভূমিতে উপবেশন করিলেন । দুই করে মুখ 
মণ্ডল আঁবুত করিলেন। ক্রমে তাহার দেহ কাপিয়া উঠিতে 
লাগিল-_ক্ষণকাল পরে রামেশ্বর, ভূগিতে লুঠাইর “পার্ধাতি 
পার্বতি !” বলির উচ্চৈঃস্বরে রোদন কৰিতে লাগিলেন । 
তাহার অসহ্ যন্থণা দেখিয়াই ডাক্তার বাবু তাহাকে নাস্বন। 
করিয়!, হাত ধরির। উঠাইলেন ;) বলিলেন । 

“অ'পনি কাদদবেন না। এই ছঃখের স:যে আপনাক্ষে 
আমি একটি সুসংবাদ দিব। আপনার পুক্র মরে নাই 1৮ 

রামেশ্বর বিদছ্যদ্বৎ বেগে দাঁড়াইয়া! জিদ্ঞাস! করিলেন, 
“আমার ছুল'ল জীবিত আছে? শাপ্ব বলসে মামার কোথায় £? 
“আপনার পুত্র আপনার পাঁদমূলে । এই বলিয়া! ডাক্তার 
বাবু রামেশ্বরের পদতলে পড়িয়া অশ্রবর্ধণ করিতে ল'গিলেন ॥ 
রামেশ্বর প্রথমে কিছুই বুঝিতে পান্িল না) ক্রমে বুঝিল । 
ছুই হস্তে সন্তানের মুখ তুলিয়া দেখিতে লাগিল) চক্ষের জলে 
কিছুই দেখিতে পাইল নাঃ তখন সন্তানের মস্তক বুকের উপ 
চাপিয়! ধরিয়। কাদিতে কাদিতে বলিতে লাগিল, “সত্যই বটে 
এই আমার আনন্দছুলাল।” ক্ষণেক বিলম্বে পিতাঁর বক্ষ হইতে 
মাথ! ভুলিয়া সন্তান বলিলেন, “আপনি এই পান্বিতে চড়িয়' 
আমার গৃহে চলুন, কি প্রকারে আমি প্রতিপালিত হইলাম, 
এবং লেখা পড়া শিখিলাম তাহার বিস্তারিত পরিচয় দরিব।” 

রামেশ্বর বুঝিলেন। তিনি এক্ষণে পুজ্রের সঙ্গে গেলে পুক্রকে 
পদব্রজে ধাইতে হইবে । অতএব বলিলেন । 

“তুমি আগে চল। আমাকে তোমার খাঁড়ীর ঠিকান! 


বলিয়৷ দিয়। যাও, আমি কাল প্রাতে পৌছিব |, আনন্দ- 
& 


শপ ৪ কা ও 


টাল "পপ পা পশপিশপপ শা শত ২ পিপি পিপিপি প ৮৮০ পপ এপপেশ্সী পিপিপি | ৯ পপি স্পেশাল পাপাশিপিলতপ শা জা 


ছলাল বিশেষ অন্ুত্রোধ করাতেও রামেশ্বর শুমিলেন না, 
সুতরাং পুল্র অগ্রসর হইলেন। রামেশ্বর সেই নদীতটে বসির! 

সাধ্বী পাঁকতীর জন্য রোদন করিতে লা'গলেন। 

পরদিন প্রাতে রাষেশ্বর পুতভ্রর ভবনে উপস্থিত হইয়!) 
পু্রকে পুনরপে আলিঙ্গন করিলেন? সেই সময়ে অদ্ধীব- 
গুগনাবুতা এক আ্রীলোক আসর বাষেশ্বরের পায়ের উপর. 
[ছ্ড়াইয়া পড়িত্া উচ্চৈম্বরে কাঁদিতে লাগিল । কগনম্বর 
শুলিয়াই রামেশ্বর চমকিল--এ কার গলা: ছুই হাতে তাহাকে 
তুলধা নিরীক্ষণ করিয়া চিনিলঃ ভূপতিতা--পার্ধতী ! 

তপন রামেশ্বর পুজের দিকে মুখ ফিরাইয়া বলিলেন, স্‌ 
[ক ' ভুদি দে আমাকে বলয়াছিলে, ভোমার্‌ মানা পন্মায় ডুবি, 
ছিলেন ।” 


রী 


আনন্দছলাল বাঁললেন, “'আঘি সত্যই বলিয়াছি। মা 
পন্য ঝাপ দিরান্রিলেন কিন্ত মবরেন নাই--জালিয়ারা ভালঘু! 
(চুল । দেল্কল কথ! পশ্াহ শ্বানতবিল।।? 
তখন তিনজন, একে আহ্লাদে রোদন করিতে করিতে 
স্ববঞ্ধা্ত বিরত করিয়া পরস্পরকে শ্বনাইতে লাগিলেন । 


ল 


দামিনী | 


€ কিন্ত চি রন কন মন কাদা সু এ 

টন ক. রর * সু রর + পু 
পি রনি রঃ তে ৯৮০ ৮০৬ ৮ ক সন ৬ জা 
178 2 না এ? ক সি রা 


মি সাধ টি রর ০ পি রং হি 
সরয়ার মনে ০ 
1 
স্টহ ৪; 


(8482 এ, ১ ২ শা ইসিও মিড উর 


. নাল 
পথম পা রি্ছেদ | 


দিক ভাগাবুণী তীরে দীড়াইরা অনিষেষ লৌোটচিনে দাশ 
প্ীডিত দীপমাল! দেবিতে দদখিতে পশ্চাদ্বতিশী এক বৃদ্ধা 
বলল “আস । আমার দীপ ভাসিরা গেল | আবী উল 
করলেন “তা নাক, এখন তুমি পরে চল, অন্ধকার হইল |) 
“মার একটু দেখি” খলিষ। বালিকা! দাড়াইয়া রিল । 
বালিকাটির নাম দামিনী। বৃদ্ধা মাতামহীনাতীত দাঁমিনার 
আর কেহই ছিল না; সেই মাতামহীর সঙ্গে আসিয়া দাদিনা 
এই প্রথমে দীপ ভাঁসাঁইল ; দীপ ভাসিঘ্া গেল। অন্য বালি- 
কার গ্টান্ম দ্রামিনী হাসিল না; অন্য বালিকার গ্তাঁষ *'8 


আমার দীপ যাইতেছে” বলিষা আহলাদে সঙ্গিনীকে দেখাইল 


৫2 

ন:ঃ; কেবল গভীরভাবে একদছটিতে সেই দীপের প্রতি চাহিয়। 
রহল। 

সেই অক্ল নদীতে দামিনীর দীপ একা ভাসিয়। চলিল। 
দাঁমিনীর দীপ দাঁমিনী আপনি ভাঁসাইয়াছে, এক্ষণে আর উপায় 
লাই আসতএব কাতিব অস্থবে দাঁমিনী বলিতে লাগিল “ভে 
ঠাঁকুল 1 আমার দীপকে রক্ষা কর ।” 

অন্ধকার ক্রদে ঘপীভূত হইতে লাগিল দেখিয়া, মাতামহী 
দামিনীকে গৃহে লইহা উলিলেন। দামি গন্টীর ভাবে কেবল 
দিপেব গতি ভাঁবিতে ভাবিতে গৃহে গেল প্রাঙ্গণপাশ্থে একটি 
কলসে জল ছিল: দাঁমিনী সেই জলে আপন ক্র পদদ্বয় ক্ষুদ্র 
ক্াদ অহ্ছলি দ্বার] প্রন্মালন কনিরা শরন ঘরে প্রবেশ কতিল। 
শল্ন মাত্রেই নিড্রা আসিল | নিদ্রায় স্ব দেখিতে লাগিল, 
শেন মেঘ অন্ধকারে 'ভারি ভইয়। নদীর উপর নামিয়া পড়িয়াছে। 
'ঈ মেঘ “দখিনা দাঁমিনীব দীপ যেন ভয়ে অন্প অল্প জলিতে 
জলিতে পলাইভেছিল, এমত সময় পহনোন্বথ ভয়ানক ভয়ানক 
রঙ্গ আসিয়া তাহান চারিদিকে দেবিল। খ তরঙ্গের মধো 
একটির চড়ার উপর গন্ভীর ভাঁনে একট বিড়াল বসিয়া আছে। 
নামিনী চিনিল যে, সেইটি তাঁহাদের পাড়ার দুরন্ত বিড়াল; 
£সট তাঁহাকে দেখলেই নখাদঘাত করিতে 'আঁসিত । দামিনী 
ততৎকর্ডক আক্রান্ত হইলে কেবল চক্ষু মুদিয়া চীৎকার করিস, 
কখনও পলাঁইতে পারিত না। এক্ষণে তরঙ্গটুডায় সেই 
বিড়ালকে দেখিয়। দাঁদিনী ভয়ে মাঁতামহীর অঞ্চল ধরিয়! চক্ষ 
দু'দল । বৃদ্ধা যেন ক্রুদ্ধ হইয়া! আপন অঞ্চল ছাঁড়াইয়া লইয়া 
দামিনীর ক্ষুদ্র দেহ সেই অগাধ জলে ঠেলিয়া ফেলিয়া দিলেন। 


ক্)) 


[1৫৫ | 
দামিনী চীৎকার করিয়া উঠিল। মাঁভাঁমহী “ভক্ব কি? 
বলিনা নিণ্রত দামিনীকে ক্রোড়ে টাঁনিয়া লইলেন। দাঁমিনী 
নিদ্রা ভঙ্গে “আমার মা কোঁথায়”” বলিয়া বাদিতে লাগিল। 
অভাগিনীর মা ছিল না; তিন বৎসর পুর্বে তাহার মাহ! 
নিকদ্দেশ হইয়াছিল। 
পর দিবস প্রাতে দ্বাদশ বর্ধীয় একটি বাঁলক পাঠশালাঙ়্ 
যাইতেছিল : দাঁমিনীর গহ্দ্বারে দাড়াইয়! পক্ষিশাবকের নিমিত্ত 
পতল সংগ্রহ হইয়াছে কি না, জিজ্ঞাঁনা কবিল। দাঁমিনী একা 
বসিনাডিল, বালকের প্রশ্নে কেবল মাথা! নাঁংড়য়া উষ্ভর দিল। 
+লক মগ্রসর চইয়। জিজ্ঞাসা করিল,আর হইঘাঁছে কি ? দামিনী 
আবার মাঁথ! নাড়িল। বাঁলক বলিল আদ্ির উপর রাগ করি- 
যাঁছ? দামিনী কোন উত্তর দিল না। বালক বক্্রাগ্র হইতে 
কতক গুলিন পতঙ্গ দানিনীন্‌ নিকট বাঁধিয়া চপিয়া গেল । 
বাঁলকটির নাঁম রমেশ । দাঁমিনীঞ্ সঙ্গে কোন সম্বন্ধ ছিল 
না; প্রতিবাসী বলিয়া দর্পিমনী তাহাকে রমেশ দাদ! বপিয়া 
ডাকিত। দ্ামিনী রমেশের বড় অন্বগত ছিল । যে বিড়ালটিকে 
দামিনী বড় ভয় করিত, রমেশ তাহাকে দেখিলেই মারিত। 
গানের সময় রমেশ শোতে সম্তরণ করিয়। দ্ামিনীর নিমিত্ত পুষ্প 
ধরিয়া আনিত 7 দামিনী তাহ! লইয়া হাসিতে ভাসিতে কেশে 
পরিত। পরা হইলে মাঁথা নামাইয়া জিজ্ঞাস করিত “রমেশ 
দাদা দেখ, হয়েছে ?” রমেশ প্রায় ভাল বলিত, আবার মধ্যে 
মধ্যে মনোনীত না হইলে আপনে পরাইয়। দিত । রমেশ জানিত 
ষে গ্রামের সকল বালিকার অপেক্ষ! দামিনী শান্ত আর দুঃখিনী। 


আর দামিনী ভাঁবিত যে গ্রামের সকল বালক অপেক্ষা রমেশ- 


| ৫৬ ] 

দাদা তাহার “মাপনার জন।”” আর কেহ ততাহার জন্য 
ফুল কুড়ায় না. পতঙ্গ দরে না, বিড়াল মারে নাঁ। এই জন্ত 
রমেশ দাদাকে দেখিলেই দামিনী দৌড়িয্| নিকউ যাইয়া! দাঁড়া 
উতত। হানিতুখে গপকল কথার উত্তর দিত। কিন্তু এই দিন 
শমেশকে দেবিয়। আর পুন্বান্ুকপ আভ্লাদ প্রকাশ ক'রল না। 
দমনী শৈশবে গশ্থীর হইফাছে। 

দাঁনিনী শৈশবে এত গন্ীরপ্রক্ৃতি কেন? যে সী, সে 
চঞ্চল, যে দ্ুঃদী দেই শান্ত, সেই ধীর, সেই গন্তীর। এক 
দরুণ ছুঃখে দামিনী এই খৈশনে কাতকা! দ্রামিনীর মা কোথা? 
ত্রাহার ম! কি মরিয়াছেন ? তা হইলে “লোকে বলে না কেন ! 
পাড়ার সকল ছেলে, মার কোলে শোয়, মার হাতে খায়, মাঝ 
কথা শোনে, মার মুখপানে চাস, মার সঙ্গে গল্প কবে, মার সঙ্গে 
কোন্দল করে, মার কাঁছে দেরান্ম্য করে, দাঁমিনীরই কপালে 
এই মকল হলো না কেন? আমী আছে -আদী বেশ --মার 
মত ভাল বাসে-তনু মা! মার আগর কেমন! তিন বৎসর 
বয়দে দামিনী ম| হারাইয়াছিল. দামিনীর মাকে একটু একটু মনে 
পড়ি ।--একটু* একটু-_কেবল ছায়াটি-কেনল একখানি 
শনীর আর একখানি মুখ--তাঁতে আল্লাদ আর হাঁমি--যেমন, 
ফে বাল্যকাঁলে দুর্গোংসব দেখিয়াছে আর কখন দেখে নাই-- 
ভাহার যেমন প্রৌটাবস্থায় সেই ছুর্গা প্রতিমা মনে পড়ে, দামি: 
নীর তেমনি মাকে মলে পড়িত। দাঁমিনী কত সময়ে মনে মনে 
মাকে গড়িত--বমনে, অলঙ্কারে, মনে মনে সাঁজাইত,--তাহার 
উপর হাসিতে, আদরে, প্রতিমার সর্ধাঙ্গ ভরিয়া সাজাইত -_- 
সাজাইকসা মনে মনে মা! মা! মা! বলিয়া? ডাঁকিত ! 


রসি 
+্/ 


রী 


| &৭ ] 

আজি মার কথা ভাবিতে ভাবিতে, মার কথা, দীপের কথা 
ন্বপ্লের কণ।, বমেশের কথা, সব কেমন মিশাইয়া মনের ভিতর 
গোলমাল হইল । দামিনী তাবিল; মরি ত বেশ হয়। 


শি 


দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ । 


দশ বৎসর পরে আর এক দিবস অপরাহে একটি ক্ষুপ্র 
শয়নগৃহে দামিনী একা! শয্যারচন। করিতেছিলেন। পশ্চিম 
দিকের ক্ষুদ্র বাতায়ন দিয় সূর্য্য কিরণ শয্যায় পড়িয়া দামিনীর 
মুখকমলে প্রতিবিষ্িত হইতেছিল। তাহার নাসাগ্রে এবং 
কপোলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঘর্দবিন্দু ক্ষুদ্র মুক্তীরাঁজির স্তায় শোভা 
পাইতেছিল। দামিনী একখানি সিক্ত গাত্রমাজ্জনী লইয়া 
গাত্রমাঞ্জনা আরম্ভ করিলেন । 

দামিনী আর ক্ষুদ্র বংলিক্ষা নাই 7) এক্ষণে সপ্তদশ বর্ষীয়! 
যুবতী। তাহার সর্বাঙগ এক্ষণে সম্পূর্ণত। প্রাপ্ত হইয়াছে । 
শরীরের গুরুত্বান্ুরূপ আবার অঙ্গচালনার গাভীর জন্মিয়াছে। 
দাষিনী শ্বভাবতঃ গৌরাঁজী, এক্ষণে সেই বর্ণ অপেক্ষাকৃত নির্ল 
হইয়াছে । 

গাত্রমার্জন সমাধা করিয়া দামিনী একখানি দর্পণ তুলিতে- 
ছিলেন, এমত সময়ে প্রাঙ্গণ হইতে একটি স্বর তাহার কর্ণে 
প্রবেশ করিল। দামিনী অমনি চঞ্চল হুইয়া দর্পণ ফেলিয় দ্বারে 
যাইয়া দাড়াইলেন। বালিকাবয়সে ধাহারে দামিনী রমেশ 
দাদা বলিকেন, চিনি প্রীঙ্গণে দীড়াইয়া আপনার বিমাতার 


৫৮) ] 





৯ পপি পাস পালিত পপ পপি | শা ৩৯ 


সহিত কথা কহিতেছেন। তাহার প্রতি সন্নেহচ্'তোহার জন্গ 
চাহিয়। রহিলেন । -৯ জন্য 
রমেশ দামিনীর স্বামী ; দামিনীর সর্বস্ব । 
কথা সমাধা হইলে রমেশ আপন শয়নকক্ষে প্রবেশ করিলেন। 


শয্যায় ছুই একটি পুষ্প পড়িয়া আছে দেখিয়া দামিনীকে 
বলিলেন “কোঁন চোঁরে আমার নামাবলী থেকে ফুল চুরি, 
করেছে রে?” 

দামিনী বলিল, “খন বরেছে, উনি ফুল এনে নামাবলীতে 
বেঁধে বাখতে পারেন, আর লোকে চুরি কর্তে পারে না? খুব 
করেছে চুরি করেছে ।” 

রমেশ বলিলেন, খুব করেছে বই কি? চোরকে একবার 
ধরিতে পাঁরিলে বুঝিতে পারি ।” 

চোর আসিয়া ধরা দিল। 

রমেশ ছুই হস্তে দাঁমিনীর ছুই গাঁল ধরিলেন ; দুই করে 
দাঁমনীর দুই কর্ণ আবরণ করিয়া মুখখানি তুলিয়। ধরিয়া দেখিতে 
লাগিলেন। দামিনী রমেশের ছুই বাহু ধরিয়া উর্ধীমুখে রমেশকে 
দেখিতে লাগিলেন । দেখিতে দেখিতে বলিলেন “আমার 
সর্বন্থ।” দাঁমিনীর চক্ষু অমনি জলে টা আদিল) দামিনী 
কান্দিয়া উঠিলেন। 

রমেশ দামিনীকে ছাড়িয়া দিয়া ভগ্নন্বরে বলিলেন, “তুমি 
কি নিত্য কাদিবে?” দাষিনী চক্ষু মুছিতে মুছিতে বলিলেন, 
“ভুমি নিত্য আদর কর কেন?” 

এই সময় দ্বারের পার্খে ঘন ঘন নিশ্বাসের শব্দ হইয়া উঠিল। 
যেন মাঁর এক জন কেহ কাঁদিল। দামিনী ও রমেশ উভয়ে 


০১১১ 


[ ৫৯ ] 


বাপ উপ এ. শক আগ আস ঈ এ+ পাপী টপ পপি ০ ২ শি জপ পক পা পা 





আঁ মারুদিকে দেখিতে গেলেন । দেখিলেন, একজন 
বপ্নের্/নু্তা অদ্ধ বয়স্কা স্ত্রীলোক অঞ্চল দরিয়া চক্ষু মুছিতে মুছিতে 
চলিয়া যাইতেছে । দামিনী তাঁহার সঙ্গে সঙ্গে গেলেন; 
বহিদ্বর পধ্যন্ত দ[মিনী গেলে স্ত্রীলোক্টি ফিবিসী। দাীড়াইল। 
হঠাৎ তাহাকে উন্মাদিনী বলিয়। বোধ হইল। দেখিয়!, 
“দামিনীর যেন কি মনে পড়িল--কিস্ত কি মনে পড়িল, তাহা 
স্থির করিতে পাঁরিলেন না । উন্মাদিনী হঠাৎ দাঁমিনীর গল 
ধরিয়া, তাহার বক্ষে মাথা দিয়! 'মা! মা! বলিয়া কাদিতে 
লাগিল--কত কি বলিল--কত আীব্বাদ করিল.--দামিনী কিছু 
বুঝিয়! উঠিতে পারিলেন না,-কিস্ত/তিনিও কীদিতে লাগিলেন। 
কান্না দেখিলে কান! পায় বলিপা, কি কেন--তাহ! জানি না। 
দামিনী ধীরে ধীরে উন্মাদিনীর আলিঙ্গন হইতে আপনাকে 
বিমুক্তা করিয়! জিজ্ঞাসা করিলেন, 
“গা তুমি কে গ1?” 
উন্মা্দিনী, কিছু বলিল না, “মা মা!” বলিয়া কাঁদিতে 
লাগিল, দামিনী বলিলেন, 
“কীাদিতেছ কেন ?” 
উন্মাদিনী জিজ্ঞান৷ করিল, 
“তোমার মা আছে ?” 
দামিনী কাদে কীদো হইয়। বলিলেন, “বিধাত। জানেন,” 
রূলিয়াই কীদিতে আরস্ত করিলেন । 
পাগলী বলিল, 
“দেখ তোমার মার নামেই তুমি কাদিতেছ_মামি আনি 
জামার মা পাইয়াছি--আমি কাঁদিব না?” 


[৬১ ] 


পপ পসরা পাইথন 





সপানপপিক পক 





এ আট ৯৩ 2 ভি পতি পেশ পপ পলা পাশাপাশি পা তশপাশিশ লীতপী | তি 


একটি কথা সহসা বিছ্াতের মত দামিনীর মনের ভিতর 
চমকিল”-“এই আমার মা নয় ত ?+ 

হা সেই তমা। দাঁমিনীর মা শ্বামীর শোকে পাগল হইয়া 
পলাইয়াছিল। কোথায় গিয়াছিল, কোথায় ছিল, তাহ! কে 
জানে? দিনকত ভৈরবী হইয়া ত্রিশূল ধরিয়া বেড়াইয়াছিল | 
আবার বহুকাল পরে, সংসার মনে পড়িল--দামিনীকে দেখিতে 
আদিল-_লুকাইয়া দামিনীকে দেখিতেছিল । দামিনীর মনে 
হঠাৎ উদয় হইল--*এই আমার ম1 নয় ত?” 

এমন সময় পশ্চাৎ হইতে রমেশের বিমাতা ডাকিলেন। 
ঘামিনী চমকিয়া ফিরিলেন। যেখানে পাগলী দাঁড়াইয়াছিল, 
সেদিকে আবার দেখিলেন ; পাগলী চলিয়। গিয়াছে । একবার 
ভাবিলেন তাহার অনুসরণ করি; ছুই এক পদ অগ্রসর হইলেন। 
আবার কি ভাবির! ফিরিয়া! আমিলেন। রমেশ জিজ্ঞাসা করিলেন 
“ন্দ্রীলোৌকটি কে ?” দামিনী অন্যমনে মুদুভাবে ভাবিতে ভাবিতে 
উত্তর করিলেন “পাগল ।”” 

রমেশ আর কোন কথ! না বলিয়া বহির্বাটাতে গেলেন । 
্ামিনী শয়নঘরে প্রবেশ করিয়া বালিশে মুখ লুকাইয়! নিঃশবে 
কাঁদিলেন। ছুই একবার অস্ফটস্বরে মা বলিয়া ডাকিলেন। 
শৈশবে মা হারাইয়াছেন, সেই অবধি মা বলিয়া! ভাকেন নাই । 
এক্ষণে পাগলের কোলে মাথ। রাখিয়া কাদিতে বড় সাধ হুইল । 
দামিনী বালিশে মুখ লুকাইয়া কত কাঁদিলেন। 





1. ৬৯ |] 





পাকি 


তৃতীয় পরিচ্ছেদ । 


যে গ্রামে রমেশ বাস করিতেন, তাহার দক্ষিণ প্রান্তে ভাগী- 
বথীতীরে একটি ভগ্ন অট্টালিক! ছিল। প্রবাদ আছে পুর্বকাঁলে 
এক রাজা আপন মাতার গঙ্গাবাসের নিমিভ প্র অট্টালিকা 
প্রস্তুত করাইয়াছিলেন, কিন্তু কোন দৈব ঘটনায় & অষ্টালিকায়্ 
একটি স্ত্রীহত্য। হওয়ার রাজার মাত! উহ! পরিত্যাগ করেন । 
সেই পর্য্যস্ত কেহ তথায় বাস করে নাই। অগ্রালিকার ক্রমে 
ভৌতিক অপবাদ জন্মিল। শেষে দিবাভাগেও কেহ এ অষ্টা- 
শিকার নিকট দিয়া গতিবিধি করিতে সাহস করিত না । 

পাগলী দেখিল যে এই ভগ্নানক ভগ্র অট্রালিকা তাহার 
বাসোঁপযোগী। অতএব গোপনে তথায় বাস করিতে লাগিল । 
দ্ামিনীর সহিত সাক্ষাৎ করিয়া পঁগলের অনেক মতিস্থির 
হইয়াছিল ; তথাপি মধ্যে'মধ্যে দাঁমিনীকে চুরি করিয়া এই 
গোপনীয় স্কানে আনিয়া এক! দেখিবে এই মনে মনে স্থির 
করিত। আবার পরক্ষণেই ইহার অকর্তব্যত! বুঝিতে পারিত | 
পাছে চাঞ্চল্য প্রযুক্ত আত্মপরিচয় দিয়! জামাতার কলম্ক রটায়, 
এই ভয়ে আর দামিনীর বাটীতে যাইত না । এক ভগ্ন অষ্রালি- 
কায বসিয়। আপনা! আপনি উদ্দেশে দামিনীকে আদর করিত, 
দামিনীকে কিন্ধপে রমেশ আর্দর করিতেছিল আবার তাহাই 
ভাবিত । 

একদিবস রাত্র ছুই প্রহরের সময় পাগল নিপ্ধ গরঙ্গাজলে 
অবগাহন করিয়া ভগ্ন অট্টাপিকার ছাদের উপর বসির 


তা 


[ ৬২.) 


এ 
০০৯১ ০ সি পপি 


অন্ধকারে কেশ শুফাইতেছিল। কেশরাঁশি নানাদিকে নানা- 
ভঙ্গীতে তুলিতেছিল, ফে লতেছিল। এমন সময়ে পৃর্থদিকের 
অশ্ব বৃক্ষমূলে হঠাঁৎ এক অশ্বের চীৎকার শুনিতে পাইল। 
দক্ষিণকরে কেশগুচ্ছ ধরিয়া অতি তীক্ষ দৃষ্টিতে বৃক্ষমূল প্রত্তি 
চাহিয়া রহিল। দেখিল ক্রমে দুই একটি মসাল জালিত 
হইঈল। গ্রেবং তর্দালোকে কতকগুলি অস্ত্রধারী সৈনিক আর 
এক অশ্বারোহী পুরুষ দৃষ্ট হইল। পাগলী প্রথম ভাঁবিল 
ইহারা ডাকাইত) পাছে ইহারা আমার দাঁমিনীর ঘরে ডাকাতি 
করে এই আশঙ্কায় দ্রুতবেগে ছাদের উপর হইতে অবতরণ 
করিয়া ডাঁকাতদ্িপগর নিকট যাইতে ইচ্ছা করিল। ফিরিয। 
ঝটিতি গৃহে আসিয়া ভৈরবীবেশ ধারণ বরিয়া, করাল 
ত্রিশ্ল হস্তে লইম্জা সদর্পে চলিল। কথঞ্চিং নিকটবর্ভী 
ভইক্বা একখানি পাঁন্ধি দেখিয়া ভাধিল, ইহ্ণরা ডাঁকাত নহে, 
'কাঁতের সঙ্গে পাঁন্ধ থাকে না। ইহারা বরযাত্রী হইবে । 
পাগল তাহাদের সঙ্গে চলিল। দ্াযিনীর বিবাহ সে দেখিতে 
পায় নাই, অতএব বিবাহ দেখিব মনে করিয়া পরম আহলাদ- 
পূর্ধবক পাঁক্ির সঙ্গে সঙ্গে চলিল। অন্ধকারে তাহাকে কেহই 
প্রথমে দেখিতে পায় নাই, শেষ কতদুর গেলে একজন শিবিকা- 
বাহক তাহাকে দেখিয়া কষ্টভাবে জিজ্ঞাসা করিল “কেরে তুই 
গ্রমত সময় আমাদের সঙ্গে যাইতেছিস ?* পাগল উত্তর করিল 
“আমি তোমাদের সঙ্গে বিবাহ দেখিতে যাইতেছি, তোমাদের 
সঙ্গে বাঁদ্যকর নাই কেন ?” 


বাহক উত্তর করিল এবড় ভয়ানক বিবাহ, .এ বিবাহে বাদ্য 
গ্াকে না। পাগল একথায় মনোনিবেশ না করিয়া আপন 


০ পাপ পপি পপ প্র 
্স্মস্পপসপাাপ া উউ ওপবপা্ 
জি 
চে 


ইচ্ছান্ুরূপ জিজ্ঞাসা করিল “কাহার বাড়ীর বর, কাহার 
বাড়ির কনে 6” বাহক কহিল “হিন্দুর কনে মুসলমানের বর 1” 
পাগল উত্তর করিল “মিছে কথা ।” বাহক দেখিল যে স্ত্রীলোকটি 
পাঁগল অতএব তাহার সঙ্গে রঙ্গ করিতে লাগিল। “কে বর ?” 
এই কথ! উন্মা্দিনী পুনঃ পুনঃ জিজ্ঞাঁসা করায় বাহক অশ্বারো- 
, হীকে দেখাইয়া দিল। উন্মা্দিনী দেখিল অসম্ভব নহে, বয়ন 
অল্প, জরির কাপড় পরিধান ।. আর কোন না শব করিয়। সঙ্গে 
চলিল। “* 

সঙ্গীিগের পরিচয় দিতে বাহকের প্রতি বিশেষ নিষেধ 
ছিল কিন্ত সে নিষেধ তাহার পক্ষে ক্রমে ভার হইয়! উঠিতে 
ছিল। পাগলীকে পাইয়া বাহক মনে করিয়াছিল যে সে 
ভার নামাইবে কিন্তু পাগলী আর কোন কথা জিজ্ঞাসা না 
করায় তাগার আঁশ! পরিতৃপ্ধ করিবার ব্যাঁধাত জন্মিল। শেষ 
বাহক পাগলীকে বলিল, তুমি স্ত্রীলোক আমাদের সঙ্গে 
যাওয়া ভাল নহে, এখনই কাটাকাটি হইবে অতএব তুমি 
পালাও। পাগলী বলিল, বিবাঁহ শুভ কর্ম্ম, ইহাঁতে কাটাকাটি 
হুইবে কেন? বাহক উত্তর করিল এব্যাপার বিবাহের নহে; 
যিনি তাজ পরিয়।৷ তরবারি লইয়া ঘোড়ার উপর যাইতেছেন 
উনি আঁমাঁদের ফৌজদারের পুভ্র। এই গ্রামে একটি অদ্ভুত 
সুন্দরী আছে শুনিয়া তাহাকে কাড়িঘ্া লইতে যাইতেছেন ; 
তাঁই বলিতেছিলাম কাটাকাটি হইবে। 

পাগলী শিহরিয়া উঠিয়া জিজ্ঞাসা করিল কাহার কন্ত 
ইয়। যাইবে? বাহক বলিল আমি সবিশেষ জানি না, শুনি- 
স্বাছি কোন ভট্টাচার্যের পুত্রবধূ; যুবতীর স্বামী নাকি অধ্য 


[ ৬৪" ] 


কয়েক দিন হইল শিষ্যালয়ে গিয়াছে । ন্থন্দরীর নাম বুঝি 


দামিনী। 
এ কথাই শুনিবামাত্র পাগলী ফণিনীর ন্যায় বাহকের সম্মুখে 


দাড়াইয়! পথরোধ করিল; দক্ষিণ হস্তে ত্রিশূল তুলিল। সে 
মুর্তি দেখিয়া বাহক ভয়ে বপিল, আমি দরিদ্র বাহক পেটের 
জালা সকল করি) আমাকে মারিলে কি হইবে ; আঁমি হিন্দু, 
অতএব হিন্দুর অত্যাচার আমার, ইচ্ছ! নয়। এক্ষণে গোল- 
যোগ করিলে এই যবনেরা তোমাকে থণ্ড থণ্ড করিয়া! ফেলিবে 
অতএব আমার পরামর্শ শুন। তুমি অন্ত পথ নিয়া দ্রুত যাইয়া 
গ্রামবাসীদ্দিগকে জাগ্রত কর ; সকলে একক্র প্রতিবন্ধক হইলে 
সফল হইতে পারিবে, নতুবা আর উপার নাই। 

পাগলী শুনিবামাত্র ছুটিল; গ্রামের মধ্যে যাইয়া দ্বারে 
দ্বারে চীৎকার করিতে লাগিল, বলিতে লাগিল, হিন্দুর 
হিন্দুত্ব ষাঁয় সকলে উঠ; সভীর সতীত্ব যায়, একবার সকলে 
উঠ। অদ্দিতি ভট্টাচার্যের সর্বনশ'হয়্ একবার সকলে উঠ। 
ফৌজদারের পুজ আসিয়া! তাহার পুত্রবধূকে হরণ করে একবার 
সকলে উঠ। 

কেহই উঠিল না। কেহ বলিল “যাউক শন্র পরে পরে ।” 
কেহ বলিল “পরের নিমিত্ত মাথা দিবার আমার কি প্রয়োজন 
গড়িয়াছে ?”” কেহ বলিল “অদ্িতির সর্বনাশ হয় যদ্দি তাহাতে 
আমার কি ক্ষতি ?+ 

ক্ষতি আছে। আমর! ভিন্ন তাহা অপর দেশীয় সকলে 
বুঝে । বিপধ অদ্য আমার কল্য তোমার? অত্যাচার এক 
ঘরে প্রবেশ করিতে পাইবে মকল ঘরে গথ পায় । অগ্নি এক 


[৬৫ ] 


পপ দি সমমপাকা ভক এ সা 





শপ পপথিকলাধা 


'বরে লাগিলে দকল ঘর আক্রমণ কবে । পরের ঘরে অগ্নি যে 
নিবাঁয় কেবল সেই আপনার ঘর রক্ষা করে। এনোঁধ বাঙলা 
হইতে অনেক কাল অন্তসত হইয়াছে অভএব পাঁগলীর্‌ চীৎ- 
কারে কেহই উঠিল না। 
ছুর্ত্ত বনের অত্যানার কেহ নিবারণ করিল না; রমেশের 
“পিতা অদিতি বিশারদ একা, তাহে বৃদ্ধ; দামিনীকে বগা 
করিতে পাঁরিলেন না । যবনের দ্বার ভাঙ্গিক! মুচ্ছিতা দাঁমি- 
নীকে লইয়া গেল। 
পাগন্লী দেখিল কেহই উঠিল না, কেহই সহায়তা করিল 
না। রমেশের পৃহদ্বান্সে আনিয়া! দেখিজ, সকল কুরাইয়াছে , 
দামিনীকে লইয়া গিয়াছে । তখন পাগলীর কপোল মধো 
যেন অগ্নি জলিয়! উঠিল। পাগণী পুর্বধতন উন্মত্ত হউয়া 
সিংহীর ন্যায় ক্ষণেক দাড়াইল। শেষ ত্রিশূল ভুলিয়া! ছুটিল। 
যবনেরা এক প্রাস্তরের মধ্য দিয়! দামিনীকে লইন্বা যাইতে 
ছিল। পাল্ির চারিদিকে অস্ত্রধারী পদাতিক। সব্দধ পশ্চাতে 
ফৌজদারপুত্র অস্বীরোহণে যাইতেছিল। পাগনী বাঁধুবেগে 
তষ্য় উপস্থিত হইয়া ত্রিশূল নিক্ষেপ করিল। ত্রিশূল ফৌজদাব 
্ পৃ্ঠদেশে প্রবেশ করিয়া সন্মুথে ঈষৎ দেখা দিল। 
ফাজদার পুত্রের শরীর প্রথমে ছুলিল, শেষে অশ্বপৃষ্ঠচ্যুত 
মে পড়িয়া গেল। পাগলী বিকট হাসি হাসিল; অশ্ব চম- 
কিয়া উঠিল; পদাতিকের! ফির্রিয়া দেখিল। 
বই পাগলী আবার বিকট হাসি হাসিতে হামিতে ছুটিল। 
.দ্ববামিনীকে আর তাহার স্মরণ হইল না। সেই অবধি পাঁগলী- 
॥কেও আব্ব দেখিতে পাইল না । 


[ ৬৬ ] 


এ পা পাজি 


পদাতিকেরা দেখিল যে ফৌজদারপুভ্র সাজ্ঘাতিক নী 
প্রাপ্ত হইয়াছেন অতএব তাহাকে ধরাধরি করিয়া পাকিতে 
ভুলিল। গান্কি হইতে দামিনীকে ফেলিয়া দিয়া গেল । দামিনী 
এক! প্রান্তরে পড়িয়া রহিলেন। নবপল্লবিত পুম্পিত লতা বৃক্ষ 
হইতে দ্ছড়িয়া পথে ফেলিষ! গেলে যেমন বাতাসে তাহা 
উঙ্গট পালটি করিতে থাকে, প্রান্তরে পড়িয়া দামিনীর সেইরূপ' 
দশা ঘঠিল। বাতাঁমে তাহার অঞ্চল উলটি পালটি করিতে 
লাগিল। 





চতুর্থ পরিচ্ছেদ । 


রাত্রি প্রভাত হইল। বমেশের শিতা. অদিতি বিশারদ 
নামাবলী স্কদ্ধে লইয়া বহির্বাটীতে আসিলেন। প্রাতঃসন্ধ্য' 
হয়নাই; দাযিনী নাই, সন্ধ্যার আয়োজন আর কে করিয়া 
দিবে ? বিশারদ অতি বিমর্ষভাঁবে একা বসিয়া রহিলেন ; ক্রমে 
প্রতিবাঁসিগণ, গ্রামবাসিগণ, আত্মীক্স কুটুম্বগণ আম্মীয়তা কি | 
আসিতে লাণিলেন। কেহ আসিয়া বলিলেন ''কি বিপ' 1) 
কি বিপদ!” কেহ বলিলেন “কথন কাহার কি ঘটে কে রা 
পারে ?” কেহু বলিলেন অদৃষ্টই মূল। অদিতি বিশারদ ইহার; 
কোন কথা:তই উত্তর করিঙ্গেন না দেখিয়! গণেশচন্্র নাঁমে 
অটুনক মধ্যবয়ন্ক স্থলশরীর প্রত্িবাসী জিজ্ঞাসা করিলেন *পুর্বে 
ইহার কোন হচন! ছিল ন1? অর্থাৎ পূর্বে কি মহাশয় কিছুই 
জানিতে পারেন নাই ?” অদ্দিতি বিশারদ ধীরে ধীরে নিশ্বাস 


[ ৬৭ ] 


নিন রতন লি এ 25-১পি- 





৮.০ পিপি 


ত্যাগ করিয়া বলিলেন “যদি পূর্বে জানিতে পাঁরিব তবে এমন 
ঘটিবেই বা কেন? রমেশকেই বা বিদেশে যেতে দিব কেন ? 
এই রাত্রে রমেশ থাকিলে শৃগালের সাধ্য কি যে সিংহের গৃছে 
প্রবেশ করে ?” ্‌ ৰ 

গণেশচন্দ্র বলিলেন “রমেশের প্রয়োজন কি ? আমরাই যে 
আপনার পুলুবধূকে রক্ষ! করিতে পারিতাঁম । তবে কি জানেন 
শকল সময় পাঁহস হয় ন7; যবনের প্রায় বিশজন আমরা এক; 
বিশেষতঃ তখন যদ সদর বাড়ীতে থাঁকিতাম তবে বা হয় এক 
খানা করিয়া বাসতাম। কিন্তু আপনার ছুর্ভাগ্য বশত: অথবা 
রূমেশের ছুরদৃষ্ট বশতঃ আমি তখন অন্দরে শয়ন করিদাছিলীম। 
শয়ন করিলে সহজে উঠা যায় না; তথাপি ব্রাঙ্গণীর কথায় উঠি- 
লম, ভাল করে কাপড় পরিলাম, সেই অন্ধকারে অনুসন্ধান 
করিয়া নন্ত শন্বুক বাহির করিলাম, একটাপ বিলক্ষণ করিয়! 
গ্রহণ করিলাম ; এসকল কার্য্যে নস্ত আবশ্তক। তাঁহার পর 
দেখি আমি ঘন্মাীক্রকলেবর। এসকল কার্ষ্যে ঘন্ম ভাল নহে; 
কি জানি পাছে ঘবনেরা পিছলে পলায় এই মনে করি! গাত্র 
মার্জনী ছারা বিলক্ষণ করিয়া! ঘন্ম পরিক্ষার করিলাম; সকল 
বিষয় এ ককালেম্মরণ হর না; গাত্রমাজ্জনী রাখিলে অন্ত্রের কথা 
মনে পড়েল। আমি বণিলাম পুতির তক্তা আন। ত্রাহ্মণী 
বলিলেন তাহার কর্ম নথে। রং একটি শিশু, আমার সপ্তম 
সন্তান, একটি ইট আনিয়াঁদিল, আমি সেই ইট হাতে করিয় 
ছাঁদে আসিয়া দেখি, ছুবৃত্তেরা তথন ফিরিয়! যাইতেছে ; আমি 
অমনি সেই ইট ছুড়িলাঁম।» 

প্রতিবাদী এইরূপ আত্মবীরত্বের পরিচয় দিতেছেন এমত 


শপ ৭ পপ পাটি এপি পা শপ পপ পপ পলক সী ০ ৯ পাশপাশি পি পশলা "পে পা সস পপ সপ পাস ০৯ 


সময় একজন কৃষক আসিয়! বলিল যে ফৌজদাঁর পুত্র পথে মার 
পড়িয়াছে। কে তাহারে মারিয়া:ছ তাহার স্থির নাই। 
গণেশচন্দ্র আহলাঁদে বলিয়া উঠিলেন তবে সে আমারই ইটে 
মরিয়াছে ; নিশ্চয় বলিতেছি মামিই ধবন যারিয়াছি। আমার 
অব্যর্থ সন্ধান। 
আর এক জন ঈষৎ হাসিয়া বলিল ওন্দপ কথ! মুখে আনা 
ভাল নহে। যিনি মরিয়াছেন তিনি ফৌজদাবের একমাত্র পুল; 
লে পুক্রকে যে মারিয়াছে তাহার 'নদৃষ্টে নিশ্চয় শূল আছে। 
গণেশ অমনি ভয়ে জড়বৎ হইলেন। কম্পাঘিত স্বরে 
বলিতে লাগিলেন আমি উপহাস করিতণ্ছলাম ; আমি তা বলি 
নাই ) আমি কি বলতেছে, কিছু নহে । আমার দ্বারা হাঁকি 
মের অনিষ্ট হইবে, কখন সম্ভব নহে । মামি বরং বলতেছি যে 
এ ডাঁকা ডাফি করেছে তথাপি আমি কথ! কই নাই । রমেশ 
বড় না হাকিম বড়? এই বলিতে বলিতে তিনি পলাইলেন 1 
যে ব্যক্তি ফোজদারপুলের মৃহ্রাসংবাঁদ আনিয়াছিল সে 
অদিতি বিশারদকে বলিল যে মহাশয়ের পুল্রবধূ বাড়ী ফিরে 
আসিতেছেন। এই কথা শুনিবামাত্র বিশারদ সকলের মুখ 
প্রতি চাঁঠিলেন। কেহ কিছু বলিলেন নাঁ। শেষে অন্দতি 
বিশারদ আঁপনিই সকলকে জিজ্ঞাসা করিলেন যে এক্ষণে কর্তব্য 
কি? আমার পুত্রবধূ যবনম্পৃষ্টা হইয়াছেন, এক্ষণে তাহাকে 
শ্রষ্ণ কর! যাইতে পারে ডি না? সকলে উত্তর করিল ষে 
মহাশয় অদ্বিতীয় পণ্ডিত, ইছাঁর ইতিকর্তব্যতা আঁপনিই মীমাংসা 
করুন। অদ্দিতি বিশারদ কিঞ্িৎ ভাবিলেন, শেষে অন্দরে 
যাইয়! গৃহিণীকে জিজ্ঞাস! করিলেন। 


[ ৬৯ ]. 


পপ পা পপ পশিস্সত পক | তি শিশাপিপটী আপস সপ শিপ পপ পপ পবিস 





জপ পপ 


গৃহিণী বলিলেন *“মেই বউকে আবার খরে ? তোমার ইচ্ছা 
হয় তুমি স্বতন্ত্র গৃহে লইয়! সংসার কর।” 

কর্ত। বলিলেন “কেন, তাহার ত কোন দোষ নাই।”, 

গৃ। দোষ তবে সকল আমার? 

ক। না, তোমায় দোষ দিই নাই। আমি জিজ্ঞালা করি 
পুজবধূকে গ্রহণ করিলে কি দোষ হইতে পারে ? 

গৃ। দোঁষ অনেক । প্রথমে লোকে গালে কালি চুণ দিবে, 
ছিতীয়তঃ শিষ্যের! ত্যাগ করিবে, তথন আমার এই শিশু সন্ত. 
নের কি উপায় হইবে? 

ক।._ কেন লোকেরা দোব দিবে ? আমাদের পুত্রবধূ কুল- 
ত্যাগী নহে, ইচ্ছ! পূর্বক যাঁর নাঁই, যবনগৃহেও যায় নাই, পথ 
হইতে ফিরিয়! আসিয়াছে । 

গৃ। কুলত্যাগী নহে? ইচ্ছাপূর্্বক যায় নাই, একথা তোমার 
কে বলিল? তুমি সকল সন্বাদই প্রায় জান। কয় দিবস পর্য্যন্ত 
এক মাগি পাগলের বেশ ধরিয়া যাতারাত করিতেছিল; সে 
দিবস সন্ধ্যার সময় বধূকে লইয়া পলাইতেছিল, আমি যাইয়!| 
ফিরাইয়া আনিলাঁম । ফিরে এসে বালিশ মুখে দিয়া যে আবার 
মেয়ের কান্না! আমি কি সকল কথা তোমায় বলি। তোমার 
পুত্রবধূ যখন দেখিল যে আমি থাকিতে আর পলাতে পারিবে না, 
তখন এই পরামর্শ করিয়া লোক জন আনাইয়া চলিয়া গেল। 

গৃছিনীর বাক্য শুনিয়া কর্তা গ্রবিস্মিত হইলেন, ছুই একবানু 
বলিলেন, “শাস্ত্র মিথ্যা হয় না, স্ত্রীচরিত্র কে বুঝিতে পারে ?” 
শেষে বলিলেন “তুমি যাহা! ব্ধিলে তাহা! আমার বিশ্বীস হইল, 
আমি কদাচ তাহাকে আর গ্রহণ করিব না।” 


| ৭* ] 


শর ক পপ ০ পপ পা পাশ 





পা অপ হা জাপান এ ছা ্ 


অদিতি বিশারদ বহির্বাটাতে আপিয়া সকলকে বলিলেন, 
“আমার ত্রম হইয়াছিল, মনে করিয়াছিলাম আমার পুজ্বধূ 
নির্দোষী । এক্ষণে জানিলাম তাহা নহে; তোমরা আমার আত্মীয় 
তোমা দগের নিকট বলিতে লজ্জা কি? আমার পুত্রবধূ কুলট1। 
অনেক দিন পর্যন্ত গৃহত্যাগ করিয়া যাইতে চেষ্টা করিতেছিলেন। 
কিন্তু গৃহিণীর সতর্কতা হেতু সফল হইতে পারেন নাই । সম্প্রতি, 
আমার এই ঘর দ্বার ভগ্ন হওয়া! সে কেবল আমার কুলবধূর পরা- 
অর্শ ও কোশলে হইয়াছে । সে যাহা হউক যদি তাঁহাকে 
নির্দোবী বলিম্ন। আমরা শ্বীকাঁর করি তথাপি তিনি যে যবনস্প ষ্া 
হইয়াছেন সে বিষয়েত আর সন্দেহ নাই । অতএব শান্্রানুসারে 
ভাহাবে আবু কেমন করিয়। গ্রহণ করি । শাস্তে সকল পাপের 
প্র্মশ্চিন্ত আছে, এ পাঁপেরও অবস্তা আছে কিন্তু বধূকে গ্রহ 
করিলে আর একটী বিপদ আছে। ফৌজদার মনে করিবেন ষে 
আমরাই তাহার পুত্রকে হত্যা করিয়া বধূকে ঘরে আনিয়াছি। 
আঁমিকি? ষেকেহ বধূকে আশ্রয় দ্রিবে তাহারই প্রতি সেই 
সন্দেহহইবে। অতএব আত্মরক্ষা মনুষ্যের প্রধান ধর্ম ; শাস্ত্রে 
তাহার ভূরি ভূরি প্রমাণ আছে। এক্ষণে স্থির করিয়াছি পুত্রবধূ 
গৃহে আমিতে চাছিলে আর আমি তাহাকে স্থান দিব না। 
তোঁমরা এ পরামর্শে কি বল ?”” | 

লকলেই একবাক্যে বলিয়৷ উঠিলেন “এ ভাল যুক্তি করিয়া 
ভ্ুন, আমরাও এই পরামর্শীনুধ্তী হইয়া কার্ধ্য করিব! আমরাও 
কেহ আপনার পুভ্রবধূকে স্থান দিব না) অন্ত কেহ স্থান দিতে 
চাঁহিলে নিবারণ করিব । কেন একট! পাপিষ্ঠার নিমিত্ত গ্রামস্থ 
সকলে বিপদগ্রস্ত হই। বিশেষতঃ কুলটাঁকে গ্রামে স্থান দে ওয়! 


[9১ ] 


সপ পপর ০৬ পপ 





উচিত নহে, এখানে স্থান না পাইলে সে আপনিই অন্তর 
যাইবে 1” 

সকলে এই পরামর্শ করিয়া আপন আগন শৃহ সাবধান 
করিতে উঠিয়া! গেলেন। 


পঞ্চম পরিচ্ছেদ । 


সকলে শ্ব স্ব গৃহে গেলে পর কিঞ্চিৎ বিলম্বে গৃহিণী কর্তাকে 
ডাকিয়া প্রলিলেন “তোমার দেশ উজ্জ্বল মুখ উজ্জ্বল কুলবধু 
আদিতেছেন, এখন কি বলিতে হয় যাইয়া বল।”” ইহ! শুনিয় 
অদ্দিতি বিশারদ খিড়কি দ্বারের নিকট যাইয়া দীড়াইলেন । 
দামিনী সুখ ঢাঁকিয়া অধোমুখে ধীরে ধীরে আসিতেছিলেন, দ্বারে 
শ্বগুরকে দেখিয়। আর থাঁকিতে পারিলেন না কাদিয়া উঠিলেন, 
বড় ষন্্ণা পাইয়াছেন! অন্যপিন হইলে সে ক্রন্দন দেখিয়া 
অদ্দিতি বিশারদ আপনিও কাদিতেন কিন্তু এসময় তিনি কী্দি- 
লেন'না; চক্ষে জল আসিয়াছিল, স্ত্রীর প্রতি অলক্ষ্যে চাঁহিয় 
তাহা সম্বরণ করিপেন। পরে নস্ত শহ্ুক বাহির করিয়! ছুই 
একবার তাহাতে অলির আঘাত করিয়া শেন দীর্ঘ টানে এক 
টিপ টানিয়া চক্ষু মুদিয়! বলিলেন, “বৎসে ! আরম সকল দিগ 
ভাবিয়া দেখিলাম তোমায় আর গ্রহণ করিতে পারি না; তুষি 
যবনস্পৃষ্টা হইয়াছ ; ব্রাহ্মণগৃহে আর তুমি স্থান পাইতে পার ন! 
অভএর স্থানাস্তরে যাও |? এই বলিয়া অদিতি বিশারদ দ্বার 
রুদ্ধ করির! চলিয়া গেলেন দামিনী প্রথমে বুঝিতে পাটুর- 


[ 4২ ] 

লেন ন1) ক্রযে শ্বশুরের প্রত্যেক বাক্য স্মরণ করিয় অর্থ বুঝিলেন 
কিন্তু তাহ! বিশ্বান করিলেন না) ভাঁবিলেন ইহা! স্বপ্ন হইবে। 
ত্বপ্র কিনা স্থির করিবার নিমিত্ত চারিদিগ চাহিয়া দেখিলেন | 
নিকটে তিন্তিড়ী বৃক্ষ, তাহার শুষ্ক ডালে একটি চিল বগিয়! 
আছে? খিড়কি পুক্ষরিণীর কাল জলে ডাহুক সাতার দিতেছে, 
ঘাটের নিকট জলে উচ্ছিষ্ট পাত্র রহিয়াছে; ষে দাদী তাহা! 
জলে রাখিয়া গিয়াছে তাহার জলসিক পদচিহ্ন সোপানে 
স্পষ্ট রহিযাছে। শ্বশুর যে ঘাররুদ্ধ করিয়াঁগিয়াছেন এখনও 
তাহা রুদ্ধ রহিয়াছে । দামিনী একবার সেই দ্বারে হাত দিয়া 
দেখিলেন পরে আপনার গান্রে, চক্ষে হাঁত দিয়! দেখিলেন স্বপ্ন 
নহে-_সকলেই সত্য! গৃহে প্রবেশ করিতে নিষেধ সত্য-- 
দামিনী 'ত্রাহ্মণের অগ্রাহ্া* এই কথা যাহ! শুনিয়াছিলেন, 
তাহাও স্বপ্র নহে। দামিনীর চক্ষে সুর্য নিবিয়! গেল, সকলই 
কন্ধকার হইল, দামিলী পড়িয়া গেলেন। 

ক্ষণকাল বিলম্বে পাড়ার অনেক গুলিন বৃদ্ধা, মধ্য- 
বযস্কা, যুবতী, বাঁলকা সকলে আনিয়া দামিনীকে দিক 
াড়াইল। দামিনী তথনও মতিশ্থির করিতে পারেন নাই। 
বেধান্নে পড়িয়া গিয়াছিলেন সেইখানে নতমুথে বনসিরা একটি 
ছুর্বাদল, নথদ্বারা, অন্মনস্কে ছি'ড়িতে ছিলেন । অন্তমনস্কে 
হউক, আর সমনস্কে হউক তাহার নয়ন হইতে বারিধার! 
বহিতেছিল। 

প্রতিবাঁসীদিগের মধ্যে একটি বৃদ্ধা বলিলেন, “এমনও 
কপাল করে ভারতে এসেছিলে! আহ! কি অদৃষ্ট! কি ছূর্ভাগ্য 1 
ধামিনী ধীরে ধীরে মাথ। তুলিয়! বৃদ্ধার মুখ প্রতি ব্যথিত হরিণীর 


[] ৯৩ ] 


গায় চাহিয়া রহিলেন। বৃদ্ধা বলিলেন “এ মুখ প্রতি পোড়া 
শ্বশুর একবার ফিরে চাছিল না। ধর্ম বড় হল না, জাত বড় 
হল। আরে পৌঁড়া বিধাতা ! কপালে মন্দ লিখিতে আর কি 
লোক পেলে না! 'এই বয়সে এই কষ্ট! আহ! মরি মরি মরি ! 
মেয়েত নয়, যেন স্বর্ণ লতা !” 

আর একজন মধ্যবয়স্ক বলিলেন, আহা ! দামিনী আমা- 
দের চিরছ্ঃখিনী ; বুড়া মাতাঁমহী দামিনীর বিবাহ দিয়া 
বলিয়াছিল যে “এতদিনে আমার দামিনীর উপায় হইল, এখন 
আনি নিশ্চিন্ত হইয়। মরিতে পারিব।, “আহা! যদি বুড়ি বেঁচে 
থাকিত, তুবে দামিনী দাড়াইবার একটা স্বান পাইত। এখন 
আর দামিনীর দাঁড়াইবার স্থান নাই | 

দামিনীর অঙ্গ কীপিয়া উঠিল? ঘন ঘন নিশ্বাস বহিল; শেষে 
দাঁমিনী মাতামহীর জন্ত কাদিক্সা উঠিলেন। উদ্দেশ্ডে মাতা 
মহীকে ডাকিয়! কাদিতে লাগিলেন, “অ।য়ি! আমায় কাঁর কাছে 
ফেলে আপনি চলে গেলে!” এই ক্রন্দনধ্বনি শুনিয়া তাহার 
শ্বাশুড়ী রাগভরে সশব্দে খিড়কির দ্বার খুলিয়! দাঁড়াইয়া তিরস্কার 
আরম্ভ করিলেন । *বলি বউ ! তোমার কেমন আক্কেল আচরণ! 
এই ছুই প্রহর বেল! গৃহস্থের দ্বারে বলিয়া মরা কান্না আরস্ত 
করিলে? জান না কি যে এতে গৃহ্স্থের অমঙ্গল হয় ।৮ প্রতিবা- 
দিনীদিগকে লক্ষ্য করিয়া বলিলেন, “আর তোমাদেরই বা কি 
আচরণ! আপনার আপনার বি বউ ঘরে রেখে পরের বউ 
নাচাতে এলে। এখন সকলে সময় পাইক্সাছ, ভাল, পরমেশ্বর 
আমাকেও একদিন দিবেন, আমিও একদিন পাব ।” 


কেহ কোন উত্তর করিল না) সকলেই একে একে চপ্রিয়। 
ণ নি 


[ ৭৪" ] 


৪০০০4০০০০০০ 





সপ পস্ানপাপপপিশাচ লা ৮ 


গেল। দামিনীও চক্ষের জল মুছিয়া নিঃশব্দে বসিম্না রহিলেন। 
প্রতিবাসিনীরা আপন আপন গৃহকাধ্যে গেল। তাহাদের 
একজন সমবয়স্ক! একটু দুরে গিয়া! টাড়াইন্া। ছিলেন । রমেশের 
বিমাত1 পুর্বমত ছার রুদ্ধ করলে দামিনার নিষ্ট আপিয়া বলি 
লেন একবার উঠত।”, দামিনী বাপলেন, আমি আর কোথায়ও 
বাঝ না; কোথায়ও যাইবার আর আমার স্থান নাই?" 
কেহ আর আমার স্থান দিবে না। 'সমবয়স্কা বলিল তবে কি 
এই খানে মরিবি? দামিনী উত্তর করিলেন “এইখানেই 
মারব আমার স্থান কোথা? তিন আমায় এইখানে রাখিয়া 
গেছেন আমি এইখানেই থাকিব। ষতদিন তিনি নু আসেন 
ততদিন যেমন করে পারি বাঁচব। আমি তারেনা দেখে 
অরিতে পারিব ন1।” 

এই বলিয়া নিঃশব্দ কাদিতে লাগিলেন । সমবয়স্কা বলি- 
লেন অন্যত্র না যাও এই বৃক্ষমূলে আসিয়া বন; রোদ্র অসমত 
হইয়াছে আমরা আর দ।ড়াইতে পারিৰ ন1। দামিনী এই কথায় 
ধীরে ধীরে সেই বুক্ষমূলে [গয়া বসিলেন, ধীরে ধীরে বলিলেন, 
“আপনার গৃহে বাও, তোমার গৃহ আছে, গ্রহে তোমায় না 
দেখিলে তোমার মা বাস্ত হবেন, আবার বুড় মানুষ এই রোদে 
তোমায় খু'ঁজিতে আমিবেন 1” 

প্রতিবাঁসিনী গ্রহে গেলেন, কিন্তু বিস্তরক্ষণ থাকিতে পারি- 
লেনংনা। অপরাহ্ন না হইতে হইতেই অদিতি ভট্টাগাখোর 
বাঁটার পশ্চাতে আমিষ! উপস্থিত হইলেন। দেখিলেন দামিনী 
পৃন্বস্বূত একা! বৃক্ষমূলে বলিয়া! অন্তমনস্কে একটি পক্ষী দেখিতে, 
চছন।. ।আর চক্ষে দল নাই। 

[] 


[. "1৫ ] 


পান পাপ ৯৯ পপ কা ২ পশীনি সপস্প | শিপ 








পপি বার এ পটার) জী 


প্রতিবাসিনী আসিয়! দামিনীর নিকটে বসিলেন। পরস্পর 
কেহই ক্ষণকাল পর্য্যন্ত কথা কহিলেন না। পরে দাষিনী 
বলিলেন, প্যদি এই রাত্রে তিনি আসেন” 

প্র। কে? তোমার স্বামী? তা আসেন ত ভালই হয়। 
বাছা হউক ভালমনদ একট! স্থির হইয়া যাঁয়। 

দা। তিনি যদি আসিয়া পথ হইতে ফিরে যান? 

প্র। সেকি! তাকি হইতেপারে? 

দা। পারে। পথেধদ্দি তারে কেহ কোন কথা গুনায়। 
তিনিও কি আমায় ত্যাগ করিবেন? 

প্র!» কিজানি ভাই। পুরুষের মন কখন কেমন থাকে ত। 
কে বলিতে পারে ? 

দা। তিনি আমায় কত ভাল বাঁসেন। আমায় দেখিজে 
দেখিতে কাদেন। আমায় দেখিবার তাঁর কত সাধ। দেঁথি- 
বার নিমিত্ত কত ছল করে আমার কাছে আপিয়া বসেন। কভ 
বার কতপ্দকে বসে দেখেন। আবার কপালে হাত দিয়! 
দেখেন ) দাঁড়িতে হাত দিয়া দেখেন; ওঠে হাত দিয়! দেখেন 
দেখিয়। আর তাহার পরিতৃপ্তি হয় না। রাত্রে নিদ্রা ভঙ্গে 
উঠিয়া আমার মুখের উপর চাহিয়া থাকেন, আমি পোড়া চক্ষু 
বুজিয়া ঘুমাইয়া থাকি। 

এই বলিতে বলিতে দামিনীর নয়ন অশ্রপূর্ণ হইল। দামিনী 
কাঁদিতে লাগিলেন। প্রতিবাসিনী বলিলেন, “সন্ধ্যা হইল, রাত্ি 
যাপন কিরূপে হইবে? কোথায় থাকিবে ?” দামিনী প্রথমে 
বলিলেন “কি জানি,»পরক্ষণেই বলিলেন “এইখানেই থাঁকিব। 
কে আমার স্থান দিবে?” 


[ ৭৬. ] 





_ শ্রতিবাসিনী শিহরিয়া বলিলেন “তাকি স্ত্রীলোকের সাধ্য। 
এই অন্ধকার বনমধ্যে একা! পুরুষে থাকিতে পারে না, তুমি 
কেমন করিয়! থাকিবে । রাত্রের নিমিত্ত ঘরে না হউক বাটার 
অন্ত কোন চালা শ্বশুর শ্বাশুড়ী কি স্থান দিবেন না? অবশ্তই 
দিবেন।” 

দামিনীও সেই আশা করিয়াছিলেন। ভিনি নিশ্চয় মনে 
করিয়া ছলেন যে রাত্রে কেহ না কেহ তাহাকে ডাকিয়া লইয়! 
যাইবে । কিন্তু রাত্রি হইল প্রতিবাদনী চলিয়। গেল। কেহ 
তাহার তত্ব করিল না। খিড়কি দ্বার এতক্ষণ মুক্ত ছিল, শেষে 
তাহাও রুদ্ধ হইল। 

দ্ামিনী একা অন্ধকারে বসিয়া রহিলেন । রাত্রি ক্রমে গভীর 
তইল। দূরে'যে ছুই একটা « দ্ীপালোক দেখা যাইতেছিল 
তাহ! একে একে নিবিয়! গেল। গ্রামবাসীরা নিশ্চিন্ত হইয়! 
সকলে নিদ্রা গেলেন, দামিনীর ভাবনা কেহ ভাবিল না। 
দামিনী আপনার ভাবনা আপনি ভাবিতে লাগিল। ক্রমে 
ছুই একবার ভয় পাইতে লাগিল, অন্ধকাক়ে নান! দিকে নান! 
মূর্তি দেখিতে লাগিল। একা থাকা বিষম হইয়া উঠিল। 
একে সমস্ত দিন অনাহার, তাঁহে আবার সমন্ত দিন কাদিয়া- 
ছেন, শরীর অবসন্ন হইস্সা আসিল। দামিনী ধুলায় শয়ন 
করিলেন, শীত্র নিত্রা আদিল । স্বপ্নে যেন শুনিলেন, কে ডাকিল 

“মা!” গ্বপ্নে যেন উত্তর দিলেন, পম! !” স্বপ্পে যেন বোধ হুইল, 
তাঞ্ধার মা বলিতেছেন, “উঠ যা 1--এ ঘরে আর কাজ কি? 

পরদিন প্রাতে উঠিক্সা কেছ আর দাঁমিনীকে দেখিতে 

পাইল ন!। 


| ৪৭ ) 


ষ্ঠ পরিচ্ছেদ । 


দশ বারো দিবস পরে রমেশ বাঁটী আসিয়া সকল শুনি- 
কেন। পিতাকে কিছু বলিলেন না, বিমাতাঁর প্রতি দোষা- 
রোপ করিলেন না, কাহাঁকেও কিছু না বলিয়া! বাঁটা হইতে 
চলিয়া গেলেন । গ্রামে গ্রামে পথে পথে পাঁচ সাঁত দিবস 
ভমণ করিলেন কোথাও দামিনীর সংবাদ পাইলেন না । শেষে 
এক দিবস রাত্রিশেষে বিষপ্রভাবে বাটা প্রত্যাগমন করিতেছি- 
লেন, নন্টীত্রীরে ভগ্ন অট্টালিকা! দেখিয়া দীঁড়াইলেন । ভগ্ন অট্ট- 
লিকার অবস্থাসহিত আপনার সাদৃশ্ঠ দেখিলেন। অট্টালিকা 
অ।লিস! ছাঁদ,ভাঙগিয়! গিয়াছে; স্থানে স্থানে অশ্ব বট প্রভৃতি 
বুক্ষ, আপন আপন মুল বিদ্ধ করিয়! সাহঙ্কারে দুলিতেছে। দুর্বল 
অট্টালিকা এক! নদীতীরে দীঁড়াইয়! তাহা সন্থ করিতেছে। . 

রমেশ অতীসর হইলেন, দ্বারে যাঁইয়। দীাড়াইলেন। দ্বার 
মুক্ত ছিল, গৃহে প্রবেশ করিলেন । তাহার সমাগমশবে অসংখ্য 
চামচিকা, বাহুড় অন্ধকারে উড়িতে লাগিল । ক্ষণকাঁলপরে ক্রমে 
ক্রমে তাহাদের শব থামিল। ঘর ভয়ানক গম্ভীর হইল। 
রমেশ দাঁড়াইয়া রহিলেন। পরক্ষণেই কক্ষান্তরে মনুষ্য-কণ্ঠ নি£স্যত 
একটি মুছু শব্দ শুনিলেন। রমেশের শরীর কণ্টকিত হইল। 
রমেশ সাবধানে নিঃশবে সেইদিকে গেলেন। অস্পষ্ট চন্দ্রালোকে 
দেখিলেন মৃত্যুশষ্যায় একটী রুগ্ন মনুষ্যদেহ পড়িয়া রহিয়াছে । 

রমেশ কি ভাবিয়া কাঁদিতে লাগিলেন । নরদেহ একে- 
বারে সংজ্ঞাহীন হয় নাই, তাহার. কণ্ঠস্বর আবার অল্ে অরে 


[ ৭৮ | 








নিঃসৃত হইতে লাগিল। “আয়ি! এলে? বসো, আর বিলম্ব 
করিব না, কেবল একবার রমেশকে দেখে আমি ।” 
রমেশ চীৎকার করিয়। কাঁদিয়! উঠিলেন “দামিনি, দামিনি ! 
আমি এসেছি, আর কখন তোম! ছাড়া হব ন 1১, 
দ্রামিনী কোন উত্তর দিল না। রমেশ আছড়াইয়া পড়িয়া চীৎকার 
করিতে লাগিলেন, “আনার কথা কও ) অনেক দিন কথ। শুনি 
নাই ; আর কথা! কও।১১ আর কোঁন উত্তর নাই; সকল নিঃশব। 
রমেশ কতক বুঝিলেন, কুদ্ধশ্বাসে গ্রামমধ্যে গেলেন । তথ! ভইতে 
দীপ জালিবার দ্রব্যাদি লইয়। আসিলেন । দীপ জালিলেন । দেখি- 
লেন সেধাঁনে আর একটি বৃদ্ধ] স্্ীলোক বসিয়। দামিল্লীর গ্রতি 
চাহিয়া রহিয়াছে । দামিনী এজন্মের মত চক্ষু যুদ্দিয়াছেন। 
বমেশকে দেখিয়। বুদ হাসিয়া উঠিল, সে ভীষণ হাসি 
দেখিয়া রয়েশের শরীর রোমাঞ্চিত হইল। বৃদ্ধা উঠিল, 
দাঁড়াইয়া একদৃষ্টিতে রমেশের দিকে চাহিয়া রছিল। রমেশ 
চিনিলেন ঘে এই পূর্বপর়িচিতা পাগলী । 
পাঁগলী একবার ওঠে অঙ্গুলি নির্দেশ করিয়া বলিল, “চুপ, 
আমার দামিনী ঘুমাইতেছেও ঘুমাইতেছে ১৮ পরক্ষণেই আবাব 
বিকট হাসি হাসিয়া রমেশের উপর পড়য়া রমেশের গলদেশ 
বজবৎ টিপিয়া বলিল, "আম চিনিয়াছি তুই রমেশ; তোর 
অন্যই আমার দাঁমিনী মরিয়াছে।» 
রমেশের শ্বাস রুদ্ধ হইল) চক্ষুর শিরা সকল উঠিল । রমেশ 
বাক্য রহিত, শক্তি রহিত, শেষে দামিনীর পার্খে পড়িয়া 
গেলেন। পাগলী আবার রমেশের গলদেশ পুর্ব মত ধরিল। 
এবার সকল ফুরাইল। 


পালামৌ। 


(জমণ-রভাভ্ত 1) 





₹1%% « ১ 8 জা; 





2 হু? ১১ ও 


পালামৌ। 


প্রথম প্রবন্ধ । 


বনকাঁল হইল একবার আমি পাঁলামৌ প্রদেশে গিয়াছিলাম, 
প্রত্যাগমন করিলে পর সেই অঞ্চলের বৃত্তান্ত লিখিবার নিমিন্ত 
ছুই এক জন বন্ধুবান্ধব আমাকে পুনঃ পুনঃ অনুরোধ করিতেন, 
আমি ত্বখন তাহাদের উপহাস করিতাম । এক্ষণে আমায় কেহ 
অনুরোধ করে না, অথচ আমি সেই রূত্বাস্ত লিখিতে বসিক়্াছি। 
তাৎপর্য বক্স । গল্প করা এ বয়সের রোগ, কেহ শুনুন বা না 
শুনুন, বৃদ্ধ গল্প করে। 

অনেকদিনের কথা লিখিতে বসিয়াছি, সকল স্মরণ হয় না। 
পূর্বে লিখিলে যাহা লিখিতাম, এক্ষণে যে তাহাই লিখিতেছি 
এমত নহে ৷ পুর্বে সেই সকল নির্জন পর্বত, কুন্থুমিত কানন 
প্রভৃত্তি যে চক্ষে দেখিয়াছিলাম, সে চক্ষু আর নাই। এখন 


[ ৮২ ] 











পর্বত কেবল প্রস্তরময়, বন কেবল কণ্টকাকীর্ণ, অধিবাশীর! 
কেবল কদাচারী বলিয়া স্মরণ হয়। অতএব ধাহারা বয্ধো- 
গুণে কেবল শোত! সৌন্দর্য্য প্রভৃঠি ভালবাসেন, বুদ্ধের লেখার 
তাহাদের কোন প্রবৃভি পরিতৃপ্ত হইবে না। 

যখন পালামৌ আমার যাওয়া একান্ত স্থির হইল, তখন 
জানি না যে সেস্থান কোন দিকে, কতদূরে । অতএব ম্যাপ* 
দেখিয়া পথ স্থির করিলাম । হাল্সারিবাগ হইয়! যাইতে হইবে 
এই বিবেচনায় ইন্পাও ট্রাঞ্জিট কোম্পানীর (71870 নাহাঃজাচ 
501019.75) ডাকগাড়ী ভাড়। করিস রাত্রি দেড় প্রহরের সময় 
রাণীগঞ্জ হইতে যাত্রা করিলাম । প্রাতে বরাকর নুদ্টার পুবব- 
পারে গাড়ী খামিল। নদী অতিক্ষুদ্র, তৎকালে অল্পমাত্র জল 
ছিল, সকলেই হাটির পার হইতেছে, আমার গাড়ি ঠেলিয়। পার 
করিতে হইবে, অতএব গাড়ওয়ান কুলি ডাকিতে গেল । 

পৃব্বপার হইতে দেখিলাম যে, অপর পারে ঘাটের উপরেই 
একজন সাহেব বাঙ্গালায় বসিয়া পাইপ টানিতেছেন, সন্মখ 
একজন চাপরাদী একরপ গৈরিক মুণ্তিকা হস্তে দাড়াইয়! 
'ছে। যে ব্যক্তি পারার্থ সেই ঘাটে আমিতেছে,চাপরাসি তাচার 
বাহুতে সেই মুত্তিকাদ্বারা কি অন্কপাঁত করিতেছে । পারার্থার 
মধ্যে বন্ত লোকই মধিক,তাহাঁদের যুবতীর মৃত্তিকারঞ্জিত আপন 
'পন বাছুর প্রতি আড়নয়নে চাহিতেছে আর হাঁসিতেছে, 
আবার অন্তের সঙ্গে সেই অস্কপাত কির্ধপ ইজ তাহাও 
এক একবার দেখিতেছে। শেষে যুবতীর হাসিতে . হাসিতে 
দৌড়িঘ নদীতে নামিতেছে। তাহাদের ছুটাছুটিতে নদীর অল 
ভচ্ছুসিভ হইয়া, কুলের উপর উঠিতেছে। 


ক উ5] 


আমি অন্রমনস্কে এই রঙ্গ দেখিতেছি এমত সমষম কুলিদের 
কতকগুলি ৰালক বালিক! আলিয়া আমার গাড়ী ঘেরিল। 
“সাঁচেব একটি পয়দা” “সাহেব, একটি পয়সা 1” এই বলির! 
চীৎকার করিতে লাগিল। ধুতি চাদর পরিয়া আমি নিরীহ 
বাঙ্গালি বপিয়া আছি, আমাম্ব কেন সাহেব বলিতেছে তাহ। 
“জানিবার নিমিন্ত বলিলাম, “আমি সাহেব নহ্ি।”৮ একটি 
বালিকা আপন ক্ষুদ্র নাসিকাস্ত অঙ্গুরীবৎ অলঙ্কারের মধ্যে নথ 
নিমজ্জন করিয়া বলিল, “হী তুমি সাহেব |” আর একজন 
জিজ্ঞাসা করিল, +*্তরে তুমি কি?” আমি বলিলাম, “আমি 
বাগগালি-১১ সেবিশ্বাস করিল না, বলিল “ন! তুমি সাহেব +* 
তাঁহারা মনে করিয়! থাকিবে. যে, যে গাড়ী চড়ে, সে অবস্ত 
সাহেব। 
এই সময় একটি দুইবৎসরবধস্ক শিশু আসিয়া আকাশের 
দিকে মুখ তুলিয়। হাত পাতিয়! দাড়াইল। কেন হাত পাতিল 
তাহা সে জানে না, সকলে হাত পাতিয়াছে দেখিয়া সেও হাত 
পাতিল। আমি তাহার হস্তে একটি পয়সা! দিলাম, শিশু তাহ! 
ফেপিয়! দিয় আবার হাত পাতিল, অন্য বালক সে পয়সা কুড়!- 
ইয়া লইলে শিশুপ ভগিনীর ষহিত তাহার তুমুল কলহ বাধিল। 
এই সময় আমার গাড়ী অপর পারে গিয়! উঠিল। 
বরাকর হইতে দুই একটি ক্ষুদ্র পাহাড় দেখ। যায়। বঙ্গ- 
বাপীদের কেবল মাঠ দেখ অভ্যাস, মুত্তিকার সামান্ত স্তূপ দেবি 
লেই তাহাদের আনন্দ হয়,অত এব সেই ক্ষুদ্র পাহাড় গুলি দেখিয়া 
যে তৎ্কালে আমার যথেষ্ট আনন্দ হইবে ইহা আর আশ্চধ্য 
ক? বাণ্যকালে পাহাড় পঞ্ধতের পরিচয় অনেক শুন! ছিল, 


ক [৮৪ 1 


বিশেষতঃ একবার এক বৈরাগীর আখড়ায় চুণকাম কর! . এক 
গিরিগোবর্ধন দেখিয়! পাহাড়ের আকার অন্থভব করিয়া লই- 
রাছিলাম। কৃষক কন্ঠারা শুফ গোময় সংগ্রহ করিয়া! যে স্ত.প 
করে, বৈরাগীর গোবদ্ধন তাহা অপেক্ষা কিছু বড়। তাহার 
শ্বানে স্থানে চারি পাঁচখানি ইষ্টক গাঁধিয়া এক একটি চূড়া! 
করা হইয়াছে । আবার সর্ধোচ্চ চড়ার পার্থখে এক সর্পকণ! 
নির্মাণ করিয়া তাহ! হরিত, পীত, নানাকর্ণে চিত্রিত করা 
হইয়াছে, পাছে সর্পের প্রতি লোকের দৃষ্টি ন৷ পড়ে এই 
জন্য ফণাটা কিছু বড় করিতে হইয়াছে । "কাজেই পর্বতের 
চূড়া অপেক্ষা! ফণাটা বড় হইয়া! পড়িয়াছে, তাহ! স্নুস্তির গু 
নছে, বৈরাগীরও দোষ নহে। সর্পটীকালিয়দমনের কালক়ি 
কাঁজেই যে পর্বতের উপর কালিয় উঠিয়াছে, সে পর্বতের চূড়া 
অপেক্ষা তাহার ফণা যে কিছু বুহৎ হইবে ইহার আর আশ্চর্য 
কি? বৈরাগীর এই গিরিগোবর্ধন দেখিক্সাই বাল্যকালেই 
পর্বতের অনুভব হ্টয়াছিল । বরাকরের নিকটস্থ পাহাড়গুলি 
দেখিয়া আমার সেই বাল্যসংস্কারের কিঞ্চিৎ পরিবর্তন হইতে 
আরস্ত হইল । 

অপরাহে দেখিলাম একটি,সুন্দর পর্বতের নিকট দিয়! গাড়ী 
ধাঁইতেছে। এত নিকট দিয়া যাইতেছে, যে পর্বতন্থ ক্ষুতর ক্ষুতর 
প্রস্তরের ছায়। পধ্যস্ত দেখা যাইতেছে । গাড়ওয়ানকে গাড়ী 
থামাইতে বলিয়া আমি নামিলাম। গাড়ওয়ান জিজ্ঞাস! করিল, 
«কোথা যাইবেন ?” আষি বলিলাম, “একবার এই পর্বতে 
যাইব 1” সে ছাঁসিয়া বলিল, “পাহাড় এখান হইতে অধিক দূর, 
আপনি মন্ধ্যার, মধ্যে তথায় পৌছিতে পারিবেন, ন11” আমি এ 


[৮৫ ] 





কথ কোনবরূপে বিশ্বাস করিলাম ন1,নামি স্পষ্ট দেখিতেছিলাম, 
পাহাড় অতি নিকট, তথা যাইতে আমার পাচ মিনিটও লাগিবে 
না» অতএব গাড়ওয়ানের নিষেধ ন! শুনিয়া আমি পর্বতাভিমুখে 
চলিলাম। পাঁচ মিনিটের স্থলে ১৫ মিনিটকাল ক্রতপাদ 
বিক্ষেপে গেলাম, তথাপি পর্বত পূর্বমত সেই পাচ মিনিটের 
পথ বলিয়া বোধ হইতে লাগিল। তখন আমার ভ্রম বুঝিতে 
পারিয়া গাড়ীতে ফিরিয়া! আসিলাঁম। পর্বতসম্বন্ধে দূরত1 স্থির 
কর! বাঙ্গালীর পক্ষে ড় কঠিন, ইহার প্রমাণ পালামৌ গিয়! 
আমি পুনঃপুনঃ পাইয়াছিলাম | 

পরদিবন্ত প্রায় ছুই প্রহরের সময় হাঁজারিবাঁগ পৌছিলাম । 
তথায় গিক্! শুনিলাম, কোন সন্ত্রান্ত ব্যক্তির বাঁটাতে আমার 
হারের আয়োজন হইতেছে । প্রায় ছুই দিবস আহার হয় 
নাই, অতএব আহার সম্বন্ধীয় কথ! শুনিবামাত্র ক্ষুধা অধিকতর 
প্রদীপ্ত হইল। যিনি আমার নিমিত্ত উদ্যোগ করিতেছেন, 
তিনি আমার আগমনবার্তী কিরূপে জানিলেন, তাহা অনুসন্ধান 
করিবার আর সাবকাশ হইল না, আমি তৎক্ষণাৎ তাহার 
বাটীতে গাড়ী লইয়! যাইতে অনুমতি করিলাম। ধাহার বাটীতে 
যাইতেছি, তাহার সছিত গ্রীমার কথনও চাক্ষুষ হয় নাই) 
তাহার নাম শুনিয়াছি, হুখ্যাতিও যথেষ্ট গুনিয়াছি ; সঙ্জন 
বলিয়! তাহার প্রশংসা সকলেই করে। কিস্তৃসে প্রশংসায় 
কর্ণপাত বড় করি নাই, কেন ন! বঙ্গবাসীমাত্রই সঙ্জন ) বঙ্গে 
কেবল প্রতিবাসীরাই হছুরাঝআ, যাহ! নিন্দা শুন! যায় তাহা 
কেবল প্রতিবাসীর । প্রতিবাপীর! পরশ্রীকাতর, দাডিক, কলহ- 
শ্রিদ্ন, লোভী, কৃপণ, বঞ্চক। তাহারা আপনাদের সম্তানকে 

৮ 


[| ৮৬ ] 


ভাগ কাপড়» ভাল ভুত পরায়, কেবল আমাদের নস্তানকে 
কাদাইবার জন্ত । তাহারা আপনাদের পুভ্রবধূকে উত্তম বস্ত্রা- 
লঙ্কার দেয়, কেবল আমাদের পুত্রবধূর মুখভার করাইবার 
নিমিত্ত । পাপিষ্ঠ, প্রতিবাসীরা ! ফাহাদের প্রতিবাদী নাই, 
তাহাদের ক্রোধ নাই। তাহাদেরই নাম খষি। খধি কেবল 
প্রতিবাসিপরিত্যাগী গৃহী। খষির আশ্রমপার্থখে প্রতি-, 
বালী বসাও, তিনদ্দিনের মধ্যে £খধির খযিত্ব যাইবে। প্রথম 
দিন প্রতিবাঁসীর ছাগলে পুষ্পবৃক্ষ নিষ্পত্র করিবে । দ্বিতীয় দিনে 
প্রতিবাঁসীর গোর আসিয়া কমগ্ডলু ভার্গিবে, তৃতীয় দিনে প্রতি- 
বাসীর গৃহিণী আসিয়া খষি পত্ঠীকে অলঙ্কার দদেখাইবে। 
তাহার পরই খধিকে ওকালতির পরীক্ষা দ্রিতে হইবে, নতুব! 
ডেপুটি মাজিষ্রেটার দরখাস্ত করিতে হইরে। 

এক্ষণে সে সকল কথা যাঁক়। যে বঙ্গবাপীব গৃহে আতিথ্য 
্বীকার করিতে যাইতেছিলাম, তাহার উদ্যানে গাড়ী প্রবেশ 
করিলে তাহা কোন ধনবান্‌ ইংরেজের হইবে বলিয়া আমার 
প্রথমে ভ্রম হইল। পরক্ষণেই সে ভ্রম গেল। বারাগায় গুটি- কত 
বাঙ্গালী বসিয়। আমার গাড়ী নিরীক্ষণ করিতেছিলেন, তাহাদের 
নিকটে গিয়া গাড়ী থামিলে আমি গাড় হইতে অবত্তরণ করিলাম । 
আমাকে দেখিয়া তাহার! সকলেই সাদরে অগ্রসর হুইলেন।. 
ন] চিনিয়! ধাহার অভিবাদন আমি সর্বাগ্রে গ্রহণ করিয়াছিলাম 
তিনিই বাটার কর্তী। তিনি শত লোক সমভিব্যাহারে থাকি- 
লেও আমার দৃষ্টি বোধ.হয় প্রথমেই তাহার মুখের প্রতি পড়িত।, 
সেরূপ প্রসন্নতাব্যঞ্ক ওঠ আমি অতি অল্প দেখিয়াছি। তখন 
তাহার বক়ঃক্রম বোধ হয় পঞ্চাশ অতীত হইয়াছিল, বৃদ্ধের, 


পপি পপ পপ পপ পপ পা পিশশীশাশাসাশাপিস্পাপপপপ পিপিপি 





তালিকায় তাহার নাম উঠিয়াছিল, তথাপি তীাঁঙাকে বড় সুন্দর 
দেখিয়াছিলাম । বোধ হয় সেই প্রথম আমি বৃদ্ধকে সুন্দর দেখি । 
যে সময়ের কথা বলিতেছি, আমি তখন নিজে যুবা; অতএব 
সে বয়সে বৃদ্ধকে সুন্দর দেখা ধর্শসঙ্গত নহে । কিন্ত সে দিবল 
'এরূপ ধন্মবিরুদ্ধ কাঁধ্য ঘটিয়াছিল। এক্ষণে আমি নিজে বুদ্ধ, 
ক্লাজেই প্রায় বৃদ্ধকে নুন্দর দেখি। একজন মহা্ভব বলিশা- 
ছিপেন যে মনুষা বৃদ্ধ না হইলে সুন্বর হয় না, এক্ষণে আমি 
তাঁহার ভূয়সী প্রশংস! করি। 
প্রথম সম্ভাষণ সমাপন হইলে পর স্রানণাদি করিতে যাঁওয়। 
গেল । ক্বাথ গোছলখানায় ইংরেজি মতেই হইল, কিন্ত আঁহাঁর 
ঠিক হিন্দুমতে হয় নাই,কেন না৷ তাহাতে পলাওুর আধিক্য ছিল। 
পলাঁওু হিন্দুধর্মের বড় বিরোধী! ততিন্ন আহারের আর কোন 
'দোঁষ ছিল না, সত্বত আতপান্ন, আর দেবীছুল ভ ছাগমাংস, এই 
ছুইই নির্দোষী। 
পাকসন্বন্ধে পলাগুর উল্লেখ করিয়াছি, কিন্তু পিয়াঞ্জ উল্লেখ 
করাই আমার ইচ্ছ! ছিল। পিয়াজ যাবনিক শব্দ; এই ভয়ে পলাঁওুর 
উল্লেখ করিয়! সাধুগণের মুখ পবিত্র রাঁখিয়াছি; কিন্তু পিঁয়াজ 
পলা এক দ্রব্য কি না এখবিষয়ে আমার বহুকালাবধি সংশয় 
আছে। একবার পাঞ্জাব অঞ্চলের একজন বুদ্ধরাজা জগন্নাথ দর্শন 
করিতে যাইবার সময় মেদিনীপুরে ছুই একদিন 'অবস্থিতি করেন। 
নগরের ভদ্রলোকের তাহার সহিত সাক্ষাৎ করিবার প্রার্থন। 
| করিলে, তিনি কি প্রধান, কি সামান্ত সকলের সহিত সাক্ষাৎ 
(করিয়া নানাপ্রকার আপাপ করিতেছিলেন, এমত সময় তাহা- 
দের মধ্যে একজন যোড়হস্তে বলিলেন, “আমতা! শুনিয়াছিলাম 


[৮৮] 


যে, মহারাজ হিন্দুচুড়ামণি, কিন্ত আসিবার সময় আপনার পাঁক- 
শালার সম্মৃথে পলাঁও দেখিয়া আলিয়াছি।” বিশ্ময়াপন রাজা 
“পলাঁও 1” এই শব্দ বারবার উচ্চারণ করিয়া তৎক্ষণাৎ 
তদ্দারকের নিমিত্ত স্বয়ং উঠিলেন, নগরস্থ ভদ্রলোকেরাঁও তাহার 
পশ্চাদ্র্তী হইলেন। রাজ! পাকশালার সম্মুথে দীঁড়াইলে$ 
একজন বাঙ্গালী পিঁয়াঁজের ন্ত্‌প দেখাইয়া দিল। রাঁজা ধন 
হাসিয়া বলিলেন, “ইহা পলা নহে) ইহাকে পিঁয়াজ বলে।' 
পলাঁওু অতি বিষাক্ত সাম গ্রী, তাহ! কেবল ওষধে ব্যবহার হয়। 
সকল দেশে তাহা জন্মে না ) যে মাঠে জন্মে মাঠের বাঁযু দুষিত, 
হুইয় যাঁয়, এই ভয়ে সে মাঠ দিয়! কেহ যাঁতায়[তুস্করে না । 
সে মাঠে আর কোঁন ফসল হয় না।” 

রাজার এই কথা বদি সত্য হয়, তাহ! হইলে অনেকে 
নিশ্চিন্ত হইতে পাঁরেন। পলা আর পিঁয়াজ এক সামগ্রী 
কি না পশ্চিম প্রদেশে অনুসন্ধান হইতে পারে, বিশেষতঃ যে 
সকল বঙ্গবাঁসীরা নিন্ধুদেশ অঞ্চলে আছেন বোধ হয় তাঁহারা 
অনায়াসেই এই কথার মীমাংসা করিয়া! লইতে পারেন। * 

আহারান্তে বিশ্রামগৃহে বসিয়া! বাশকদিগের সহিত গল্প 
করিতে করিতে বালকদের শয়নঘর দেখিতে উঠিয়া গেলাঁম। 
ঘরটি বিলক্ষণ পরিসর, তাহার চারি কোণে চাঁরিখানি খাট 
পাতা, মধ্যস্থলে .আঁর একথানি খাট রহিয়াছে । জিজ্ঞাসা 
করায় বালকের! বলিল, “চারি কোণে আমর। চারিজন শয়ন 
করি, আর মধ্যন্তলে মাষ্টরমহাঁশয় থাকেন 1৮ এই বন্দোবস্ত 
দেখিয়। বড় পরিতৃপ্ত হইলাম। দিবাঁরাত্র বালকদের . কাছে 
শিক্ষক থাকার আবশ্বকতা অনেকে বুঝেন না। 


[ "৯১ ] 
সন্ধ্যার পর দেখিলাম, শিক্ষক সম্মুখে বালকের ষে টেবিলে 
বসিয়া অধায়ন করিতেছে তথায় একত্র একস্থানে তিনটি, সেজ 
জিতেছে । অন্ত লোকে ধাহাবা কদলীর হিসাব রাখেন না, 
তাহার] বালকপের নিমিত্ত একটি সেজ দিয়! লিশ্চিন্ত হন, আর 
ধঘনি কদলীর হিসাব রাখেন, তিনি এই অতিরিক্ত ব্যয় কেন 
স্বীকার করিতেছেন জানিবার নিমিস্ত আমার কৌতৃহুল জন্মিল। 
শেষ আমি জিজ্ঞাসা করিলে তিনি বলিলেন, “ইহ অপব্যয় 
নহে,মল্প মালোৌকে অধ্যয়ন করিলে বালকদের চক্ষু ূর্বল হইবার 
সম্তাবন। ; যথেষ্ট আলোকে অধ্যরন করিলে চ'ল্পশের বু পরে 
“চাঁলসা+ ধনে”, 

উচ্চপদ্দগ্ছ সাহেবের সর্বদাই তাহার বাটীতে আঁমিতেন, 
এবং তাহার সহিত কথাবার্তীয় পরমাপ্যায়িত হইতেন | বাঙ্গা- 
লীরা ছোট বড় সকলেই তাহার সৌজন্তে বাধ্য ছিলেন, বে 
কুহীতো তনি বান কৃরিতেন, সেরূপ ঝুঁঠী সাহেবদেরও সচরাচর 
দেখিতে পাওয়া যাঁয় না; কুগীটা যেরূপ পরিস্কত ও সুসজ্জীভৃত 
ছিল, তাহ! দেখিলে ধথার্থই সুখ হয়, মনও পবিত্র হয়। মনের 
উপর বাসস্থানের আধুধপত্য বিলক্ষণ আছে । যাহারা অপরিষ্কৃত 
ক্ুদ্রঘরে বাস করে, প্রায় দেখ! যায় তাহাদের মন সেইরূপ 
অপরিষ্কত ও ক্ষুদ্র । যিনি বিশ্বাস না করেন তিনি বলিতে 
পারেন যে যদ একথা সত হয়, তাহ! হইলে প্রায় অধি- 
কাংশ বাঙ্গালীর মন ক্ষুদ্র ও অপরিষ্কত হইত। আমরা একথা 
লইয়া কোন তর্ক করিব না, আমরা যেমন দেখিতে পাই নেই 
মত শিখাইয়াছি। ধাহাকে উপলক্ষ করিয়া এই কথ! বলিয়াছি 
তাঁহার মন “কুঠীগ্র উপযোগী ছিল। দেরূপ .কুঠীর ভাড়ার 





যেব্যক্ত বহু অর্মব্যন করে, সে ব্ক্তি যদি কদণীর হিসব 
রাখে তাহা? হইলে কি বুঝা কর্তব্য 

বাতি দেড়প্রহরের সময় বাহকক্কন্ধে আমি ছোউনাগপুর 
যারা করলাম। তথ। হইতে পালামো ছুই চারি দিপ্সের মধ্যে 
পৌছিলাম। পখের পব্রিচয় আর দ্বিব না, এই কয়েক ছত্র' 
লিখির। অনেক্ষকে জালাতন করিয়াছি, আর বিরক্ত করিব না» 
এবার ইন্ছা রহিল মূল বিবরণ হ্রিন্ন অন্ত কথ। বলিব না, তবে 
যদি ছুই একট অতিরি কত কথ। বলিত্বা ফেলি তাগ! হইলে বয়পের 
দোষ বাঝতে হইবে। 


দ্বিতীয় প্রবন্ধ | 


সেকালের হরকরা নামক ইংরেজি পত্রিকার দেখিতাম, 
কোন একজন মিলিটা র সাহেব “পেরেড” বুভ্তাস্ত, “ব্যাণ্ডের?? 
বাদ্যচর্চা প্রভৃতি 7ান। কথ। পালামৌ হইতে লখিতেন। আমি 
তখন ভাবিতাম্‌ পালামৌ প্রবল সর, সাদ্ুহবসণাঁকীন স্থযের 
স্থান। তখন জানিতাম না যে, পাঁলামৌ সহর নহে, একটি 
প্রকাণ্ড পরগণামাত্র। সহর সে অঞ্চলেই নাই, নগর দূরে 
থাকুক, তথায় একথানি গণগ্রাঘ ৪ নাই, কেবল পাহাড় ও 
অঙ্গলে পরিপূর্ণ । 
পাহাড় আর জঙ্গল বলিলে কে কি অন্গভব করেন বলিতে 
পারি না। যাহারা “কৃষ্ণচন্দ্র কর্মকার কৃত” পাহাড় দেখিয়া- 
ছেন, আর যাহানদর গৃহপার্খে শুগালশ্রাস্তসংবাহক ভাটতেরা- 


[ ৮৯ | 


সপ পাপা লী পপ পাপ পলা 





২৮৯০ সস পর শা সপ এন 


বাপকদের শ্গনঘর হইতে হহির্গত হইয়। আর একঘরে 
দেখি এক কাঁদি স্ুপক মর্ভমানরস্তা দোছুল্যমান রহিয়াছে, 
তাহাতে একথানি কাগজ ঝুলিতেছে, পড়িয়া দেখিলাম, নিত্য 
যত কদলী কাঁদি হইতে ব্যয় হয়, তাহাই তাহাঁতে লিখিত হইয়! 
থাকে । লোকে সচরাচর ইহাকে ক্ষুদ্র দৃষ্টি, ছোটনজর 
, ইত্যাদি বলে? কিন্তু আমি তাগা কোনরূপে ভাঁবিতে পারিলাম 
না। যেরূপ অন্তান্য বিষয়ের বন্দোবস্ত দেখিলাম, তাহাতে 
কলাকী্দির হিসাব” দেখিয়া বরং আরও চমত্রুত হইলাম। 
বাছাদের দৃষ্টি ক্ষুদ্র তাহার! কেবল সামান্ত বিষয়ের প্রতিই 
দৃষ্টি রাংখু$ অন্ত বিষয় দেখিতে পায় নাঁ। ভাহারা যথার্থই 
নীচ। কিস্ত'ত্ব(মি যাহার কথা বলিতেছি, দেখিলাম তাহার নিকট 
বৃহৎ সক্ষম মকলই সমভাবে পরিলক্ষিত হইয়া থাকে । অনেকে 
আছেন, বড় বড় হ্ষিম্ মোটামুটি দেখিতে পারেন, কিন্তু হুশ 
বিষয়ের প্রতি তাহার দৃষ্টি একেবারে পড়ে না। তীহাদের 
প্রশংসা করি না। যাহার! বৃহ স্ক্ম একত্র “দেখিয়া কার্য 
করেন, তাহাদেরই প্রশংসা! কার । কিন্ত এরূপ লোক অতি 
অল্প। “কলাকাদ্ের ফর্দ” সম্বন্ধে বালকদের সহিত কথা 
কহিতে কহিতে জানিলাম যে, একদিন একজন চাঁকর লোভ- 
সম্বরণ করিতে না পারিয়া হুইটি সুপক্ক রম্ত! উদ্রস্থ করিয়াছিল, 
গৃহস্থের সকল খিষয়েই দৃষ্টি আছে, সকল বিষয়েরই 'হিসাব 
থাকে, কাজেই চুরি ধর! পড়িল। তখন তিনি চাঁকরকে 
ডাকিয়। চুরির জন্ত জরম'ন। করিলেন। পরবে তাঁহার লোভ 
পরিতৃপ্থি করিবার নিমিত্ত ঘভ ইচ্ছাও কীদি হইতে বস্তা খাহতে 
অচুমতি করি:লন। চাঁককপ উদর ভরিয়া রস্তা খাইল। 


| ৯* ] 





অপরাধে আমি উদ্যানে পদচারণ করিতেছি, এমত সময় 
গৃহস্থ ““কাছারী”? হইতে প্রত্যাগত হইলেন। পরে আমাকে" 
সমভিব্যাহারে লইয়া! বাগান, পুষ্করিণী, সমুদয় দেখাইতে লাঁগি- 
লেন। যেস্থান হইতে যে বুক্ষটি আনাইয়াছেন, তাহারও পরিচয় 
দিতে লাগিলেন । মধ্যাহ্নকালে “কলাকাদি' সম্বন্ধে যাহ! 
দেখিয়াছি এবং শুনিয়াচ্ছি, তাহা তখনও আমার মনে পুনঃ 
পুনঃ আলোচিত হইতেছিল ; কাজেই আঁমি কদলীবৃক্ষের 
প্রসঙ্গ না করিয়া থাকিতে পারিলাম না। বলিলাম, “আমার 
ধারণ! ছিল এ অঞ্চলে রম্ত! জন্মে না; কিন্ত আপনার বাগানে 
যথেষ্ট দেখিতেছি। তিনি উত্তর করিলেন, "এখানে বাজারে 
কলা পাওয়া যায় না। পুর্বে কাহার বাটাতেও পাওয়া ধাইত 
না, লোকের সংস্কার ছিল যে, এই প্রস্তরময় মুত্তিকায় কলাঁর- 
গাছ রস'পায় না, শুকাইয়। যায়। আমি তাহ! বিশ্বাস ন! 
করিয়া দেশ হইতে “তেড়” আনিয়। পরীক্ষা! করিলাম । এক্ষণে 
আমার নিকট হইতে “তেড়+ লইয়া সকল সাহেবই বাগানে 
লাগাইক্গাছেন। এখন আর এখানে কদলীর অভাব নাই।” 

এইরূপ কথাবার্তী কহিতে কহিতে আমর! উদ্যানের এক 
প্রীস্তভাগে আসিয়! উপস্থিত হইলাম, তথায় ছুইটি স্বতন্ত্র ঘর 
দেখিয়া আমি জিজ্ঞাসা করায় গৃহস্থ বলিলেন, “উহার একটিতে 
আামার াপিত থাকে, /অপরটিতে আমার ধোপা থাকে । 
উহ্বার| সম্পূর্ণ আমার বেতনভোগী চাকর নঙ্কে, তবে উভয়কে 
আমার বাটিতে স্থান দিয় এক প্রকারে 'আবন্ধ করিয়াছি, এখন 
যখনই আব্শ্ুক হয়, তখনই তাহাদের পাই | ধোপা, নাপি- 
,তের কষ্ট পূর্বে আর কোন উপায়ে নিবারণ করিতে পারি নাই।» 


্পসপাপসী সস 


গার জঙ্গল আছে, তাহারা যে এ কথ! সম গর অনুভব করিয়! 
লইবেন, ইহার আর সন্দেহ নাই। কিন্তু অন্ত পাঠকের জন্ত 
সেই পাহাঁড় জঙ্গলের কথা কিঞ্চিৎ উত্থাপন করা আবশ্যক 
হইয়াছে । সকলের অনুভবশক্তি ত সমান নহে। 

রশচি হইতে পালাঁমৌ যাইতে যাইতে যখন বাহকগণের 
নির্দেশমত দূর হইতে পালাঁমৌ দেখিতে পাইলাম, তখন আমার 
বোধ হইল যেন মর্তে মেঘ করিয়াছে । আমি অনেকক্ষণ দড়াইয়! 
সেই মনোহরদৃশ্ঠ দেখিতে লাঁগিলাঁম। এ অন্ধকাঁর মেঘমধ্যে এখনই 
যাইব এই মনে করিয়া আমার কতই,আহ্লাদ হইতে লাগিল। 
কতক্ষণেপৌছিব মনে করিয়া! আবার কতই ব্যস্ত হইলাম । 

পরে চারি পাচ ক্রোঁশ অগ্রসর হইয়া আবার পালামৌ। 
দেখিবার নিমিত্ত পান্ধী হইতে অবতরণ করিলাম । তখন আর 
মেঘন্রম হুইল না, পাহাড়গুলি স্পষ্ট চেনা যাঁইতে লাগিল ; 
কিন্ত জঙ্গল ভাল চেন গেল না । তার পর আরও দুই এক- 
ক্রোশ অগ্রসর হইলে, তাত্রাভ অরণ্য চারি দিকে দেখা যাঁইতে 
লাগিল; কি পাহাড়, কি তলম্থ স্ডাঁন সমুদয় যেন মেষদেহের 
ন্যায় কুঞ্চিত লোৌমষরাজিদ্বারা সর্বত্র সমাচ্ছাদিত বোধ হইতে 
লাগিল। শেষ আরও কতদূর গেলে বন স্পষ্ট দেখা গেল। 
পাহাড়ের গায়ে, নিম্নে, সর্বত্র জঙ্গল, কোথাও আর ছেদ নাই। 
কোথাও কর্ষিত ক্ষেত্র নাই, গ্রাম নাই, নদী নাই, পথ নাই, 
কেবল বন--ঘন নিবিড় ব্ন। 

পরে পালামৌ প্রবেশ করিয়! দেখিলাম, নদী, গ্রাম, সকলই 
আছে, দূর হইতে তাহ! কিছুই দেখ! যায় নাই। পালামৌ 
পরগণাঁর পাহাড় অপংখ্য, পাহাড়েন পর পাহাড়, তাঁহার পর 


[ ৯৪. ] 


পি সপ কা জল নই পাস 





পপ পপ সী 





এপাশ 


পাহাড় আবার পাহাড়; যেষ বিচলিত নদীর সংখ্যাতীত 
তরঙ্গ । আবার বোধ হয় যেন অবনীর অন্তরাগ্ি একদিনেই 
সেই তরঙ্গ তুলিয়াছিল। এখন আমার ঠিক স্মরণ হত না, কিন্তু 
বোঁধ হয় যেন দেখিয়াছিজ্বাম দকল তরঙ্গ গুলি পূর্বদিক্‌ হইতে 
উঠিয়াছিল, কোন কোনটি পূর্ববদিক্‌ ৮ইতে উঠিয়া পশ্চিমদিকে 
নামে নাই। এইরূপ অর্ধপাহাড় লাতেহাব্গ্রামপার্থখ্বে একটি 
আছে, আমি প্রায় নিত্য তথায় গিয়া বসিয়া থাকিতাঁম । এই 
পাহাড়ের পশ্চিমভাগে মুত্তিকা নাই, স্তরাং তাহার অত্তরশ্থ 
সকল স্তর দেখ! যায়, এক্ল স্তরে নুডি, আর এক স্তরে কাল 
পাথর, ইতাঁদি। কিন্ত কোন ভ্তবই সমহ্ত্র নঙ্চে, প্রৃত্যেকটি 
কোথাও উঠিয়াছে, কোথাও নামিয়াছে। আমি তাহ! পূর্বে 
লক্ষ্য করি নাই, লক্ষ্য করিবার কারণ পরে ঘটয়াছিল । একন্দন 
অপরাহে এই পাচাড়ের মূল দড়াইয়া আছি, এমত সম 
আমার একটা নেমোকহারাম ফব্রাপিস কুকুর (7১০০৭16) আপন 
ইচ্ছামত তাবুতে চলিয়া গেল, আমি রাগত হইয়া চীৎকার 
করিয়া! তাহাকে ডাকিলাম। আমার পশ্চাতে সেই চীৎকার 
অত্যান্র্য্য রূপে প্রতিধবনিত হইল । পশ্চাৎ ফিরিয়া পাহাড়ের 
প্রতি চাহিয়া আধার চীৎকার করিলাম, প্রতিধ্বনি আবার 
পুন্বমত হস্ম দীর্ঘ হইতে হইতে পাহাড়ের অপর প্রান্তে চলিয়া 
গেল! আবার চীৎকার করিলাম, শব্দ পূর্ববৎ পাহাড়ের গায়ে 
লাগিক্সা উচ্চ নীচ হইতে লাগিল। এইবার বুঝিলাম শব্ধ ফোন 
একটি বিশেষ স্তর অবলম্বন করিয়। যায়; সেই ভর যেখানে 
উঠিয়াছে বা লামিয়াছে শকও সেইধানে উঠিতে নামিতে 
থাকে । কিন্তু শব্ধ দীর্ঘকাল কেন স্থায়ী হয়, যতদূর পর্য্যন্ত দেই 


পি 





স্তরটি আছে, ততদূর পর্্যস্ত কনে যায়, তাহা! কিছুই বুঝিতে 
পারিলাম না $ ঠিক যেন দেই স্তরটি শা কন্ডকৃটার (০০৪- 
00007) $ যে পর্য্যস্ত ননকন্ডক্টরের সঙ্গে সংস্পর্শ নাহয় সে 
পথ্যন্ত শব্ধ ছুটিতে থাকে । 

আর একটি পাহাড় দেখেয়! চমত্কৃত হইয়াছিলাম। সেটি 


একশিলা, সমুদয়ে একখানি প্রস্তর । তাহাতে একেবারে 
'কোথা ও কণামাত্র মৃত্তিকা নাই, সমুদয় পরিষ্কার ঝর্বর্‌ করি- 


তেছে। তাহার একগছাঁন অনেকদূর পথ্যস্ত ফাটিয়া গিয়াছে, 
সেই কাটার উপর বৃহৎ এক অশ্বথগাঞ্জন্মিয়াছে । তখন মনে 
হইয়াছিল, অশ্বথবৃক্ষ বড় রসিক, এই নীরস পাষাণ হইতেও 
রসগ্রহণ করিতেছে। কিছুকাল পরে আর একদিন এই অশ্বথ- 
গাছ আমার মনে পড়িয়াছিল, তখন ভাবিয়াছিলাম, বৃক্ষটি বড় 
শোষক, ইহার নিকট নীরস পাষাণেরও নিস্তার নাই। এখন 
বেধ হয় অশ্থথগাছটি আপন অবস্থান্থরূপ কাধ্য করিতেছে ; 
সকল বৃক্ষই যে বাঙ্গালার রসপুর্ণ কোমল ভূমিতে জন্মগ্রহণ 
করিয়া বিনাকষ্টে কালযাপন করিবে, এমত সম্ভব নহে । যাহার 
ভাগ্যে কঠিন পাষাণ, পাঁষাণই তাহার অবলম্বন। এখন আমি 
অশ্বখটির প্রশংসা করি। 

এক্ষণে সে সকল কথা যাউক, প্রথম দিনের কথা ছুই 
একটি বলি। অপরাছে পালামৌয়ে প্রবেশ করিয়া উভর়পার্্স্থ 
পর্বতশ্রেণী দেখিতে দেখিতে বনমধ্য দিয়! যাইতে লাগিলাম। 
বাধা পথ নাই, কেবল এক সংকীর্ণ গো-পথ দিয়া আমার 
পান্ধী চলিতে লাগিল, অনেক স্থলে উভয়পার্স্থ লত। পল্লব 
পান্ষী স্পর্শ করিতে লাগিল। বনবর্ণনায় যেক্ধূপ “শাল ভাল 


[ ৯৬'] 





তমাল, হিস্তাল” শু“নয়াছিলাম, সেবপ কিছুই দেখিতে পাইলাম 
না। তাল হিস্তাল একেবারেই নাই, কেবল শাল বন, অন্ত 
বন্ত গাছও আছে। শালের মধ্যে প্রকাণ্ড গাছ একটিও নাই, 
সকল গুলিই আমাদের দেশী কাদশ্ব বৃক্ষের মত, না হয় কিছু 
বড়, কিন্তু তাহ! হইলেও জঙ্গল অতি হুর্গম, কোথায়ও তাহার 
ছেদ নাই, এই জন্ত ভয়ানক । মধ্যে মধ্যে যে ছেদ আছে” , 
তাহা অতি সামান্ত । এইরূপ বন দিয় যাইতে যাইতে এক 
স্কানে হঠাৎ কাঠ ঘণ্টার বিম্ময়কর শব কর্ণ গোচর হইল, কাষ্ঠ 
ঘণ্ট। পূর্বে মেদিনীপুর গঅঞ্চলে দেখিয়াছিশাম। গৃহপালিত 
পশ্ড বনে পথ হারাইলে, শব্দান্সরণ করিয়! তাহাদের অন্ু- 
সন্ধান করিতে হয়; এইজন্য গলঘণ্টার উতৎপান্ত। কাষ্ঠঘণ্টার 
শব শুনিলে প্রাণের ভিতর কেমন করে। পাহাড় জঙ্গলের 
মধ্যে সে শব্খে আরও যেন অবসন্ন করে; কিন্ত সকলকে করে 
কি না তাহা বলিতে পারি না। 

পরে দেখিলাম, একটি মহিষ সভয়ে মুখ তুলিয়া আমার 
পান্ধীর প্রতি এক দৃষ্টিতে চাহিয়া আছে, তাহার গলার কাষ্ঠ- 
ঘণ্টা ঝুলিতেছে। আমি ভাবিপাম, পালিত মহিষ যখন 
নিকটে, তখন গ্রাম আর দূরে নহে। অল্পবিলম্বেই অর্ধন্ুফ 
ভৃণাবৃহ একটা ক্ষুত্র প্রান্তর দেখা গেল, এখানে সেখানে ছুই 
একটি মধু বা মোয্লাবৃক্ষ ভিন্ন সে প্রান্তরে গুল্ম কি লতা কিছুই 
নাই, সর্বত্র অতি পরিক্ষার । পর্বতচ্ছায়ায় সে প্রান্তর আরও 
রম্য হইয়াছে; তথায় কতকগুলি কোলরালক একত্র মহিষ 
চরাইতে ছল, সেরূপ, কৃষ্ণবর্ণ কান্তি আর কখন দেখি নাই? 
সকলের গলায় পুতির সাতনরী, ধুকৃধুকীর পরিবর্তে এক 


[ ৯৭ ] 





একখানি গোল আরসী ; পরিধাঁনে ধড়) কর্ণে বনফুল, কেহ 
মহিষপৃষ্টে শয়ন করিয়া আছে? কেহ বা মহিষপৃষ্ঠে বসিয়া 
আছে; কেহ কেহ নৃত্য করিতেছে । সকলগুলিই যেন 
ব্রগোপাঁল বলিয়! বোধ হইতে লাগিল। যেরূপ স্থান তাহাতে 
এই পাঁতুরে ছেলেগুলি উপযোগী বলিয়া বিশেষ সথন্দর 
দেখাইতেছিল, চারিদিকে কাল পাতর পশুও পাতুরে, তাহাদের 
রাখালও সেইরূপ । এই স্থলে বলা আবশ্যক এ অঞ্চলে মহিষ 
তিনন গোরু নাই। আর বাঁলকগুলি কোলের সন্তান। 

এই অঞ্চলে প্রধানত? কোলের বাঙ্গ। কোলের! বন্ত জাতি, 
খর্বাকৃতি, কুষ্ণবর্ণ; দেখিতে কুখ্সিত কি রূপবান্‌ তাহা আষি 
মীমাংদা করিতে পারি না। যে সকল কোল কলিকাত! 
আইসে বা ৮ বাগানে ষায় তাহাদের মধ্যে আমি কাহাঁকেও 
বূপবাঁন দেখি নাই ? বরং অতি কুংসিত বলিয়। বোঁধ করিয়াঁছি। 
কিন্ত ব্বদেশে ০কোলমাত্রেই রূপবান, অন্ততঃ আমার চক্ষে । 
বন্টেরা বনে সুন্দর ; শিশুরা মাতৃক্রোড়ে । 

প্রাস্তবের পর এক ক্ষুদ্র গ্রাম, তাহার নাম স্মরণ নাই ; 
তথায় ত্রিশ বত্রিশটি গৃহস্থ বাঁদ করে। সকলেরই পর্ণকুটার। 
আমার পান্ধী দেখিতে যাবতীয় স্ত্রীলোক ছুটিরা আসিল। 
সকলেই আঁবলুসের মত কাল, সকলেই যুবতী, সকলের কটি- 
দেশে একখানি করিয়। ক্ষুদ্র কাপড় জড়ান ; সকলেরই কক্ষ, 
বক্ষ আবরণশৃন্ত । সেই নিরাবৃত বক্ষে পুতির সাতনরী, 
তাহাতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আরসী ঝুলিতেছে; কর্ণে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বনফুল, 
মাথায় বড় বড় বনফুল । যুবতীর পরস্পর কাঁধ ধরাধরি করিয়। 
প্েখিতে লাগিল, কিন্ত দেখিল কেবল প্রান্থী আর বেহার]। 

বি 





গান্ধীর ভিতরে কে বাকি তাহা কেহই দেখিল না। আমা- 
দের বাঙ্গালায়ও দেখিয়াছি পল্লীগ্রামে বালক বালিকারা প্রায় 
পান্থ আর বেহার! দেখিয়! ক্ষান্ত হয়। তবেযদি সঙ্গে বাদ্য 
থাকে, তাহা হইলে “বরকনে” দেখিবার নিমিত্ত পান্থীর ভিতর 
দৃষ্টিপাত করে। যিনি পান্কী চড়েন, স্থতরাং তিনি ছুর্ভাগ্য, 
কিন্তু গ্রাম্যবালক বালিকারাও অতি নি১,র, অতি নির্দিয়। 
তাহার পর আবার কতকদূর গিয়া দেখিলাম পথশ্রাস্তা 
যুবতীর! মদের ভাটতে বসিয়া মদ্যপান করিতেছে । গ্রাম- 
মধ্যে যে যুবতীদের দেখিয়া আসিয়াছি ইভারা৪ আকারে 
অলঙ্কারে অবিকল সেইরূপ, যেন তাহাঁরাই আসিয়া,বসিয়াছে । 
বুবতীর! উভয় জান্ুদ্বার ভূ'ম স্পশ করিয়। দু হস্তে শালপতত্রর 
পাত্র ধর্য়া মদ্যপান করিতেছে, আর ঈষৎ হাম্ত বদনে 
সঙ্গীদের দেখিতেছে। জানু স্পর্শ করিয়া উপবেশন কর! 
কোলজাতির ল্লীলোকদিগের রীতি ; বোধ হয় যেন সাঁওতাল- 
দিগেরও এই রী'ত দেখিয়াছি । বনের মধ্যে যেখানে 
সেখানে মদের তাটি দোখলাম, কিন্ত বাঙ্গালায় ভাটিখানায় 
যেরূপ মাতাল দেখা যায়, পালামৌ পরগণায় কোন ভাটি- 
থানায় তাহ! দেখিলাম না। আমি পরে তাহাদের আহার 
ব্যবহার সকলই দেখিতাম, কিছুই তাহারা আমার নিকট 
গোপন কারত ন!, কিন্তু কখন ভ্্রালোকদের মাতাল হইতে 
দেখি নাই, অথ5 তাহারা পানকুখ নহে ।, তাহাদের মদের 
মাদকত! নাই এ কথাও বলিতে পারি না। সেই মদ পুরুষেরা, 
থাইয়! সর্বদা মাতাল হইয়া থাকে। 
, পুর্বে কয়েকবার কেবল যুবতীত্ব কথাই বলিয়াছি, ইচ্ছা- 


[ ৯৯ ] 


উ্চ। 





পূর্বক বলিয়াছি এমন নহে । বাগ্গালার পথে, ঘ'টে, বৃদ্ধাই 
অধিক দেখা যায়, কিন্ত পালামৌ অঞ্চলে যুবতীই অধিক 
দেখা যায় । কোলের মধো বৃদ্ধা অতি অল্প, তাহার৷ অধিকবয়সী 
হইলেও যুবতীই থাকে, অশীতিপরায়ণ .না হইলে তাহার! 
লোলচন্্ হয় না। অতিশয় পরিশ্রমী বলিয়া গুঠকাধ্য 
কুধিকাধ্য সকল কান্যই তাহারা করে, পুরুষেরা জ্রীলৌকের 
ন্যায় কেবল বসিয়! সস্তান রক্ষা কবে, কথন কথন চাটাই বুনে । 
আলম্ত জন্য পুরুষের। বঙ্গমহিলাদের ন্যায় শীঘ্র বৃদ্ধ হইয়া 
যাঁর, স্ত্রীলোকের! শ্রমহেতু স্থিরযৌবন1 থাকে । 
লোকে বলে পশুপক্ষীর মধ্যে পুরুষ জাঁতিই বলিষ্ঠ ও স্থন্দর ; 
নুষ্য মধ্যেও সেই নিয়ম। কিন্তু কোলদের দেখিপে তাহা 
বোধ হয় না, তাহাদের আ্রীজাতিরাই বলিষ্ঠা ও আশ্চর্য কান্তি 
বিশিষ্ট । কিন্তু তাহাদের বক়্ঃপ্রাপ্ত পুকষদের গায়ে খড়ি 
উঠিতেছে, চক্ষে মাছি উড়িতেছে, মুখে হাসি নাই, যেন 
সকলেরই জীবনীশক্তি কমিয়া আসিয়াছে । আমার বোধ হষ 
কোলজাতির ক্ষয় ধরিয়াছে। ব্যান্ত বিশেষের জীবনীশক্তি 
যেরূপ কমিয়া যাঁর, জ'তিবিশেষেরও জীবনীশক্তি সেইরূপ 
ক্ষমুপ্রাপ্ত হয়, ক্রমে ক্রমে লোপ পায়। মনুষ্যের মুত্যু আছে, 
জাতিরও লোপ আছে। 
এই পরগণায় পর্বতে স্কানে স্থানে অন্ুরেরা বাস করে, 
ম্মামি তাহাদের দেখি নাই, তাহারা কোলদের সহিত বা অন্য 
( কোন বন্য জাতির সহিত বাস করে না। শুনিয়াছি, অন্য 
্দাতীয় মনুষ্য দেখিলে তাহার! পলায় ; পর্বতের অতি নিভৃত 
স্থানে থাকে বলিয়! তাহাদের অন্থসন্ধান করা কঠিন। তাহা, 


[১০৮] 


১৯ ০ 





দের সংখ্যা নিতাস্ত অল্প হইয়া পড়িয়াছে। পুর্বকীলে যখন 
খআর্য্যেরা প্রথমে ভারতবর্ষে আসেন তখন অন্গরগণ অতি 
প্রবল ও তাহাদের সংখ্যা অসীম ছিল। অস্থরেরা আপিয়া 
ক্মার্যগণের গোর কাঁড়িয়া লইয়া বাইত, স্বৃত খাইয়া পলাইত, ৷ 
আর্য্যের। নিরুপায় হইয়া কেবল ইন্ত্রকে ডাকিতেন, কখন কখন/ 
দলবল টিয়া লাঠালাঠিও করিতেন । শেষে বহুকাল পরের 
যখন আধ্যগণ উন্নত ও শক্তিসম্পন্ন হইলেন তখন অন্থরগণকে 
তাড়াইয়াছিলেন। পক্জজিত অন্থরগণ ভাল ভাল স্থান আধ্যদের 
ছাড়িয়। দিয়া আপনার! ছর্গম পাহাড় পর্বতে গিয়! বাসস্থাপন 
করে। অন্য পর্য্যন্ত সেই পাহাড় পর্বতে তাহারা আছে, কিন্ত, 
আঁর তাহাদের 'বল বীর্য নাই; আর সে অসীম সংখ্যাও, 
তাহাদের নাই । এক্ষণে যেরূপ অবস্থ1, তাহাতে অসুরকুল 
ংস হইয়াছে বলিলেও অন্ঠান্ধ হয় না) যে দশ পাঁচ 
জন এপাঁনে সেখানে বাস করে, আর কিছু দিনের পর 
খাহারাঁও থাকিবে না। 
জাতিলোপ মধ্যে মধ্যে হইয়! থাকে, অনেক আদিম জাতিয় 
লোপ হইয়! গিয়াছে অদ্যাপি হইতেছে। জাতিলোপের হেতু 
ঈর্শনবিদ্গণের মধ্যে কেহ কেহ বলেন যে, পরাজিত ম্বাতির! 
বিজয়ী কর্তৃক বিতাড়িত হইয়া অতি অযোগ্য হ্থানে গিয়া 
বাস করিলে, পূর্ব স্থানে যে সকল সুবিধা ছিল তাঁহার অভাবে 
ক্রমে তাহারা অবনত্ত ও অবসন্ন হইয়া পড়ে । এ কথা অনেক 
ক্লে সত্য সন্দেহ নাই, অন্ুরগণের পক্ষে তাহাঁই খাটিয়াছিলঃ 
বোধ হয়। কিন্ত সাঁওতালেরাও এক সময় আধ্যগণ কর্তৃ 
বিতাড়িত হইয়া দাযিনীকোতে পলায়ন করিয়াছিল। সেই 


[১১৬১] 





অবধি অনেক কাল তথায় বাস করে, অদ্যাপি তথায় 

সাওতালেরা! বাস করিতেছে, পুর্বাপেক্ষা তাহাদের যে কুলক্ষয় 

হইয়াছে এমত শুলা যায় না। | 
মারকিন ও অন্তান্ত দেশে যেখানে সাহেবের! গিয়া রাঁজ্য 


শ্বাপন করিয়াছেন, সেখানকার আঁদিমবাসীর। ক্রমে ক্রমে 


লোপ পাইঈতেছে, তাঁহার কারণ কিছুই অনুভব হয় না । বেড 
ইত্ডিয়ান, নাঁটিক ইতগ্ডিয়ান, নিউ জিলাগুার, নিউ হলাগুর, 
তাম্মানীয় প্রভৃতি কত জাতি লোপ ্টাইতেছে। মৌরিনাঁমক 
আদিম জাতি বলিষ্ঠ, বুদ্িমান্,কশ্খৃঠ, বলিয়! পরিচিত, তাহারা ও 
সাহেবদের অধিকারে ক্রমে লোপ পাইতেছে। ১৮৪৮ সালে 
তাহাদের সংখ্যা এক লক্ষ ছিল,বিশবৎসর পরে ৩৮ হাজার হইয়া 
গিয়াছিল, এক্ষণে সেজাতির অবস্থা কি তাহা জানি না। বোধ 
ভয় এতদিনে লোপ পাইয়া থাকিবে, অথবা যদি এতদিন থাকে, 
তবে অতি সামন্ত অবস্থায় আছে। মৌরি ছুর্ধল নহে, 
তৎসন্বন্ধে একজন সাহেব লিখিয়াছেন “০15 0০ 0001693% ০0£ 
52255) 10 60091160197 1176 10056 01 6৫ 1701209,1 
তথাপি এজাতি লোপ পায় কেন? তূমি বলিবে সাহেবদের 
অত্যাচারে ? তাহ] কদাচ নহে, ক্যানেডার অধিবাঁসীসন্বন্ধে 
সাহেবের কতই যত্ব করিয়াছিলেন, কিছুতেই তাহাদের কুল- 
ক্ষয় রক্ষা করিতে পারেন নাই । ডাক্তার গিকি লিখিয়াছেন 
যে, 410 0509.029. 101 00০ 1956 200 /6215 06 11001205 
112৮6 0667 052650 ছা 08662021 1025070955 ১৪৮ 85 
50075 0655 90003 *& সর্ট * 215 0০550077076 185 


10811 (5675 10009569/ 1010151060 696] তা10) 0100505 


[ ১*হ ] 


সী সিপিএ ৮ পিপি ৩ পপ আপ ক আপ 





500091150 ৮2০2) 00115624619 ৮7111211155) 200 210102) 
200. ০100299, [9210 0:17 17160108] 26675021705 ৯ 
5০6 00515551615 71575150015 0750 6710 56000 
5065 ০07) 77015 51017 020 16001615156 50010. 
সমাজোপযোগী ভাল স্থান ত্যাগ করিয়া বিপরীত স্থানে ত এই 
জাতিদের যাইতে হয় নাই, তবে তাহাদের কুললোপ হইল* 
কেন? 

কেহ কেহ বলেন সে সাহেবদের সংস্পর্শে দোষ আছে। 
প্রধান জাতির সংস্পর্শে আসিলে সামান্ত জাতিরা অবশ্ত 
কতকটা উদ্যমভ্ঙ্গ ও অবসন্ন হুইয়া পড়ে । এ কথার প্রত্যুত্তরে 
এক জন সাহেব লিখির়াছেন ষে, ভারতবর্ষে কতই সামান্ত 
জাতি বাস করে, কিন্তু শ্বেতকায় জাতির সংস্পর্শে তাহাদের 
ত কুলবৃদ্ধির ব্যাঘাত হয় ন!। 

আমরা একরাঁ সম্বন্ধে এইমাত্র বলিতে পারি যে, ভার্ত- 
বর্ষের আদিম জাতিদের কুলক্ষম্ন অনেক দিন আরম্ভ হইয়াছে, 
কিন্ত ইংরেজদের সমাগমের পর কোন জাতির ক্ষয় ধরিয়াছে 
এমত নিশ্চয় বলিতে পারি না। তবে কো'লদের সম্বন্ধে কিছু 
সন্দেহ করা যাইতে পারে, ভাহার কারণ আর এক সময় 
সমালোচনা করা ধাইবে। এক্ষণে এ সকল কথ! যাউক, 
অনেকের নিকট ইহা শিবের গীত বোধ হইবে। কিন্তু এ 
বসে যখন যাহা মনে হয় তখনই তাহা বলিতে ইচ্ছ! 
যায়; লোকের ভাল লাগিবে না এ কথা মনে তখন 
থাকে না। যাঁহাই হউক আগামী বারে সতর্ক হইব । কিন্তু 
'থবে কথার আলোচনা আরম্ভ করা গিয়াছিল তাহা শেষ 


ড ১০৩ 4. 
হয় সি ডি ছিল এই উপলক্ষে বাঙ্গালীর কথা কিছু 
বলি। কিন্তু চারিদিকে বাঙ্গালীর উন্নতি লইয়া! বাহবা পড়িয়া 
গিক্কাছে, বাঙ্গালী ইংরেজি শিখিতেছে, উপাধি পাইতেছে, 
বিলাত যাইতেছে, বাঙ্গালী সভাতার সোপানে উঠিতেছে, 
বাঙ্গালীর আর ভাবনাকি? এসকল ত বাহ্যিক ব্যাপার । 
প্বঙ্গনমাজের আত্যন্তরিক ব্যাপার কি একবার অন্ুপন্ধীন করিলে 
ভাঁল হয় না? গুনিতেছি গণনায় বঙ্গবাপীদের সংখ্যা বাড়ি- 
তেছে। বড়ই ভাল! 





তৃতীয় প্রবন্ধ ৷ 


পূর্বে একবাব “লাতেহার”- নামক পাহাড়ের উল্লেখ 
করিয়াছিলাম। সেই পাহাড়ের কথ! আবার লিখিতে বসিয়া”ছ 
বলিয়া আমার আহ্লাদ হইতেছে | পুরাতন কথা বলিতে বড় 
স্থখ, আবার বিশেষ স্থথ এই যে আমি শ্রোত। পাইয়াছি। 
তিন চারিটি নিরীহ ভদ্রলোক, বোধ হয় তাহাদের বয়স হইয়া 
আসিতেছে, পুরাতন কথা বলিতে শীঘ্র আরম্ভ করিবেন এমন 
উমেদ রাখেন, বঙ্গদর্শনে আমার লিখিত পালামৌ-পর্য্যটন 
পড়িয়াছেন। আবার তাল বলিয়াছেন। প্রশংসা অতিরিক্ত / 
তুমি প্রশংসা! কর আর না কর, বৃদ্ধ বসিয়া তোমার পুরাতন 
কথা শুনিবে, তুমি শুন বান! শুন সে তোমার কথা শুনাবে, 
গুরাতন কথ! এই রূপে থেকে যায়, সমাজের পুজি বাড়ে। 
আমার গলে কাহার পুঁজি বাঁড়িবে না, কেন না আমার নিজের 


পপ শপ ক পবা কি তি এপ কাঠি 


[ ১০৬৫ ] 


পুজি নাই। তথাপিগল্প ক্র, তোমরা শুনিয়া আমার 
'চরবাধিত কর । 

নিত্য অপরাহে আমি লাতেহার পাহাড়ের ক্রোড়ে গিয়া 
বসিতাম, তাবুতে শত কার্য থাকিলেও আমি তাহা ফেলিয়! 
ঘাইতাম। চাঁরিটা বাজিলে আমি অস্থির হইতাম ); কেন তা! 
কখন ভাবিতাঁম না) পাহাড়ে কিছুই নৃতন নাই; কাভার, 
সহিত সাক্ষাৎ হইবে না, কোন গল্প হইবে না, তথাপি কেন 
আমায় সেখানে যাইতে হইত জানি লা । এখন দেখি এ বেগ 
আমার একার নঙে। যে সময় উঠানে ছাঁষা পড়ে, নিতা সে 
সময় কুলবধূর মন মাতিয়া উঠে, জল আনিতে যাইবে ) জল 
আঁছে বলিলেও তাঁহারা জল ফেলিয়া জল আনিতে যাইবে ; 
জলে যে বাইতে পাঁরিল না সে অভাঁগিনী সেগৃহে বপিয় দেখে 
উঠানে ছাঁয়। পড়িতেছে, আকাশে ছাঁয়া পড়িতেছে, পৃথিবীর 
রং ফিরিতেছে, বাহির হইয়া সে তাহ! দেখিতে পাইল না, 
তাহার কত ঢঃখ। বোঁধ হয় আমিও পৃথিবীর রং ফের! 
দেখিতে যাইভাম। কিন্ত আর একটু আগে, সেই নির্জন 
স্থানে মনকে একা পাঁইতাঁম, বালকের স্তাঁয় মনের সহিত ক্রীড়। 
করিতাম। 

এই পাহাড়ের ক্রোড় অতি নির্জন, কোথাও ছোট জঙ্গল 
নাই, সর্বত্র ঘাস। অতি পরিক্ষার, তাহাও বাতাস আসিয়া 
নিত্য ঝাড়িয়া দেয়। ' মৌয় গাঁছ তথায় বিস্তর। কতকগুলি 
একব্রে গলাগলি করে বাঁস করে, আর কতকগুলি বিধবার স্যার 
এখানে সেখানে একাঁকী থাঁকে। তাহারই মধ্যে একটাকে 
“সামি বড় ভাল বাসিভাম, তাহার নাম “কুমারী” রাখিয়া- 


্ ১৬৫ ] 


পপ পপি পাপী পাপ সা ৯৮ পালা স্ 





পাস ০ 
৯৮০০ পপ কাটা 


ছিলাম। কুখন তাহার ফল রি ফুল হয় নাই; কিন্ত তাহার 
ছায়া! বড় শীতল ছিল। আমি সেই ছায়ায় বসিয়! '“ছুনিয্ 
দেখিতাম। এই উচ্চ স্থানে বসিলে পাঁচ দাত ক্রোশ প্যযত্ত 
দেখা যাইত। দূরে চারিদিকে পাহাড়ের পরিথ1, যেন সেই 
খানে পৃথিবীর শেষ হইয়া গিয়াছে । দেই পরিথার নিষ্ে গাঢ় 
ছায়া, অল্প অন্ধকার বললেও বলা বায়। তাহার পর জঙ্গল। 
গল নামিরা ক্রমে স্পষ্ট হইয়াছে । জঙ্গলের মধ্যে দুই একটা 
গ্রাম হইতে ধীরে ধীরে ধূম উঠিতেছে, কোন গ্রাম হইতে হয়ত 
বিষণ তাবে মাদল বাঁজিতেছে, তাহার পরে আমার তাবু, যেন 
একটা শ্বেত কপোতী জঙ্গলের মধ্যে একাকী বসিয়া কি 
ভাঁবিতেছে। আমি অন্তমনস্কে এই সকল দেখিতাঁম ) আর 
ভাবিতাম্ এই আমার ““ছুনিয়া |” 

একদিন এই স্থানে স্থথে বিয়া! চারিদিক দেখিতেছি, হঠাৎ 
একটি লতার উপর দৃষ্টি পড়িল; তাঁহার একটি ডালে অনেক 
দিনের পর চারি পাঁচটি ফুল কুটিয়াছিল। লতা আহলাদে তাহ! 
গে।পন করিতে পারে নাই, যেন কাঁহারে দেখাইবার জন্য 
ডালটি বাড়াইয়। দ্বিয়াছিল। একটা কালে। কাপে বড় গোচেব 
ভ্রমর তাহার চারিদিকে ঘুরিয়া বেড়াইতেছিল ;) আর এক 
'একবার সেই লতায় বসিতেছিল। লতা! তাহাতে নারাজ, 
ভ্রমর বসিলেই অস্থির হুইয়া মাথা নাঁড়িয়। উঠেন লতাঁকে 
এইরূপ অচেতনের গায় রঙ্গ করিতে দেখিয়া আমি হাসিতে 
ছিলাম, এমত সময়ে আমার পশ্চাতে উচ্চারিত হুইল, 

“রাধে মন্থযং পরিহুর হুরিঃ পাদ মূলে তবায়ং ৮ 
আমি পশ্চাঁৎ ফিকিলাম, দেখিলাম কেহই নাই, চারিদিক 


[ ১০৬. ] 





চাঙ্লাম কোথাও কেহ নাই। আমি আশ্চণ্য হইয়। ভাবিতেছি 
এমত সময় আবার আর এক দিকে শব্দিত হইল, 
“রাধে মন্তযুং ইত্যাদি ।১, 
আমার শরীর রোমাঞ্চ হইল, আমি সেই দিকে কতক 
সভয়ে, কতক কৌতৃছলপরবশে গেলাম। সে দিকে গিয়া 
আর কিছুই শুনিতে পাইলাম ন! কিয়ৎ পরেই “কুমারীর” ডাল 
হইতে সেই শ্লোক আবার উচ্চারিত হইল, কিন্তু তখন শ্লোকের 
স্পষ্টতা আর পূর্বমত বোধ হইল না, কেবল সুর আর ছন্দ শুনা 
গেল। “কুমারীর” মূলে আসিয়া দেখি, হরিয়াল ঘুঘুর স্তায় 
একটী পক্ষী আর একটার নিকট মাথ। নাঁড়িয়া এই ছন্দে 
আন্ষালন করিতে করিতে অগ্রসর হইতেছে, পক্ষিণী তাহাকে 
ডানা মারিয়া সরিষা যাইতেছে, কখন কখন অন্ত ডালে গিয়া 
বসিতেছ। এবার আমার ভ্রাপ্ত দূর হইল, আমি মন্দাক্রান্তা- 
চ্ছন্দের একটিমার শ্লোক জাঁনিতাম; ছন্দটা উচ্চারণ মাত্রেই 
প্লেকিটি আমার মনে আসিল, সঙ্গে সঙ্গে কর্ণেও তাহার কাধ্য 
তইয়াছিল, আমি তাহাই শুনিয়াছিলাম “রাধে মন্থ্যং '” কিন্ত 
পক্ষী বর্ণ উচ্চারণ করে নাই, কেবল ছন্দ উচ্চারণ করিয়াছিল । 
তাহা যাঁহাই হউক আমি অবাক হইয়া পক্ষীর বুখে সংস্কৃত 
ছন্দ শুনিতে লাগিলাম। প্রথমে মনে হইল যিনি “উদ্ধব দূত”” 
লিখিয়াছেন্ তিনি হয়ত এই জাতি পক্ষীর নিকট ছন্দ পাইয়া- 
ছিলেন? শ্লোকটর সঙ্গ এই “কুঞ্জকীরাহ্ুবাদের” বড় স্ুসঙ্গতি 
হইয়াছে । শ্লোকটী এই-__ 
রাধে মন্থ্যুং পরিহর হরি পাঁদমূলে তবায়ং। 
জাতং দৈবাদনদূশমিদং বারমেকংক্ষমন্য ॥ 


২ 


[ ১৯৭ ] 








এতানাকর্ণয়সি নয়বন্‌ কুগ্তকীরাহুবাদান্‌। 
এভিঃ ক্রুবৈব্মমবিরতং বঞ্চিতাঃ বঞ্চিতাঃ ন্মঃ ॥ * 
উদ্ধব মণুর! হইতে বৃন্দাবনে আনিয়া রাধার কুঞ্জে উপস্থিত 
হইলে গোপীগণ আপনাদের ছুঃখের কথা তাহার নিকট বলি- 
তেছেন, এমত সময়ে কুঙজজের একটা পক্ষী বৃক্ষশাখা হইতে 
এিলিয়া উঠিল, “রাধে আর রাগ করিও না । চেয়ে দেখ, স্বয়ং 
হরি তোমার পদতলে । দৈবাঁৎযাহা গিঘাছে একবার তাহ! 
ক্ষমা কর।” গোঁপীরা এতবার এই কথ! রাধিকাঁকে বলিরাছে 
বে কুপ্ত পক্ষীরা তাহা শিখয়াছিল। যাহা শিখিয়াছিল অর্থ 
না বুঝিয়! পক্লীরা তাহা সর্বাদাই বলিত। গোঁপীরা উদ্ধবকে 
বলিলেন, *গুন্লে-কুপ্রের এ পাখি কি বলিল--শুন্লে? 
একে বিধাতা আমাদের বঞ্চনা করেছেন, আবার দেখ পোড়। 
পক্ষীও কত দগ্ধাচ্ছে।” 
পক্ষী আবার বলিল “রাধে মন্থ্যং পরিহর হরিঃপাদমূলে 
তবায়ং” তাণাহ বলিতেছিলাম বিহ্গচ্ছনদ বিহঙ্গের উক্তি বড় 
স্বন্দর হইয়াছিল । 
ছন্দ কি ণীত শিশাইলে অনেক পক্ষী তাহা শিখিতে পারে 
কিন্তু ছন্দ যে কোন পক্ষী স্বরে শ্বাভাবিক আছে তাহ! আমি 
জানিতাম না, সুন্রাং বন্ত পক্ষীর মুখে ছন্দ শুনিয়। ঝড় চমতৎ্কৃত 
হইয়াছ্লাম। পক্ষীটীর সঙ্গে কতই বেড়াইলাম, কতবার এই 
ছন্দ শুনিপাম, শেয সন্ধ্যা হইলে তাবুতে ফিরিয়া আসিলাম। 
+পথে আপিত আদিতে মনে হইল যদি এখানে কেহ ডারউইন 
' সাহেবের ছাত্র থাকিতেন তিনি ভাখিতেন নিশ্চয়ই এ পক্ষীটা 
রাধাকুঞ্জের শিক্ষিত পক্ষীর বংশ, বৈছিক কারণে পূর্ব পুরুষ্বের 


[ ১৯৮ ] 











অভ্যস্ত শ্লোক ইহার কণ্ঠে আপনি আসিতেছে । টুবষ্ণবদের 
উচিত'এ বংশকে আপন আপনু কুঞ্জে স্থান দেন। রাধাকুঞ্জের 
সকল গিক্লাছে, সকল ফুরাইয়াছে, কেবল এই বংশ আছে। 
আমার ইচ্ছ! আছে একটী হরিয়াল পালন করি,দেখি সে “বাধে 
মন্থ্যং পরিহর” বলে কি না বলে। 


আর একদিনের কথা বলি; তাহা হইলেই লাতেহার ', 


পাহাড়ের কথা আমার শেষ হয়। যেরূপ নিত্য অপরাহ্ে এই 
পাহাড়ে যাইতাঁম সেইরূপ আর একদিন যাইতেছিলাম, পথে 
দেখি একটি যুবা কীরদর্পে পাহাড়ের দিকে যাইতেছে, পশ্চাতে 
কতকগুলি স্্রীলোক তাহাকে সাধিতে সাধিতে সঙ্গে যাইতেছে । 
আমি ভাবিলাম যখন স্ত্রীলোক সাধিতেছে তখন যুবার রাগ 
নিশ্চয় ভাতের উপর হইয়াছে ; আমি বাঙ্গালী, সুতরাং এ 
ভিন্ন আরকি অনুভব করিব? এককালে এরূপ রাগ নিজেও 
কতবার করিয়াছি, তাহাই অন্তের বীরদর্প বুঝিতে পারি। 

যখন আমি নিকটবর্তা হইলাম তথন স্ত্রীলোকের নিরজ্ত 
হইয়া এক পার্থ দাড়াইল। বৃত্তান্ত জিজ্ঞাসা করাক্ন যুবা 
সদর্পে বলিল “আমি বাঘ মারিতে যাইতেছি, এইমাত্র আমার 
'গ্ররুকে বাঘে মারিয়াছে ; আমি ত্রাঙ্গণ সন্তান; সেবাঘ ন! 
মারিয়া কোন্‌ সুখে আর জলগ্রহণ করিব 1” "আমি কিঞ্চিং 
অপ্রতিত হইয়া! বলিলাম “চল, তোমার সঙ্গে যাইতেছি।” 
আমার অদৃষ্টদোষে বগলে বন্দুক, পাঁ় বুট, পরিধানে কোট 
প্রেপ্ট,লন,বাস-তাবুতে ? সুতরাং এ কথা না বলিলে ভাল দেখায় 
ন?, বিশেবতঃ অনেকে আমাক সাহেব বলিয়া! জানে, অত এব 
সাচ্ছেবি ধরণে নিঃদক্কৌচ চিত্তে চপিলান। আমি স্বভাবতঃ 


নি 


০১৬৪) ] 


বড় ভীত, তাহা! বলিয়া ব্যাত্র ভলুক সম্বন্ধে আমার কখন 
ভয় হয় নাই। বৃদ্ধ শিকারীর৷ কত দিন পাহাড়ে একাকী 
যাইতে আমায় নিষেধ করিয়াছে কিন্তু আমি তাহ! কখনও 
গ্রাহ করি নাই, নিত্য একাকী ষাঁইতাম ; বাঘ আসিবে, 
আমায় ধরিবে, আমায় খাইবে, এ সকল কথা কখনও আমার 
মনে আসিত না। কেন আসিত না তাহা আমি এখনও 
বুঝিতে পারি না । সৈনিক পুরুষদের মধ্যে অনেকে আপনার 
ছায়! দেখিয়া ভয় পায়, অথচ অন্রান বদনে র্ণ-ক্ষেত্রে গিয়া 
রণ করে। গুলি কি তরবার তাহার অঙ্গে প্রবিষ্ট হইবে 
একথ। তাহাদের,মনে আইসে না। যত দিন তাহাদের 
মনে একথা না আইসে, ততদিন লোকের নিকট তাঁহারা 
সাহসী; যে বিপদ না বুঝে, সেই সাহপসিক । আদিম অব- 
স্বায় সকল পুরুষই সাহসী ছিল, তাহাদের তখন ফলাঁকল 
জ্ঞান হয় নাই। জঙ্ষলীদের মধ্যে অদ্যাপি দেখা যায় সকলেই 
সাহসী, ইউরোপীয় সভ্যদের অপেক্ষাও অনেক অংশে সাহসী ; 
হেতু ফলাফল বোধ নাই। আমি তাহাই আমার সাহসের 
বিশেষ গৌরব করি নাঁ। সভ্যতার সঙ্গে সঙ্গে সাহসের ভাগ 
কমিয়! আইসে; পেনীল কোড যত ভাল হয় সাহস তত 
অন্তহিত হয়। এখন এ সকল কচকচি যাক । 

যুবার সঙ্গে কতকদূর গেলে দে আমায় বলিল, “বাঘটি 
আমি ব্বহত্তে মারিব।” আমি হাসিয়া সম্মত হুইলাম। যুবা 
আর কোন কথা না বলিয়। চলিল। তখন হইতে নিজের 
প্রতি আমার কিঞ্চিৎ ভালবাসার সঞ্চার হইল। পস্বহন্তে 
মারিব” এই কথায় বুঝাইয়াছিল; যে পরহস্তে বাঘ মরা সম্ভব; 

৯৩ 


[ ১১৭, ] 


আমি সাহেববেশধারী, অবশ্ত বাঘ মারিলে মারি 
পারি, 'যুবা এ কথা নিশ্চয় ভাবিয়াছিল, তাহাতেই আমি 
কৃতার্থ হইয়াছিলাম। তাহা্প পর কতকদুর গিয়া! উভদ্বে 
, পাহাড়ে উঠিতে লাগিলাম। যুব! অগ্রে, আমি পশ্চাতে । 
যুবার স্ন্ধে টাঙ্গী, সে একবার তাহা স্বন্ধ. হইতে নামাইয়া 
তীক্ষতা পরীক্ষা করিয়া! দেখিল, তাহার পর কতক দূর গিয়া, 
মৃছুম্বরে আমাকে বলিল আপনি জুতা খুলুন, শব্দ হইতেছে। 
আমি জুতা খুলিয়া খালি পায় চলিতে লাঁগিলাম, আবার 
কতকদূর গিয়া বলিল, “আপনি এইথানে দাড়ান আমি 
একবার অনুসন্ধান করিয়া আদি ।” আমি ,দাড়াইয়া থাকি- 
লাম, যুবা চলিয়া গেল। প্রায় দণ্ডেক পরে ঘুধা আসিয়! 
অতি প্রফুল্ল বদনে বলিল, “হইয়াছে, সন্ধান পাইয়াছি, শীন্ব 
আনুন বাঘ নিদ্রা যাইতেছে ।” আমি সঙ্গে গিয়া দেখি, 
পাহাড়ের এক স্থানে প্রকাঁগ দীধিকার ন্তায় একটা গর্ত বা 
গুহা আছে, তাহার মধ্যস্থানে প্রস্তর নিশ্মিত একটি কুটির, 
চতুঃপার্্স্থ স্থান তাহার প্রাঙ্গণস্বরূপ। বুবা সেই গর্ডের 
. নিকটে এক স্থানে দাড়াইফা অতি সাবধানে ব্যান্র দেখাইল। 
প্রাঙ্গণের এক পার্খে ব্যান নিরীহ ভাল মানুষের হ্টায় চোখ 
বুজিয়। আছে, মুখের নিকট স্ন্দর নখর সংযুক্ত একটী থাব! 
দর্পণের ন্যায় ধরিয়। নিদ্রা যাইতেছে । বোধ হয় নিদ্রার পুর্বে 
থাঁবাটি একবার চাটিয়াছিল। যে দিকে ব্যান্্র নিদ্রিত ছিল, 
যুবা মেই দিকে চলিল। আমায় বলিল, “মাথা নত করিয়! 
আস্মন, নতুবা প্রাঙ্গণে ছায়া! পড়িবে” তদনুসারে আমি নত 
. শিরে চলিলাঁম; শেষ একখানি বৃহৎ প্রস্তরে হাত দিয়া বলিল, 


[. ১১১] 


পবিস 


শপ তর আনব পপ 


“আসুন, এই থানি ঠেলিয়া তুলি,” উভয়ে প্রস্তরখানিকে 
স্থানছ্যুত করিলাম। তাহার পূর যুবা একা তাহা ঠেলিসা 
গর্ভের প্রান্তে নিঃশব্দে লইয়া গেল, একবার ব্যাদ্রের প্রতি 
চাঠিল, তাহার পর প্রস্তর ঘোর রবে প্রাঙ্গণে পড়িল; শব্দে 
কি আঘাতে তাহা! ঠিক জানিন! ব্যান উঠিয়। দাড়াইধাছিল ; 
"তাহার পর পড়িয়া গেল। এ নিদ্রা আর ভাঙ্গিল না। পর 
দিবস বাহকস্কন্ধে ব্যাপ্রটী আমার তাবু পর্য্যন্ত আসিয়াছিলেন ; 
কিন্ত তথন তিনি মহানিদ্রীচ্ছন্ন বলিয়া বিশেষ কোন প্রকার 
আলাপ হইল না। 


চতুর্থ প্রবন্ধ | 


আঁবার পালাঁমৌর কথা লিখিতে বসিয়াছি; কিন্তু ভাবি- 
তেছি এবার কি লিখি? লিখিবার বিষয় এখন ত কিছুই 
মনে হ্য় না, অথচ কিছু নাকিছু পিখিতে হইতেছে । বাঘের 
পরিচয় ত আর ভাললাগে না; পাহাড় জঙ্গলের কথাও 
হইয়া গিয়াছে, তবে আঁর লিখিবার আছে কি? পাহাড়, 
জঙ্গল, বাঘ, এই লইয়াই পালামৌ। যে সকল ব্যক্তিরা 
তথায় বাস করে তাহারা জঞ্গলি? কুৎসিত, কাকার জানওয়ার, 
তাঁহাদের পরিচয় লেখ! বৃথা । 

কিন্ত আবার মনে হয়, পাঁলামৌ জঙ্গলে কিছুই সুন্দর 
নাই একথা বলিলে লোৌকে আমায় কি বিবেচনা! করিবে ? 
সুতরাং পালামৌ সম্বন্ধে দুটা কথা বলা আবশ্তক। 


[ ১১২ ] 


শপে পাতি পপ ত শী বিপীশপাশী শিপ সপ পপ 





একদিন সন্ধ্যার পর চিকপর্দা ফেলিয়া! তাঁবুতে এক! বসিয়া 
সাহেবি ঢঙ্গে কুককুরী লইয়! ক্রীড়া করিতেছি,» এমত সময় এক 
জন কে আসিয়া বাহির হইতে আমায় ডাকিল পথ সাহেব 1” 
আমার সব্দধশরীর জলিয়া উঠিল। এখন ভাসি পায়, কিন্ত 
তখন বড়ই রাগ হইয়াছিল। রাগ হইবার অনেক কারণও 
ছিল) কারণ নং এক এই যেজ্জামি মান্য ব্যক্তি; আমাকে 
ডাঁকিবার সাধ্য কাহার? আমি যাহার অধীন, অথবা যিনি 
আমা অপেক্ষা অতি প্রধান, কিম্বা যিনি আমার বিশেষ আত্মীয়, 
কেবল তিনিই আমাকে ভাকিত্েে পারেন । অন্য লোকে ৭শুন্ুন” 
বলিলে সহ্য হয় না। ঃ 

কারণ নং ছুই যে, আমাকে প্খী সাহেব” বলিয়াঁছে। বরং 
“রথ! বাহাতর” বলিলে কতক সহ্য করিতে পারিতাম, ভাবিতাঁম 
হয় ত লৌকট! আমাকে মুছলমাঁন বিবেলনা করিয়াছে, কিন্তু 
পদের অগৌরব করে নাই । পা সাহেব” অর্থে যাহাঁই 
হউক, ব্যবহারে তাহা আমাদের “বোস মশায়” বা “দাস 
মশায়” অপেক্ষা অধিক মানের উপাধি নহে । হাঁরম্যান 
কোম্পানি বাহার কাপড় সেলাই করে, ফরার্স দেশে বাহার 
জুতা সেলাই হর তাহাকে “বোস মহাশয়” বা “দাস মহাশয়” 
বলিলে সহ্য হইবে কেন? বাবু মহাশয় বলিলেও মন উঠে 
না। অতএব শ্টির করিলাম. এ ব্যক্তি যেই হউক, আমাকে 
তুচ্ছ করিয়াছে, আমাকে অপমান করিয়াছে । 

সেই মুছূর্তে তাহাকে ইহার বিশেষ প্রতিফল পাইতে হইত, 
কিন্ত “হারামজাদ, “বদ্জাত” প্রভৃতি সাহেবস্বভাব স্থলভ 
গলি ব্যতীত আর তাহাকে কিছুই দিই নাই, এই আমার 


বাহাদুরি । বোধ হয়, সে রাত্রে বড় শীত পড়িয়াছিল, তাহাই 
তাবুর বাহিরে যাইতে সাহস করি নাই। আগন্তক গালি থাইয়। 
আর কোন উত্তর করিল না; বোধ হয় চলিয়া গেল। আমি 
চিরকাল জানি, যে গালি খায়, সে হয় ভয়ে মিনতি করে, নতুবা 
গাঁলি অকারণ দেওয়া! হইয়াছে প্রতিপন্ন করিবার নিমিন্ত 
"তর্ক করে; তাহ! কিছুই না করায়, আমি ভাঁবিলাম এব্যক্তি 
চমৎকার লোক। সেও হয় তআমাকে ভাবিল “চমৎকার 
লোক ।” নাম জানে না, পদ জানেনা, কি বলে ডাকিবে 
তাহা জানে ন1 ; স্থুতরাং দেশীয় প্রথা অনুসারে সন্ত্রম করিয়া “খা 
সাহেব, ব্রার ডাঁকিয়াছে, তাহার উত্তরে যে "হারামজাদ+ 
বলিবা গালি দেয়, তাহাকে “চমত্কার লোক” ব্যতীত আর কি 
মনে করিবে? 

দণ্ডেক পরে আমার “খাঁনশামা! বাবু” ভাবুর দ্বারে আসর! 
ঈবৎ কণকগু য়নশব্দ দ্বারা আপনার আগমনবার্া জানাইল। 
আমার তখনও রাগ আছে, “খানসামা বাবু”ও তাহা জানত, 
এই জন্য কলিক। হস্তে তাবুতে প্রবেশ করিল, কিন্তু অগ্রসর 
হইল না, দ্বাবের নিকট দীঁড়াইক়1, অতি গন্তীরভাবে কলিকাক্ 
“ফু* দিতে লাগিল, আমি তাহার মুখের প্রতি চাহিয়া তাব- 
তেছি, কতক্ষণে কলিক! আলবোলায় বসাইয়। দিবে, এমন 
সময়ে বারের পার্খে কি নড়িল, চাহিয়া দেখিলাম সেদিকে 
কিছুই নাই, কেবল নীল আকাশে নক্ষত্র জলিতেছে; তাহার 
শরেই দেখি ছুইটি অস্পষ্ট মনুষ্যমুর্তি দাঁড়াইয়া! আছে, টেবিলের 
বাতি সরাইলাম, আলোক তাহাদের অঙ্গে পড়িল। দেখিলাম 
একটি বৃদ্ধ আবক্ষ শ্বেত শ্মশ্রতে পরিপ্লুত, মাথাক্ম প্রকাও 


[558 ] 





পাগড়ি, তাহার পার্থে একটি স্ত্রীলোক বোধ হয় স্যেন যুবতী 


আমি, চাহাদের প্রতি চাহিবামাত্র উভয়ে বারের নিকট অগ্র- 
সর হইয়া যোড়হন্তে নতশিরে আমায় সেলাম করিয়া ঈাড়াইল। 
যুবতীর মুখ দেখিয়া বোধ হইল যেন ঝড় ভয় পাইয়াছে, অথচ 
ওঠে ঈবং হাদি আছে। তাহার যুগ্ম ভর দেখিয়া! আমার 
মনে হইল ঘেন অতি উর্ধে নীল আকাঁশে কোন বৃহৎ পক্ষী পক্ষ” 
বিস্তার করিয়া ভাপিতেছে । আমি অনিমিষ লোচনে স্ন্দরী 
দেখিতে লা'গলাম; কেন আপসয়াছে, কোথায় ব্লাড়ী এ কপ! 
তখন মনে আদিল না। আমি কেবল তাচার রূপ দেখিতে 
লাগিলাম, ভাহাকে দেখিয়াই প্রথমে একটা রূপকতী পক্ষিনী 
মনে পড়িল ) গেঙ্গোখালি “মোহনায় যেখানে ইংরোজরা 
প্রথম উপনিবান স্বাপন করেন, সেইথানে একদিন অপরাহে 
বন্দুক স্বন্ধে পক্ষী শিকার করিতে গিয়াছিলাম, তথায় কোন 
বুক্ষের শুষ্ক ডাঁলে একটি ক্ষুদ্র পক্ষী অতি বিষগ্নভাবে বসিয়াছিল, 
আমি তাহার সম্ুথে গিয়! ঈাড়াইলাম, আমায় দেখিয়। পক্ষী 
উত্ড়ল ন1, মাথ! হেলাইয়া আগার দেখিতে লাগিল। ভাবি- 
লাম, “জঙ্গলী পাধী হয় ত কখন মানুষ দেখে নাই, দেখিলে 
শিশ্বাসঘাঁতককে চিনিত।৮ চিনাইবার নামত । আমি হাপিয়া 
বন্দুক ভুলিলাম? তবু পক্ষী উড়িল না, বুক পাতি! আমার 
মুখপ্রতি চাঁহর1 রহিল। আমি অপ্রতিভ হইলাম, তখন ধীরে 
ধীরে বন্দুক নামাইয়। অনিমেষলোচনে পক্ষীকে দেখিতে 
লাগিলাম ) তাহার কি আশ্চর্য রূপ! সেই পক্ষিণীতে "য রূপ- 
শি দেখিয়াছিলাঁম, এই যুবতীতে ঠিক তাহাই দেখিলাম । 
আনি কখন কবিয় চক্ষে ঈপ ঘেখি নাই। চিরক।ল বাপকের 


[ ১১৫ ] 
22624422225 
মত রূপ দেখিয়া থাঁকি, এই জন্য আমি যাঁহ। দেখি, তাহা 
অন্যকে বুধাইতে পারি ন।। রূপ যে কি জিনিস,.*রূপের 
সাকার কি, শরীরের কোন কোন স্থানে তাহার বাসা, এ 
সকল বার্থ! আমাদের বঙ্গকবিরা! বিশেষ জানেন, এই জরন্ত 
তাহারা অঙ্গ বাছিয়া বাছিয়া বর্ণনা করিতে পারেন, ছুর্ভাগ্য- 

"বশতঃ আমি তাহা পার না। তাহার কারণ আমি কথন 
অঙ্গ বাছিয়া রূপ তল্লান করি নাই । আমি ষে প্রকারে রূপ 
দেখি, নিলজ্জ হইয়। তাহ! বলিতে পারি। একনার আমি দুই 
বংসরের একটি শিশু গৃহে বাখয়া বিদেশে গিয়াছিলাম। 
শিশুকে সর্বদাই মনে হইত, তাহার স্তায় রূপ আর কাহারও 
দেখিতে পাইতাম না । অনেক দিনের পর একটি ছাগ শিশুতে 
সেই বপরাশি দেখিয়া আভ্লাদে তাহাকে বুকে করিয়াছিলীম । 
আমার সেই চক্ষু! আমি রূপ রাশ কি বুঝিণ? তথাপি 
ঘুবতীকে দেখিতে লাগিল।ম। 

বাল্যকালে আমার মনে হইত যে ভূত প্রেত যে প্রকার 
নিজে দেহহীন, অন্তের দেহ আবিভারে বিকাশ পায়, রূপ ও 
সেই প্রকার অন্যদেহ অবলম্বন করিয়। প্রকাশ পায়, কিন্তু 
প্রভেদ এই যে, ভূতের আশ্রয় কেবল মনুষ্য, বিশেষতঃ মানবী । 
কিন্তু বৃক্ষ, পল্লব, নদ ও নদী প্রহ্থতি সকলেই রূপ আশ্রয় করে। 
ঘুবতীতে যে রূপ, লতায় সেই রূপ, নদীতে ও সেই,রূপ, পক্ষীতে 9 
সেই রূপ, ছাগেও সেই রূপ? সুতরাং দ্ূপ এক, তবে পাত্র 
ভেদ। আমি পাস্র দেখিয়া! ভুলি না; দেহ দেখিয়! ভুলি না; 
ভূলি কেবল রূপে । সে রূপ, লতার থাক অথবা যুবতীতে থাক, 
আমার মনেয় টক্ষে ভাঁহার কোন প্রভেদ দেখি না। অনেডকর 


1 ১১৬ ] 


পাপ পি তা ও 








এই প্রকার রুচিবিকার আছে । ধাঁহারা বলেন" যুবতীর দেহ 
দেখিঙ্ু!। ভুলিয়াছেন তাহাদের মিথ্যা কথা। 

আমি যুবতীকে দেখিতেছ এমত সময় আমার খানসাম 
বাবু বলিল “এব বাই, এরাই তখন খা সাহেব বলিয় 
ডাকিয়াছিল।” শুনিবামাত্র আবার রাগ পর্বত গঞ্জিয়া 
উঠিল, চিৎকার করিয়া আমি তাহাদের তাড়াইয়া দিলাম।', 
€সই অবধি আর তাহাদের কথ| কেহ আমার বলে নাই। পর 
দিবম অপরাত্েে দেখে এক বটতলায়, ছোট বড় কতকগুল। 
স্ীলোক' বসিয়া আছে, নিকটে ছুই একটা “বেতো” ঘোঁড়। 
চরিতেছে £ জিজ্ঞাসা করায় জানিলাম তাহারাও “বাই”? ) 
ব্যয় লাঘব করিবার নিরমন্ত তাহারা! পাঁলাঁমৌ দিয়া যাই- 
তেছে, এই সময় পুর্বরাত্রের বাইকে আমার স্মরণ হুইল, 
ছাহার গীত শুনিব মনে করিয়। তাহাকে ডাকিতে পাঠাইলাম। 
কিন্ত লোক ফিরিয়া আসিয়া বাঁলল অতি প্রত্যুষে সে চলিয়া 
গিয়াছে, আমি আর কোন কথা কহিলাম ন1 দেখিয়া একজন 
রাজপুত প্রতিবাসি বলিল, “সে কাদিয়। গিরীছে 1” 

আঁ! কেন? 

প্র। এই জঙ্গল দিয়া আমিতে আসিতে তাহার সঙ্গীরা 
সকলে মরিয়াছে, মাত্র একজন বৃদ্ধ সঙ্গে ছিল “থরচাও?, 
ফুরাইয়াছে। ছুইদিন উপবাস করেছে, আরও কতদিন উপবান 
করিতে হয় বলা যায় না। এজঙ্গল পাহাড় মধ্যে কোথ। 
ভিক্ষা পাইবে ? আপনার নিকট ভিক্ষার নিমিত্ত আপিয়াছিল, 
আপনিও ভিক্ষা দেন নাই । 

এ কথা শুনিয়া! আমার কষ্ট হইল, তাহার বিপদ কতক 


[ ১৯৭ 1 





পর 


অনুভব করিতে পারিলাম, নিজে সেই অবস্থায় পড়িলে কি 
যন্ত্রণা পাইতাম, তাহা কল্পনা করিতে লাগিলাম। জঙ্গলে 
ভান্নাভাব, আর অপার নদীতে নৌকা ডুবি একই প্রকার । 
আমি তাহাকে অনায়াসে ছুই পাঁচ টাকা দিতে পারিতাম, 
তাহাতে নিজের কোন ক্ষতি হইত না; অথচ সে রক্ষা পাইত । 
আমি তাঁহাকে উদ্ধার করিলাম না, তাড়াইয়া দিলাম; এ 
নিঠ.বতাঁর ফল একদিন আমায় অবশ্ত পাইতে হইবে, এইরূপ 
কথা আমার সর্বদা মনে হইত | ছুই চারি দিনের পর একটি 
সাহেবের সহিত আমার দেখা ভইল। তিনি দশক্রোশ দূরে 
এক! থাকিতন, গল্প করিবার নিমিত্ত মধ্যে মধ্যে আমার 
তাঁবুতে আমিতেন। গল্প করিতে করিতে আমি ততীহাঁকে 
যুবতীর কথা বলিলাম। তিনি কিয়ৎক্ষণ রহস্ত করিলেন, 
তাহার পর বলিলেন, আমি ভ্ত্রীলোৌকটার কথা শুনিষাছি; 
সে এজছ্গল 'অতিক্রম করিতে পারে নাই, পথেই মরিয়াছে; 
এ কথ! সত্যই হউক বা মিথ্যাই হউক, আমার বড়ই কষ্ট 
হইল; আমি £কবল অহঙ্কীরের চাঁতুর'তে পড়িয়া “খা সাহেব? 
কথার চটিগ়াছিলাম । তখন জানিতাম না যে একদ্দিন আপনার 
অহঙ্কারে আপনি হাঁসিব। 

সাহেবকে বিদায় দিয় অপরাহ্ন যুবতীর কথা ভাঁবিতে 
ভবিতে পাহাড়ের দিকে যাইতেছিলাঁম, পথিমধো কতকগুলি 
কোলকন্তার সহিত সাক্ষাৎ হইল, তাহাঁবা ““দাঁড়ি”” হইতে জল 
তুলিতেছিল। এই অঞ্চলে জলাশয় একেবারে নাস্ই্নদী শীতকালে 
একেবারে শুক্ষপ্রায় তইয়া যায়, সুতরাং গ্রাম্য লোকের 
এক একস্থানে “পাতকোক়্ার”মাকারে ক্ষুদ্র খাদ খপন করে" 


পরপর ০ পা পপ পপ পাপা পা 


[১১৮] 


ভাহা ছুই হাঁতের অধিক গভীর করিতে হয় ন-»-সেই খাঁদে টি 
ক্রমে, চ'ইয়া জমে। আট দশ কলন তুলিলে আর কিছু 
থাকে না, আবার জল ক্রমে আসিয়া জমে। এই ক্ষুদ্র খাদ 
টিকে দাড়ি বলে। 

কোলকন্তারা আমাকে দেখিয়! ঈাড়াইল। তাহাদের মধ্যে 
একটি লঙ্বোদরী-_সর্ধাপেক্ষ! বয়োজোষ্ঠা_মাথায় পুর্ণ কলস ছুই", 
হস্তে ধরিয়া হাম্তমুখে 'মাম'য় বলিল, রাত্রে নান দেখিতে আসি- 
নেন? আমি মাথ| হেলাইঝ। স্বীকার করিলাম, অমনি সকলে 
হাসিয়া উঠিল। কোলের যুবতীর! যত হাসে, যত নাচে, বোধ 
হয় পৃথিবীর আর কোন জাতির কন্তারা তত হানতে নাচিতে 
পারে না; আমাদের দুরন্ত ছেলেরা তাহার শতাংশে পারে না। 

সন্ধার পর 'আমম নৃত্য দেখিতে গেলাম; গ্রামের প্রাস্ত- 
ভাঙ্গে এক বটবৃক্ষতলে গ্রামস্থ যুবার1 সমুদদযই আমির! একক্র 
ভইঈয়াছে। তাভারা «র্খোপা” বাধিয়াছে, তাহাতে ছুই তিন- 
থানি কাঠের *চিক্রণী” সাজাইয়াছে। কেহ মাদল আনিয়াছে, 
কেহ ব লম্বা লাঠি আনিয়াছে, রিক্তহস্তে কেহই আসে নাই; 
বয়সের দোষে সকলেরই দেহ চঞ্চল, সকলেই নানা ভঙ্গীতে 
আপন আপন বলবীর্ধ্য দেখাইতেছে ; বৃদ্ধের! বুক্ষমূলে উচ্চ 
মুন্মর মঞ্চের উপর জড়বৎ বপিয্লা আছে, তাহাদের জানু প্রায় 
স্কন্ধ ছাড়াইর়'ছে, তাহারা বপিয়৷ নান! ভঙ্গীতে কেবল ও ক্রীড়। 
করিতেছে । আমি গিয়। তাহাদের পার্খে বসিলাম। 

এই সময় ঞদলে দলে গ্রামগ্থ যুবতীরা আলিয়া জমিতে 
লাগিল; তাহার! আপিয়াই যুবাদিগের প্রতি উপহাস আরম্ভ 
বৃরিল, সঙ্গে সঙ্গে বড় হাসির ঘট! পড়িয়া গেল। উপহাস 


[ ১১৯] 


আমি কিছুই বুঝিতে পারিলাম না) কেবল অনুভবে স্থির 
করিলাম যে, যুবারা! ঠকিক1! গেল। ঠকিবার কথা, যুব! দশ 
বারটি, কিন্তু যুবতীরা প্রায় চল্লিশজন, সেই চল্লিশজনে হাসিলে 
হাইলগ্ডের পল্টন ঠকে। 

হাস্য উপহান্ত শেষ হইলে, নৃত্যের উদ্যোগ আন্ত উল 
যুবতী সকলে হাত ধরাঁধরি করিয়া অর্ধিচন্ত্রাককৃতি রেখা বিহ্যাস 
করিয়া! ঈাড়াইল। দেখিতে বড় চমৎকার হইল। সকলগুলিই সম 
উচ্চ,সকলগুলিই পাথুরে কাল; সকলেরই অনাবৃত দেহ; সকলের 
সেই অনাবৃত বক্ষে আরসির ধুকৃধুকি চন্দ্রকিরণে এক এক- 
বার জলিয়া উঠিতেছে। আবার সকলের মাথায় বনপুষ্প, 
কর্ণে বনপুর্প, ওষ্ঠে হাসি। সকলেই আহ্লাদে পরিপূর্ণ, 
আহ্লাদে চঞ্চল, যেন তেজঃপুঞ্ধ আশ্ের স্তায় সকলেই দেেহবেগ 
সংঘম করিতেছে । 

সম্মুখে যুবারা ঈাড়াইয়া, যুবাদের পশ্চাতে মুণ্মযমঞ্চোপরি 
বুদ্ধেরা এবং তৎসঙ্গষে এই নরাধম। বুদ্ধেরা ইঙ্গিত করিলে 
যুবাদের দলে মাদল বাঁজিল, অমনি যুবতীদের দেহ যেন 
শিহরিয়া উঠিল । যদ্দি দেহের কোলাহল থাকে তবে যুবতীদের 
দেহে কোলাহল পড়িয়া গেল, পরেই তাহারা নৃত্য আরম্ভ 
করিল। তাহাদের নৃত্য আমাদের চক্ষে নৃতন; তাহারা 
তালে তালে পা ফেলিতেছে, অথচ কেহ চলেনা; দোলে না, 
টলে না। যে যেণানে দীড়াইয়াছিল, সে সেইখানেই দাড়াইয়| 
তালে তালে পা ফেলিতে লাগিল, তাহাদের মাথার ফুলগুলি 
নাচিতে লাগিল, বুকের ধুকৃধুকি ছুলিতে লাগিল। 

নৃত্য আরম্ত হইলে পর একজন বৃদ্ধ মঞ্চ হইতে কম্পিত 


[ ১২* 





কণ্ঠে একটি গীতের “মহড়া” আরম্ভ করিন্তু, অমনি যুবারর্ 
সেই হ্ীত উচ্চৈঃস্বরে গাইয়! উঠিল, সঙ্গে সঙ্গে যুবতীর! তীত্র 
তানে “ধধুয়া”, ধরিল। যুবতীদের সুরের ঢেউ নিকটের 
প]হাড়ে গিয়া লাগিতে লাগিল। আমার খন স্পষ্ট বোধ 
হইতে লাগিল যেন সুর কখন পাঁহাঁড়ের মূল পধ্যস্ত, কখন বা 
পাহাড়ের বক্ষ পর্যন্ত গিয়া ঠেকিতেছে। তাল পাহাড়ে ঠেকা, 
অনেকের নিকট রহস্তের কথ! কিন্ত মামার নিকট তাহা নহে, 
আমার লেখ! পড়িতে গেলে এরূপ প্রলাপ বাক্য মধ্যে মধ্যে 
সহ্য করিতে হইবে । 

যুবতী তালে তালে নাঁচিতেছে, তাহাদের মাথার বনফুল 
সেই সঙ্গে উঠিতেছে নামিতেছে, আবার সেই ফুলের দুটী একটা 
ঝরিয়া তাহাদের স্কন্ধে পড়িতেছে । শীতকাল নিকটে দুই তিন 
স্থানে হুহু করিয়া অগ্নি জলিতেছে, অগ্নির আলোকে নর্তকীদের 
বর্ণ আরও কাল দেখাইতেছে 3 তাহারা তালে তালে নাচিতেছে, 
নাচিতে নাঁচিতে ফুলের পাপড়ির সভায় সকলে এক বার 
*চিতিয়া” পড়িতেছে ; আকাশ হইতে চন্দ্র তাহ! দেখিষ। 
হাসিতেছে, আর বটমুলের অন্ধকারে বসিক্না আমি হাসিতেছি। 

নৃত্যের শেষ পর্য্যন্ত থাকিতে পারিলাম না; বড় শীতঃ 
অধিকক্ষণ থাকা গেল ন1। 


] ১২১] 





পঞ্চম প্রবন্ধ । 


কোলের নৃত্যসম্বন্ধে যতকিঞ্চিৎ বলা হইয়াছে, এবার 
তাহাদের বিবাছের পরিচয় দিতে ইচ্ছা হইতেছে । কোলের 
অনেক শাখা আছে। আমার স্মরণ নাই, বোধ হয় যেন 
উরবাঙ, মুণ্ডা, খেরওয়াঁর এবং দোঁসাঁদ এই চারি জাতি তাহার 
মধ্যে প্রধান। ইহার এক জাতির বিবাহে আমি বরধাত্ৰী 
হইয়া কতক দূর গিয়াছিলাম। বরকর্তা আমার পালকি লইয়া 
গেল, কিস্তুতআমায় নিমন্ত্রণ করিল ন1; ভাবিলাম না করুক, 
আমি রবাহৃত যাইব। সেই অভিপ্রায়ে অপরাহে পথে 
দাঁড়াইয়া থাঁকিলাম। কিছুক্ষণ পরে দেখি পালকিতে বর 
আসিতেছে । সঙ্গে দশ বার জন পুরুষ আর পাঁচ ছয় জন 
যুবতী, যুবতীরাঁও বরযাত্রী। পুরুষেরা আমায় কেহই ডাকিল 
না, স্ত্রীলোকের চক্ষুলজ্জা আছে, তাহারা হাসিয়া আমার 
ডাঁকিল, আমিও হাসিয়। তাহাদের সঙ্গে চলিলাম, কিন্তু অধিক 
দূর যাইতে পারিলাম না, তাহার! যেরূপ বুক ফুলাইয়, মুখ 
তুলিয়া, বায়ু ঠেলিয়া মহাদস্তে চলিতেছিল, আমি দুর্বল বাঙ্গালী 
আমার সে দত্ত, সে শক্তি কোথায়? ন্ুতরাঁং কতকদুর গিয়া 
পিছাইলাম ; তাহার! তাহা লক্ষ্য করিল ন1) হয় ত দেখিয়াও 
দেখিল না; আমি বাঁচিলাম। তখন পথপ্রান্তে এক প্রন্তরত্ত,পে 
বসিয়া ঘর্ম মুছিতে লাগিলাঁম, আর রাগভরে পাতুরে মেয়েগুলাকে 
গালি দিতে লাগিলাঁম। তাহাদিগকে সেপাই বলিলাম;সিদ্ধেশ্বরীর 

১১ 


| ১২২ ] 
পাল বলিলাম, আর কত কি বলিলাম। আর একবার বহু পুর্বে 
এইব্প'গালি দিয়াছিলাম ; একদিন বেলা দুই প্রহবরের সময় 
টিটাগড়ের বাগানে “লসিংটন লজ* হইতে গজেন্ত্রগমনে আমি 
আসতেছিলাম--তথন রেলওয়ে ছিল না সুতরাং এখনকার মত 
বেগে পথ চল! বাঙ্গালীর মধ্যে ধড় ফেসন হয় নাই--আঁসিতে 
আসতে পশ্চাতে একটা অল্প টক টক শব্ধ শুনিতে পাইলাম । 
ফিরিয়! দেখি গবর্ণৰ জেনেরল ঝাউন্সলের অমুক মেম্বঃরের কুল 
কন্া। এক? আসিতেছেন । আমি তখন বাঁলকঃ ষোঁড়শ বৎসরের 





অধিক আমার বয়স নহে, স্থতরাং বসের মত স্থির কবিলাম 
্রীলোকের নিকট পিছাইয়। পড়া হইবে না, অতএব যথাসাধ্য 
চলিতে লাগিলাম । হয় ত সবতীও তাহা বুঝধিলেন। আর 
একটু অধিক বয়স হইলে এদিকে তাহ।র মন যাইত নাঁ। তিনি 
নিজে অন্পবন্স্কা; আমার অপেক্ষা কিঞ্চিৎমাত্র বয়োছ্যেষা, স্বতরাঃ 
এই উপলক্ষে বাইচ খেলার আমোদ তাহার মনে আসা সম্ব | 
সেই জন্ত একটু যেন তিনি জোরে বাহিতে লাগিলেন । দেখিতে 
দেখিতে পশ্চিমে মেঘের মত আমাকে ছাড়াইয়। গেলেন, যেন 
সেই সঙ্গে একটু ““ছুয়ো” দিয়া গেলেন,--অবশ্য তাহা মনে মনে, 
তাহার ওগ্প্রান্তে একটু হাসি ছিল তাহাই বলিতেছি। আমি 
লজ্জিত হইয়া! নিকটস্থ বটমূলে বসিয়া ছুন্দরীদের উপর রাগ 
করিয়া নানা কথ। বলিতে লাগিলাম। যাহারা এত জোরে পথ 
চলে তাহার! আবার কোমলাঙ্গী? খোসামুদেরা বলে তাহ 
দের অলকদাম সরাইবাঁর নিমিক্ত বাধু ধীরে ধারে বহে )- কলা 
গাছে ঝড়, আবু সীমুল গাছে সমীরণ ? 

* সে সকল রাগের কথা এখন যাঁক, যে হারে দেই রাগে। 


[. ১২০] 


পাপা সীল 


্ পপ সা 





০০ 


কোলের কথা হইতেছিল। তাহাঁদের সকল জাতির মধ্যে এক- 
রূপ বিবাহ নহে । এক জাতি কোল আছে, তাহারা, উরাও 
কি, কি তাহ! স্মরণ নাই, তাহাদের বিবাহ প্রথা অতি পুরাতন । 
তাহাদের প্রত্যেক গ্রামের প্রান্তে একখানি করিয়া! বড় ঘর 
থাকে । সেই ঘরে সন্ধ্যার পর একে একে গ্রামের সমুদায 
কুমারীরা আমিষ! উপস্থিত হয়, সেই ঘর তাহাদের ভিপো। 
বিবাহযোগ্যা হইলে আর তাঁহার! পিতৃগৃহে রাত্রি বাপন 
করিতে পায় না। সকলে উপস্থিত হইয়া শয়ন করিলে গ্রামের 
অবিবাহিত যুবাঁর! ক্রমে ক্রমে সকলে সেই ঘরের নিকটে 
আসিরা রসিকতা আরস্ত করে; কেহ গীত গাঁয়, কেহ নৃত্য 
করে, কেছ বা রহস্ত করে। যেকুমারীর বিবাহের সমর হয় 
নাই, সে অবাধে নিদ্রা যাঁয়। কিন্তু যাহাঁদেব সময় উপস্থিত 
তাহার! বপন্তকালের পক্ষিণীর স্তাঁয় অনিমেবলোঁচনে সেই নৃত্য 
নথিতে থাকে, একাগ্রচিন্তে সেই গত শুনিতে থাকে । হয তত 
খাকিতে ন। পারিয়া শেষ ঠাট্টার,.উত্তর দেয়, কেহ বা গালি 
সধ্যন্তও দেয় । গালি আর ঠাট্টা উভয়ে প্রভেদ অল্প, বিশেদ 
নৃতীর মুখবিনির্গত হইলে যুবার কর্ণে ১উভয়ই স্ুধাবর্ষণ। 
*মারীরা গালি আরস্ত করিলে কুমারের! আনন্দে মাঁতিয়া উঠে। 
এইন্ধপে প্রতিরাত্রে কুমার কুমাঁরীর বাকৃচীতুরী হইতে 
থাকে, শেষে তাহাদের মধ্যে প্রণয় উপস্থিত হয়। প্রণয় কথাটা 
ঠিক লহে। কোলের! প্রেম প্রীতের বড় সম্বন্ধ রাখে না। | 
মনোনীত কথাটি ঠিক । নৃত্য, হাঁন্ত উপহ'স্তের পর পরস্পর 
মনোনীত হইলে, সঙ্গী, সঙ্গিনীরা তাহ! কাণাকাঁণি করিতে 
'॥কে। ক্রষে গ্রামে রাষ্ট্র হুইয়! পড়ে। রাষ্্র কথ। শুনিয়। » 


[ ১২৪] 


উভয় পক্ষের পিতৃকুল সাবধান হইত্তে থাকে ।" সাবধানতা রি 
বিষয়ে নহে। কুমারীর আত্মীয় বন্ধুরা বড় বড় বাঁশ কাটে, 
তীর ধনুক সংগ্রহ করে; অস্্রশস্ত্রে সান দেয়। আর অন- 
বরত কুমারের আত্মীয় বন্ধুকে গালি দিতে থাকে । চীৎকার 
আর আস্ফাঁলনের সীমা থাকে না। আবার এদিকে উভয় পক্ষে 
গোপনে গোঁপনে বিবাহের আয়োজনও আরম্ভ করে। 

শেব একদিন অপরাহে কুমারী হাসি হাসি মুখে বেশ 
বিস্তাস করিতে বসে। সকলে বুঝিয়া চারি পার্খে দাড়ায়, 
হয় ত ছোট ভগিনী বন হইতে নূতন ফুল আনিয়া মাথায় 
পরাইয়! দেয়, বেশ বিস্তাঁস হইলে কুমারী উঠিয়া গাঁগরি লইয়! 
এক] জল আনিতে যায়। অন্য দিনের মত নহে. এ 'দনে ধীরে 
ধীরে ঘাঁয়, তবু মাথায় গাগরি টলে। বনের ধারে জল, যেন 
কতই দূব! কুমারী যাঁইতেছে আর অনিমেষলোচনে বনের 
দিকে চাহিতেছে। চাঁহিতে চাহিতে বনের দুই একটা ডাল 
ছুলিয়! উঠিল, তাহার পর এক নবধুবা, সথা স্থুবলের মত 
লাঁকাইতে লাফাঁইতে সেই বন হইতে বহির্গত হইল, সঙ্গে সঙ্গে 
হয় ত ছুটা চারিটা ভ্রমরও ছুটিয়]া আসিল। কোল-কুমারীর 
দাঁখা হইতে গাগরি পড়িয়া গেল। কুমারীকে বুকে করি! যুব 
অমনি ছুটিল। কুমারী স্থতরাঁং এ অবস্থায় চীৎকার করিতে 
বাধ্য, চীৎকাঁরও সে করিতে লাগিল। হাত পাও আছড়াইল। 
এবং চল্ডুটা চাঁপড়ট1ও যুবাকে মারিল ; নতুবা! ভাল দেখায় না! 
কুমারীর চীতৎকারে তাহার আত্মীয়েরা “মার মার” রবে 
আলিয়া পড়িল। যুবার আত্মীয়েরাও নিকটে এখানে সেখানে 
লুকাইয়া ছিল, তাঁহারা বাহির হইদ্বা গথরোধ করিল শে 


*[ ১২৫ ] 





যুদ্ধ আরস্ত হইল। যুদ্ধ ঞ্চক্সিণী হরণের যাত্রার মত, দকলের 
তীর আকাশ মুখী। কিন্তু শুনিয়াছি ছই একবার ন[ুকি সতা 
সত্যই মাণ! ফাটাফাঁটিও হইয়া গিয়াছে । যাহাই হউক,শেষ 
বুদ্ধের পর আপোষ হইয়া যায় এবং তৎক্ষণাৎ উভয় পক্ষ একত্র 
আগার করিতে বসে। 

এইরূপ কন্তা হরণ করাই তাহাদের নিবাহ। আর স্বতঙ্ 
কোঁন মন্ত্র তত্ত্ব নাই। আমাদের শাস্ত্রে এই বিবাহকে আস্ু- 
নিক বিবাঁহ বলে। এক সময় পৃথিনীর সর্বত্র এই বিবাহ প্রচলিন 
ছিল। আমাদের দেশে স্ত্রী আচারের সময়ে বরের পৃষ্ঠে বাঁউট- 
[লট্িত নান! গজনের করকমল যে সংস্পর্শ হয়। তাহাঁও এই 
সাঁরপট প্রথার অবশেষ। চিন্দুস্তান অঞ্চলে বরকন্তাঁর মালি 
পিসি একক্র টিয়া নাঁনা ভঙ্গীতে, নানা ছন্দে, মেছুয়াবাঁজাবেব 
ভাবায় পরস্পরকে বে গালি দিনার রীতি আছে তাহাঁও এই 
মারপিট শ্রথার নূতন সংস্কার । ইংরেজদের বরকন্তা গিজ্ঞা 
হইতে গাড়ীতে উঠিবার সময় পুষ্পনুষ্টির স্তায় তাহাদের আক্ত 
নে জুতানৃষ্টি হয় তাহা ও এই পূর্ব প্রথার অন্তর্গত। * 

কোঁলদের উৎসব সব্ধাপেক্ষা বিবাহে |, তছুপলক্ষে ব্যয় ৪ 
নিষ্তর। আট টাঁকা, দশ টাঁক1, কখন কখন পনর টাঁকা। পর্যাস্ত 
বায় হয়। বাঙ্গালীর পক্ষে ইহ! অতি সামান্ত কিন্তু বন্তের পক্ষে 
অতিরিক্ত । এত টাঁকা তাহারা কোথা! পাইবে? তাহাদের 
এক পরল সঞ্চয় নাই, কোন উপাঁঞ্জনও নাই, সুতরাং ব্যহ্ধ 
নির্বাহ করিবার নিমিত্ত কর্জ করিতে হয়। ছুই চাঁরি গ্রাম 


০০০০ শপ | শান শিপ কা 





** যে আস্মরিক বিবাহের পরিচয় দিলাম তাহা। [02205 নহে । কেন 
না ইহ! হ্বজাতি বিবাহ। 


| ১২৬] 





অন্থর একজন করিয়া হিন্দন্তানী মহাজন বাস করে, তাহারপহি 
কজ্জ দেয়। এই হিন্দৃস্কানীরা মহাজন কি মহাপিশাচ সে বিষয়ে 
আমার বিশ্ষে সন্দেহ আছে। তাহাদের নিকট একবার কর্জ 
করিলে আর উদ্দার নাই। যে একবার পাঁচ টাকা মাত্র কঙ্জ 
করিল সে সেই দিন হইতে আপন গৃহে আর কিছুই লইয়া 
যাইতে পাইবে না, যাঁছ। উপাত্জন করিবে তাহা মহাঁজনকে 
আনিয়া দিতে হইবে । খাঁদকের ভূমিতে ছুই মণ কার্পাসপ ফি 
চারি মণ যন জন্িয়াছে ; মহাজনের গৃহে তাহা আনীত হইবে) 
তিনি তাঁভা ওজন করিবেন, পরীক্ষা করিবেন,কত কি করিবেন, 
শেষ হিসাব করিয়া! বলিবেন যে আশল পা টাকার মধ্যে এই 
কার্পীসে কেবল এক টাকা শোধ গেল, আর চাঁরি টা বাকি 
থাঁকিল। খাদক যে আজ্ঞা বলিয়া চলির! যাঁর । কিন্তু তাঙ্গার 
পরিবার খার কি? চাষে যাহ! জন্মিয়াছিল মহাজন তাহ! 
সমুদয় লইল। খাঁদক ঠিসাব জানে ন', এক হইতে দশ গণনা 
করিতে পারে না, সকলেব উপব তাহার সম্পূর্ণ বিশ্বান! 
মহাজন যে অন্যায় করিবে ইহা তাহার বুদ্ধিতে আইসে না। 
স্বতরাং মহাজনের জালে বদ্ধ হইল। তাহার পর পরিবার 
আহার পাঁয় না, আবার মহাজনের নিকট খোঁরাঁকী কর্জ কর! 
আবশ্তক, সুতরাঁং খাদক জন্মের মত মহাজনের নিকট বিক্রীত 
হইল। যাঁহ! সে উপার্জন করিবে তাহা মহাজনের | মহাজন 
তাহাকে কেবল যৎসামান্ত খোঁরাকি দিবে । এই তাহার এ 
জন্মের বন্দোবস্ত | 

কেহ কেহ এই উপলক্ষে “পামকনামা” লিখিয়া দেয়। 
লামকনাম। অর্থাৎ দাসখত। যে ইহ! লিখিয়। দিলে সে রীতিমত 


[০১২৭ ] 

গোঁলাম হইল । মহাজন গোঁলামকে কেবল আহার, দেন, 
গোলাম বিনা বেতনে তাহার সমুদর কর্ম করে; চাঁষ কর, 
মোট বহে, সর্ধত্র সঙ্গে যায়। আঁপনাঁর সংসারের সঙ্গে আর. 
তাহার কোন সম্বন্ধ থাকে না। সংসারও তাহাদের অন্নাভাঁৰে 
শীপ্বই লোপ পায়। 

কোঁলদের এই দুর্দশা অতি সাঁধারণ। তাহাদের কেবল এক 
উপায় আছে--প্লায়ন । অনেকেই পলাইয়া বক্ষা পায় । থে 
ন। পলাইল সে জন্মের মত মহাজনের নিকট নি-ক্লীত থাঁকিল। 

পুজ্রের বিলাহ দিতে গিয়া দে ক্কেবল কোলের 8 
বুগা হর এমত নহে, আমাদের বাঙ্গালী মধ্যে অনেকের ছুদ্দশ 
পুজের বিবার উপলক্ষে অপবা1 পিহ মাত শ্রান্ধ টি 
সকলেই মনে মনে জানেন গামি বড় লৌক, আমি “ধুমধাম” 
না করিলে লোকে আমার নিন্দা করিবে । স্তরাং কঙ্জ 
কন্সিয়া সেই বড়লোকত রক্ষা করেন, তাঁহার পর যথাসবদ্ৰ 
বিক্রয় করিয়া সে কর্জ হইতে উদ্জার হওয়া! ভার হম । প্রা 
দেখা যায় “আমি ধনবাঁন্‌” বলির! প্রথমে অভিমান জন্মিলে 
শেষ দারিব্র্যদশায় জীবন শেষ করিতে হয়। 

কোলেরা সকলেই বিবাহ করে। বাঙ্গালা শশ্তশালিনী, 
এথানে অল্পেই গুজরাঁন চলে, তাহাই বাঙ্গালায় বিবাহ এত 
সাঁধারণ। কিন্ত পালামৌ অঞ্চলে সম্পূর্ণ অন্নাভাব, সেখানে 
বিবাহ একপ সাধারণ কেন, তদ্দিষয়ে সমাঁজতত্ববিদেরা কি 
বলেন জানি না । কিন্তু বোধ হয় হিন্দস্তানী মহাজনের তথায় 
বাঁস করিবার পূর্বে কোৌলদের এত অন্নাভাঁব ছিল না। তাহাই 
বিবাহ লাধারণ হইয়াছিল। এক্ষণে মহাঁজনেরা তাহাদের 


[| ১২৮ ] 





সর্ধবন্ব লয়। তাহাদের অশ্লাভাব হইয়াছে, স্থতরাং বিবাহ 
গুর্বমত সাধারণ থাকিবে না! বলিয়া বোঁধ হয়। 

শখুকালের সমাজ এক্ষণে যে অবস্তায় আছে দেখা যায়, 
তাহাতে সেখানে মহাজনের আবশ্তক নাই, যদি হিন্দুস্থানী 
'পভ্যতা তথায় প্রবিষ্ট ন! হইত তাহা হইলে অদ্যাপি কোলের 
মধ্যে গণের প্রথা উতৎপন্তি হইত নাঁ। খণের সময় হয় নাই, 
খণ উন্নত সমাজের স্ষ্টি। কোলদিগের মধ্যে সে উন্নতিব 
বিলম্ব আছে। সমাজের ম্বভাবতঃ যে অবস্থা হর নাই, কৃত্রিম 
উপাঁয়ে দে অবস্থা! ঘটাইতে গেলে, অথবা সভ্য দেশের নিরমাণ্দ 
অসময়ে অসভ্য দেশে প্রনেষ্ট ক্বাঁইতে গেলে, ফল ভাল হয় 
না। আসাদের বা্ালাপ এ কথার অনেক গীরচয় পাওয়া 
যাউদতছে। এক সময় ইনি মভাঁজনেরা খণ দানের সম 
নিয়ম অপভ্য বিলানে প্রবেশ করাইয়া অনেক অনিষ্ট ঘটাইয়া- 
ছিল্‌। এক্ষণে হিন্দৃস্থানী মহাজনেরা কোলদের সেইন্গপ অনিষ্ট 
ঘটাইতেছে। 

কোলের নববধূ নামি কখন দেখি নাই । কুমারী এক 
রাত্রের মধ্যে নববধূ! দেখিতে আশ্যধ্য ! বাঙ্গালায় দুরন্ত 
ছু'ড়িরা ধুলাখেল! করি! বেড়াইতেছে, ভাঁইকে পিটাইতেছে, 
পরের গোরুকে গাল দিতেছে, পাড়ার ভালখাকীদের সঙ্গে 
কৌঁদল করিতেছে, বিবাহের কথা উঠিলে ছড়ি গালি দিয়া 
পলাইতেছে। তাহার পরঃ* একক্লাত্রে ভাবান্তর । বিবাতের 
পরদিন প্রাতে আর সে পুর্বমত ছুরন্ত ছু'ড়ি নাই । এক রাত্রে 
তাহার আশ্চর্য্য পরিবর্তন হন! গিকাছে। আমি একটা 
এইবপ নববধূ দেখিক্াছি। তাঁহার পরিচয় দিতে ইচ্ছা হয়। 


[ "১২৯ ] 





বিবাহের রাঁত্র আমোদে গেল। পর দিন প্রাতে 1 
নববধূ ছোট ভাইকে আদর করিল, নিকটে মা ছিলেন..লরকধু 
মার মুখ প্রতি এক বার চাহিল, মার চক্ষে জল আসিল, নবব 
নখাবনত করিল, ঝাদিক না। তাহার পর ধীরে ধীরে টন 
নির্জন স্থানে গিয়া ছারে মাপা রাখিম্না অন্যমনস্কে দীড়াইয়। 
শিশিরসিক  সামিয়ানার প্রতি চাহিয়া রহিল । সামিয়ানা 
হইতে টোঁপে টোপে উঠানে শিশির পড়িতেছে। সামিয়াঁনা 
হইতে উঠানের দিকে আাহাঁর দৃষ্টি গেল, উঠানের এখানে 
সেখানে পুর্ব রাত্রের উচ্ছিষ্টপত্র পড়িয়া রহিয়াছে, রাত্রের কথা 
নববধূর মনে হুইল, কত আলো! কত বাদ্য! কত লোক! 
কত কলরব! যেন স্বপ্ন! এখন সেখানে ভাঙ্গা ভশড়, ছেড়া 
পাতা! নববধূর সেই দিকে দৃষ্টি গেল। একটি দুর্বল! কুকুরী-_. 
নব প্রন্তি--পেটের জালায় শুক্ষপত্রে ভগ্ন পাত্রে আহার 
খুজিতেছে, নববধূর ০ক্ষ জল আদিল । জল মুছিয়া নববধূ 
বীরে ধীরে মাতৃকক্ষে গিয়া! লুচি আনিয়! কুকুরীকে দিল । এই 
সময় নববধূর পিতা অন্দরে আসি.১ছিলেন, কুক্কুণীভোজন 
দেখিয়া একটু হাসিলেন, নববধূ আর পূর্বমত দৌড়িয়া 
পিতার কাছে গেল না, অধোমুখে দাঁড়াইয়। রহিল। পিতা 
বলিলেন ব্রাঙ্গণভোজনের পর কুক্ধার ভোঁজনই হইয়া থাকে, 
রাত্রে তাহা হইয়া! গিয়শছে অন্য আবার এ কেন মা? নববধূ 
কথা কহিল না! কহিলে হয় ত বপিত এই কুককুরী সংসারী । 

পর্ববে বলিয়াছি নববধূ লুচি আনিতে যাইবার সময় ধীরে 
ধীরে গিয়াছিল, আর ছুই দিন পুর্ব্বে হইলে দৌড়িয়া যাইত। 
বখন সেই ঘরে গেল তখন দেখিল মাতার সম্মুখে কতকগুহ্ছি 


বল চা শত 





১ পপ স্পস্ট পাও 


লৃচি সন্দেশ রহিয়াছে । নববধূ জিজ্ঞাসা করিল “মা স্হ 
রে 1” মাতা লুচিগুলি হাতে তুলিয়া! দিয় বলিলেন “কেন ম! 
| টি চাহিয়া নিলে? যাহা! তোমার ইচ্ছা তুমি আপনি লগ্ড, 
&ড়াও, ফেলিয়া দাও, নষ্ট কর, কখন কাহাকেও ত জিজ্ঞাস 
করেলও ন!£& আজ কেন ম]| চাহিয়া নিলে? তবে সত্যই 
আজ থেকে কি তুমি পর হ'লে, আমায় পর ভাবিলে ?+ এই 
বলিয়া মা কাঁদিতে লাগিলেন । নববধূ বপিল “না মা! আমি 
বলি ববি কার জন্তে ৫রখেছ %' নববধূ হয় ত মনে করিল 
পুবের আনায় ওই বলিতে, আজ কেন তবে আমায় “তুমি” 
খলিয়া কথ। কহিতেছ ? | 

নববধূর পরিবর্তন সকলের নিকট স্পষ্ট নে সত্য, কিন্ত 
যিনি অনুধাবন করিয়াছেন তিনিই বুঝিতে পারিগাছেন থে 
পরিবর্তন অতি আশ্চর্য । একরাদের পরিবর্তন বলবা আশ্চর্য ' 
ননবধূর মুখ্ত্ী। একরাত্রে এব টু গম্ভীর ভয়, অথচ তাহাতে একটু 
'আহ্লাদের আভাসও থাকে । তদ্বযতীত যেন একটু সাবধান, 
একটু নত্র, একটু নম্কুচিত বলিয়া বোধ হয়। ঠিক যেন শেখ 
রাত্রের পদ্ম । বালিক। কি বুঝিল, যে মনের এই পরদিন 
হঠাৎ এক রাত্রের মধো হইল। 





আীমন্ভগবদশীতা | 
স্বর্গীয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত। 
শিক্ষিত সম্প্রদায়ের বিশেষ অনুরোধে ও আগ্র্দে, 
বহুদিন পরে বঞ্চিম বাবুর গীতা মুক্রিত হইন.।,' 
বঙ্কিম বাবুর প্রতি. ্রদ্ধাসম্পন্ন ধন্মজি্ভ্রান্থ পাঠক-/ 
বর্গের স্থবিধার জন্য মুল্য ২২ টাকা মাত্র ধার্য 
করা গেল। এই পুস্তক বঙ্কিম বাবুর অন্যান্য 
পুস্তকের ন্যায় সকল দোকানেই পাওয়! বায় । 
জ্রীউমাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় । 
৫ নং গ্রতাপচন্্র চাটুর্যের লেন, কলিকাতা । 


বঙ্কিম বাবুর পুস্তকের বিজ্ঞাপন । 


বিশেষ নিয়ম । 
কোন বিক্রেত। এক ব্মর মধ্যে এক- 

হাজার টাকার বহি বিক্রয় করিলে» তাহাকে 
২৫২ টাঁক। হিসাবে কমিশন দেওয়া যায়। 
অর্থাৎ ৭৫০২ টাঁক1 রাখিয়া, ২৫০২ টাকা! 
তাহাকে দেওয়া যায় । ১লা জানুয়ারি হইতে 
১ল! জানুম্বারি বা ১ল। বৈশাখ হইতে 
১লা বৈশাখ হিনাব হয়। 

শ্লাউমাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় । 

« নং গ্রতাপচন্ত্র চাটুষ্যের লেন, কলিকাতা । 





[২ ] 
পত্তন শ্লি জ্ঞাভিল মি 1৫. 


রনুর্শেশনন্দিনী রঃ রর ২২ 
কপালকুগুলা রঃ *** ১1০ 
শরৎ ৪৭ রান ৬৮০ 
বিষবৃক্ষ *" রি (০ 
চন্দ্রশেখর চি রা 
রজনী ' 2 
কৃষ্ণকান্তের উইল ** ** ১০ 
বাজসিংহ টি রঃ হা 
আনন্দমঠ * ১ ১॥০ 
দেবী চৌধুরাণী . ২২ 
সীতারাম রঃ দু ২২ 
ইন্দির! -* ** ১॥০ 
যুগলাঙ্গুরীয় -* -* ০ 
রাধারাণী ৮ 1৮০ 
যুগলাঙ্গুরীয় ইংরাজি অনুবাদ ভাল কাগজে 

উত্তম ছাপা ৮, রর ॥০ 

কমলাকান্তের দপ্তর "*" -** ১০ 


শ্রীমন্ভগবদগীত। ৮ রী ২ 


কৃষ্ণচরিত্র এ *** ৩৭ 
ধণ্মতত্ত টি *** চে 
লোক রহন্ত টন | 
গদাযপদ্য ৃ 5৮০ ৯০৯ ৮৮ 
বিবিধ প্রবন্ধ প্রথম ভাগ *** ১0০ 
বিবিধ প্রবন্ধ দ্বিতীয় ভাগ রঃ ২. 
সঞ্জীবনী সুধা *** ** 8০ 


সহজ ইংরাজি শিক্ষা-সামান্য বাঙ্গাল লেখ 
পড়া জানিলেই ইহ! হইতে বিন সাহায্যে 
ইংরাজি শেখা যায় *** ৩৪ 
লহজ রচনা শিক্ষা__ইহা টেকৃষ্টবুক কমিটি 
হইতে যথারীতি পান হইয়াছে । বাঁলক- 
দিগের রচনা শিক্ষা! বিষয়ে বিশেষ উপকারে 
আসিবে ॥। মুল্য *** 5/৭ 
সংশ্রহ-মঞ্জরী- বঙ্কিমবাবুর পুস্তকাঁবলী হইতে 
হইতে সন্কলিত--ইহা টেকৃষ্টবুক-কমিটি 
স্কুলপাঠ্য বলিয়া নির্বাচিত হুইয়াছে। 
মূল্য ++ ॥০ 


|] ৪ ] 
নিমলিখিত স্থানে এ সকল গ্রস্থ 
শন. পাওয়া যায়। 


নিন গুরুদান চট্টোপাধ্যান 
২০১, কর্ণ ওয়ালিস প্রীট । 
মেঃ এ, কে, রায় ৫৭1১ কলেজ গ্রীট। 
মেঃ বি, বাড়ূধ্যে কোম্পানি 
২৫) কর্ণওয়ালিন গ্রীট। 
এবং অন্যান্য সকল দোকানে পাওয়া যায়। 
প্রকাশক 
ভ্ীউমাঁচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় । 
৫ নং প্রতাপচন্ত্র চাটুর্যের লেন, কলিকাত::